ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৩৮ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে, বাসররাতেই বরের মৃত্যু এশিয়া কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান প্রবাসী ভোটিংয়ে বাংলাদেশ মডেল অনুসরণের কথা ভাবছে নেপাল পেটে গজ রেখে সেলাই, চার মাস পর বীথির মৃত্যু দুই মাসের মধ্যে ১ হাজার খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ থাকতেই সরে দাঁড়ালেন আহমেদ ইসমেত, বিডিবিএলের নতুন চেয়ারম্যান হালিম চৌধুরী মহাখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন বরিশাল কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির হাসপাতালে মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও চীন-ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভাইরাল অডিওর কণ্ঠ সাবেক ওসি রাকিবুলের: ডিবি

দুই মাসের মধ্যে ১ হাজার খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সুজন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর আলোচনা হয়।

উপ-প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমনকি প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন বলেও জানান সুজন মাহমুদ।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
৫০৭ Time View

দুই মাসের মধ্যে ১ হাজার খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটের সময় : ১১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সুজন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর আলোচনা হয়।

উপ-প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমনকি প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন বলেও জানান সুজন মাহমুদ।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।