ঢাকা , রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসিবিতে জমা পড়ল জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবেদন

সাংবাদিক

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। সেই সময় পেরিয় অবশেষে সোমবার বিসিবিতে জমা পড়ল ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন তুলে দেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে। প্রতিবেদন কী আছে, সেসব নিয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।

তিন দফায় সময় বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে জমা পড়ল এই প্রতিবেদন। প্রথমে বিসিবি জানিয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাহানারাকে বলা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ক্রিকেটার ১৫ দিন সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তখন তাকে বলা হয় ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জানাতে।

জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর আরেক দফায় বিসিবি জানায়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। তখন বলা হয়েছিল, “ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের স্বার্থে আরও কজনের সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য পরখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখছে কমিটি।”

অবশেষে সেই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো।

গত মাসে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও মঞ্জুর বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তুলেছেন এই পেসার।

একইরকম অভিযোগ করেছেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন নারী ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার।

জাহানারার অভিযোগের পর মুখ খুলতে শুরু করেন আরও বেশ কজন ক্রিকেটার। তোলপাড় পড়ে যাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে। অন্য দুই সদস্য বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

এই কমিটির গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয় দুজন। যোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নাইমা হক ছাড়া অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫৬৬ Time View

বিসিবিতে জমা পড়ল জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবেদন

আপডেটের সময় : ০৪:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। সেই সময় পেরিয় অবশেষে সোমবার বিসিবিতে জমা পড়ল ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন তুলে দেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে। প্রতিবেদন কী আছে, সেসব নিয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।

তিন দফায় সময় বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে জমা পড়ল এই প্রতিবেদন। প্রথমে বিসিবি জানিয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাহানারাকে বলা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ক্রিকেটার ১৫ দিন সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তখন তাকে বলা হয় ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জানাতে।

জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর আরেক দফায় বিসিবি জানায়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। তখন বলা হয়েছিল, “ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের স্বার্থে আরও কজনের সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য পরখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখছে কমিটি।”

অবশেষে সেই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো।

গত মাসে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও মঞ্জুর বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তুলেছেন এই পেসার।

একইরকম অভিযোগ করেছেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন নারী ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার।

জাহানারার অভিযোগের পর মুখ খুলতে শুরু করেন আরও বেশ কজন ক্রিকেটার। তোলপাড় পড়ে যাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে। অন্য দুই সদস্য বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

এই কমিটির গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয় দুজন। যোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নাইমা হক ছাড়া অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।