রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুর-লুটপাট: ছাত্রদল নেতাসহ আরও দুজন গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভারী যন্ত্র দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের ঢাকা জেলা শাখার সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লা (৩৬) এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (২৭)। শুক্রবার রাতে জিন্নাহকে মিরপুর এলাকা থেকে এবং শনিবার ভোরে সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লাকে ঢাকার আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লাকে আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শাহআলী থানা পুলিশ জানায়, রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে জিন্নাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮ জনের মধ্যে অন্তত পাঁচজন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শাহআলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন, শাহআলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আলম এবং শাহআলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম।
সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন- সমিতির সম্পাদক শাহ আলম, সহসভাপতি কাজী মকবুল হোসেন, সদস্য মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও অফিস সহকারী মো. শাহাদাত হোসেন।
এ ছাড়া মো. মিন্টু, মো. মিলন, মো. শাকিল, মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান, মো. রাবিব এবং এক্সক্যাভেটর বহনকারী বড় গাড়ি (লোবেড) চালক শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সেন্টারটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল এবং শাহআলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনসহ আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে এসেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শাহআলী থানার ওসি মো. রাজীব হোসেন সমকালকে বলেন, রাড্ডার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অনেকে এলাকা ছেড়েছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সংস্কারকাজ চলছে
হামলার পর গত রোববার থেকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ঘটনার পরদিন থেকেই সেন্টারের সামনে টিকাদান কর্মসূচিও চালু করা হয়।
শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মূল ফটকের ভেতরে টিনশেডের ছাউনি দিয়ে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মূল ভবনে চলছে সংস্কারকাজ। ভাঙা দেয়ালে ইটের কাজ শেষে প্লাস্টার করা হচ্ছে। নতুন জানালায় লোহার গ্রিল বসানো হয়েছে। দরজা লাগানোর কাজও প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পেছনের নিরাপত্তাদেয়ালের কাজও শেষ পর্যায়ে। এ সময় সেন্টারে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের টিকাদান ও মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ছিল। টিকাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে ৫৬ জনকে।
দুই মাস বয়সী সালেহ হুমাইদকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা তার বাবা শাহাদাত বলেন, অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিতে কিছু টাকা দিতে হয়। এখানে বিনামূল্যে সেবা পাওয়া যায়। বাসার কাছে হওয়ায় সুবিধা হয়।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, প্রাথমিকভাবে সংস্কারকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। পুরোদমে সেবা চালু করতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।






















দ্বিতীয় বিয়ে করতে গেলেই অনলাইনে মিলবে আগের বিয়ের তথ্য: আইনমন্ত্রী