ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করবেন যেভাবে

আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সুযোগ আবার চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন আগের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করে ভোটাররা নিজেদের ভোটার এলাকা স্থানান্তর করতে পারবেন।

একই সঙ্গে অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

কেন আবার চালু হলো?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম ফের চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। তাই গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ইসি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম আবার চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন আগের নিয়মেই ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কাজ করা হবে।

সরাসরি যেভাবে আবেদন করবেন

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস অথবা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

এরপর নির্ধারিত ফরমে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন জমা দিতে হবে।

আবেদন করার সময় সাধারণভাবে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—

১. সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে যেতে হবে।

২. নির্ধারিত ভোটার এলাকা স্থানান্তরের ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে।

৪. নির্বাচন কার্যালয় আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করবে।

৫. যাচাই শেষে আবেদন অনুমোদন হলে ভোটার এলাকার তথ্য সংশোধন বা আপডেট করা হবে।

অনলাইনেও করা যাবে

সরাসরি আবেদনের পাশাপাশি অনলাইনে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

এ জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজারকে ভোটার স্থানান্তরের অনলাইন লিংক সচল করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তবে অনলাইন সেবা পুরোপুরি চালু হওয়ার পর কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়ে ইসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদন যাচাই করবে নির্বাচন অফিস

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয় আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করবে।

যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটার সংক্রান্ত তথ্যও আপডেট করা হবে।

অর্থাৎ শুধু আবেদন করলেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন হয়ে যাবে না। নির্বাচন কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পরই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

কারা তদারকি করবেন?

ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পুরো কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাই আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে যারা ভোটার এলাকা বদলাতে চান, তারা এখন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদন করতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০০ Time View

নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করবেন যেভাবে

আপডেটের সময় : ০৬:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সুযোগ আবার চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন আগের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করে ভোটাররা নিজেদের ভোটার এলাকা স্থানান্তর করতে পারবেন।

একই সঙ্গে অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

কেন আবার চালু হলো?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম ফের চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। তাই গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ইসি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম আবার চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন আগের নিয়মেই ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কাজ করা হবে।

সরাসরি যেভাবে আবেদন করবেন

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস অথবা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

এরপর নির্ধারিত ফরমে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন জমা দিতে হবে।

আবেদন করার সময় সাধারণভাবে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—

১. সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে যেতে হবে।

২. নির্ধারিত ভোটার এলাকা স্থানান্তরের ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে।

৪. নির্বাচন কার্যালয় আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করবে।

৫. যাচাই শেষে আবেদন অনুমোদন হলে ভোটার এলাকার তথ্য সংশোধন বা আপডেট করা হবে।

অনলাইনেও করা যাবে

সরাসরি আবেদনের পাশাপাশি অনলাইনে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

এ জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজারকে ভোটার স্থানান্তরের অনলাইন লিংক সচল করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তবে অনলাইন সেবা পুরোপুরি চালু হওয়ার পর কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়ে ইসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদন যাচাই করবে নির্বাচন অফিস

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয় আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করবে।

যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটার সংক্রান্ত তথ্যও আপডেট করা হবে।

অর্থাৎ শুধু আবেদন করলেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন হয়ে যাবে না। নির্বাচন কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পরই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

কারা তদারকি করবেন?

ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পুরো কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাই আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে যারা ভোটার এলাকা বদলাতে চান, তারা এখন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদন করতে পারবেন।