ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট, শাখা থাকবে যেসব এলাকায় দুর্গাপূজায় ৫ দিনের ছুটি স্কুল-কলেজে, সাপ্তাহিক ছুটিতে হচ্ছে ৭ দিন চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের আ.লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নেবে: যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়: ইরান নিউইয়র্ক থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে ১৫ কেজি গাঁজার চালান, নারীসহ গ্রেপ্তার ২ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশগুলোর তালিকা করেছে ইসরায়েল দিনভর ভোগান্তির পর সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ১০৯ কোটি ঘনফুট

যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়: ইরান

সাংবাদিক

যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়াসহ ইরানের অন্যান্য শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সব শর্ত মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এ জন্য সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তেহরান মার্কিন নৌ অবরোধ থেকে স্বস্তি চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। বর্তমানে প্রণালিটি তেহরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নেওয়ার পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে প্রস্তুত তারা।

তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়: ইরান

আপডেটের সময় : ০৫:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়াসহ ইরানের অন্যান্য শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সব শর্ত মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এ জন্য সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তেহরান মার্কিন নৌ অবরোধ থেকে স্বস্তি চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। বর্তমানে প্রণালিটি তেহরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নেওয়ার পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে প্রস্তুত তারা।

তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।