ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেপ্টেম্বরে পুরোনো স্কেলেই বেতন, ৩ মাসের বকেয়া নিয়ে যা জানা গেল

সাংবাদিক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। শিগগিরই আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে নিজেদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

তবে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ীই সাবমিট করতে হবে। নতুন স্কেলে পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত তথ্য দিতে হবে। গেজেটেড কর্মকর্তারা নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীরা এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে এনআইডির জন্মতারিখের অমিল থাকলে পে ফিক্সেশনের আগে তা সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ডিডিওর কাছে সাবমিট করার আগেই সিস্টেমে নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন দেখা যাবে। সাবমিশন শেষে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস যাবে এবং তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিডিওর কাছে পৌঁছাবে।

ডিডিও যাচাই শেষে বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করলে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। ফলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বহিতে নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ীই দিতে হবে। পে ফিক্সেশন, ডিডিওর যাচাই ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বেতন পার্থক্য বকেয়া হিসেবে হিসাব করে সমন্বয় করা হবে।

এ ছাড়া পে ফিক্সেশনে কোনো কর্মচারীকে কম বা বেশি বেতন দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে তা সমন্বয়যোগ্য হবে। অনলাইন পে ফিক্সেশনের বিস্তারিত নির্দেশিকা আইবাস প্লাস প্লাস লগইন পেজ, অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) এবং পে ফিক্সেশন.গভ.বিডিতে পাওয়া যাবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৩ Time View

সেপ্টেম্বরে পুরোনো স্কেলেই বেতন, ৩ মাসের বকেয়া নিয়ে যা জানা গেল

আপডেটের সময় : ০৭:০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। শিগগিরই আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে নিজেদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

তবে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ীই সাবমিট করতে হবে। নতুন স্কেলে পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত তথ্য দিতে হবে। গেজেটেড কর্মকর্তারা নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীরা এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে এনআইডির জন্মতারিখের অমিল থাকলে পে ফিক্সেশনের আগে তা সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ডিডিওর কাছে সাবমিট করার আগেই সিস্টেমে নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন দেখা যাবে। সাবমিশন শেষে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস যাবে এবং তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিডিওর কাছে পৌঁছাবে।

ডিডিও যাচাই শেষে বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করলে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। ফলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বহিতে নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ীই দিতে হবে। পে ফিক্সেশন, ডিডিওর যাচাই ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বেতন পার্থক্য বকেয়া হিসেবে হিসাব করে সমন্বয় করা হবে।

এ ছাড়া পে ফিক্সেশনে কোনো কর্মচারীকে কম বা বেশি বেতন দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে তা সমন্বয়যোগ্য হবে। অনলাইন পে ফিক্সেশনের বিস্তারিত নির্দেশিকা আইবাস প্লাস প্লাস লগইন পেজ, অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) এবং পে ফিক্সেশন.গভ.বিডিতে পাওয়া যাবে।