ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কুমিল্লার পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস চীনের দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস, দ্বিতীয় বিআরটিএ যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত: ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন এর জীবিকা চাঁদপুর প্রকল্পের ৫ম পর্যায়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ এসিল্যান্ডসহ কোনো কর্মীর ‘দেখা পাননি’ সচিব, ৮ জনকে শোকজ হিউম্যান রাইটস এলাইভ বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর

সাংবাদিক

মোঃ মাহবুবুর রহমান

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,

জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা আমীরবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০০৯ সালে একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে ফ্যাসিবাদী শক্তি আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরই তারা আইন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে ভুলুণ্ঠিত করে একদলীয় দুঃশাসনের পথে হাঁটতে শুরু করে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে গুম, খুনের রাজত্ব কায়েম করে গোটা বাংলাদেশকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করা হয়। তাদের জুলুম-নির্যাতনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী মতের শত শত কর্মী নিহত হন। আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। গুম হওয়া অনেকের খবর এখনো জানা যায়নি—তারা জীবিত না মৃত, সেটিও অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে তিনটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার দিবাস্বপ্নে বিভোর ছিল। আওয়ামী লীগ ব্যতীত প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মামলা-হামলায় পর্যুদস্ত ছিল। তাদের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ২০১৮ সালে ছাত্রদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পরে ২০২৪ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পুনরায় কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার পথ বেছে নেয় সরকার।

মমিনুল হক সরকার বলেন, কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে এবং নির্মম পন্থা অবলম্বন করে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির গুলিতে আহত-নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ১৪শ মানুষ শাহাদাতবরণ করেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন।

তিনি আরও বলেন, সব জুলুম-নির্যাতন ও শহীদদের রক্তকে উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও তার পরিষদবর্গ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয় এবং জাতি দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভ করে।

জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে—

০৪ জুলাই: ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সমর্থন প্রদান ও অংশগ্রহণ।

০৫-২০ জুলাই: থানা ও ইউনিয়নের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর আলোচনা সভা।

১৩ জুলাই: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনার।

২৩-২৫ জুলাই: উপজেলা ও থানা ভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী।

২৯ জুলাই: জেলার উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা।

০১ আগস্ট: উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল।

০২-০৪ আগস্ট: শ্রমিকদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালন।

০৫ আগস্ট: ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
৫০৬ Time View

জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর

আপডেটের সময় : ০৭:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মোঃ মাহবুবুর রহমান

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,

জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা আমীরবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০০৯ সালে একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে ফ্যাসিবাদী শক্তি আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরই তারা আইন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে ভুলুণ্ঠিত করে একদলীয় দুঃশাসনের পথে হাঁটতে শুরু করে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে গুম, খুনের রাজত্ব কায়েম করে গোটা বাংলাদেশকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করা হয়। তাদের জুলুম-নির্যাতনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী মতের শত শত কর্মী নিহত হন। আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। গুম হওয়া অনেকের খবর এখনো জানা যায়নি—তারা জীবিত না মৃত, সেটিও অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে তিনটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার দিবাস্বপ্নে বিভোর ছিল। আওয়ামী লীগ ব্যতীত প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মামলা-হামলায় পর্যুদস্ত ছিল। তাদের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ২০১৮ সালে ছাত্রদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পরে ২০২৪ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পুনরায় কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার পথ বেছে নেয় সরকার।

মমিনুল হক সরকার বলেন, কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে এবং নির্মম পন্থা অবলম্বন করে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির গুলিতে আহত-নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ১৪শ মানুষ শাহাদাতবরণ করেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন।

তিনি আরও বলেন, সব জুলুম-নির্যাতন ও শহীদদের রক্তকে উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও তার পরিষদবর্গ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয় এবং জাতি দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভ করে।

জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে—

০৪ জুলাই: ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সমর্থন প্রদান ও অংশগ্রহণ।

০৫-২০ জুলাই: থানা ও ইউনিয়নের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর আলোচনা সভা।

১৩ জুলাই: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনার।

২৩-২৫ জুলাই: উপজেলা ও থানা ভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী।

২৯ জুলাই: জেলার উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা।

০১ আগস্ট: উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল।

০২-০৪ আগস্ট: শ্রমিকদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালন।

০৫ আগস্ট: ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।