ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বিআইএমএএসসি ও প্যান সলিউশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস থামল বাংলাদেশের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১৩ জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরে যাবে সেনাবাহিনী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে বেকায়দায় শিক্ষার্থীরা

সাংবাদিক

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে করে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেকায়দায় পড়েছেন।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ জানান, দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আমরা রোববার থেকে সারাদেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করব। একই সঙ্গে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এর আগে বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে বহু শিক্ষক আহত হন। শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন, শিক্ষকদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে, শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১️. সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান; ২. উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান; ৩️. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থীরা বেকায়দায় পড়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে এই পদক্ষেপে সহকারী শিক্ষকরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন।

সহকারী শিক্ষকদের একাংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা দিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়া ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন তারা।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
৭৯৫ Time View

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে বেকায়দায় শিক্ষার্থীরা

আপডেটের সময় : ০৫:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে করে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেকায়দায় পড়েছেন।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ জানান, দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আমরা রোববার থেকে সারাদেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করব। একই সঙ্গে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এর আগে বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে বহু শিক্ষক আহত হন। শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন, শিক্ষকদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে, শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১️. সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান; ২. উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান; ৩️. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থীরা বেকায়দায় পড়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে এই পদক্ষেপে সহকারী শিক্ষকরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন।

সহকারী শিক্ষকদের একাংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা দিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়া ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন তারা।