ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি মাসে ৬০,৩০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

সাংবাদিক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়াসহ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থ সংস্থানে অক্টোবরে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অবশ্য এই ঋণের বড় অংশই পুরোনো ঋণ সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব ঋণের বড় একটি অংশ আগের ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। এ ছাড়া দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে খরচ করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানির খরচও অনেক বেড়েছে। অবশ্য আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিতেও তেমন সাড়া মিলছে না। এসব কারণে অনেক ব্যাংকের হাতে এখন প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য পড়ে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতে অনেক উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় সুদহার বাড়বে না বলে তাঁর ধারণা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বন্ডের নিলামে সরকার পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ সুদে তিন বছর মেয়াদি ঋণ ছিল ৮০০ কোটি টাকা। আর দুই বছর মেয়াদে পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ সুদে। গত রোববার বিভিন্ন ধরনের বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ৯১ দিন মেয়াদি বিলে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ সুদে নিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে তিন হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ সুদে। এ ছাড়া ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে দুই হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ সুদে।

সাধারণভাবে প্রতি রোববার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম হয়ে থাকে। আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে আগের দিন সোমবার নিলাম করে চার হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে আরও ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে সরকার বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে নেবে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর আগে নিলামের বিপরীতে গত জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরের নিলামে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয় সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে তিন হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়। এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে হয়েছে ছয় লাখ আট হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:১০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
৫০২ Time View

চলতি মাসে ৬০,৩০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

আপডেটের সময় : ০১:১০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়াসহ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থ সংস্থানে অক্টোবরে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অবশ্য এই ঋণের বড় অংশই পুরোনো ঋণ সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব ঋণের বড় একটি অংশ আগের ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। এ ছাড়া দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে খরচ করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানির খরচও অনেক বেড়েছে। অবশ্য আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিতেও তেমন সাড়া মিলছে না। এসব কারণে অনেক ব্যাংকের হাতে এখন প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য পড়ে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতে অনেক উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় সুদহার বাড়বে না বলে তাঁর ধারণা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বন্ডের নিলামে সরকার পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ সুদে তিন বছর মেয়াদি ঋণ ছিল ৮০০ কোটি টাকা। আর দুই বছর মেয়াদে পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ সুদে। গত রোববার বিভিন্ন ধরনের বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ৯১ দিন মেয়াদি বিলে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ সুদে নিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে তিন হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ সুদে। এ ছাড়া ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে দুই হাজার কোটি টাকা নিয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ সুদে।

সাধারণভাবে প্রতি রোববার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম হয়ে থাকে। আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে আগের দিন সোমবার নিলাম করে চার হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে আরও ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে সরকার বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে নেবে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর আগে নিলামের বিপরীতে গত জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরের নিলামে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয় সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে তিন হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়। এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে হয়েছে ছয় লাখ আট হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।