রূপগঞ্জে সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম মাহিন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের পর নিরাপদে মুক্তি
রূপগঞ্জে সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম মাহিনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাহিন দৈনিক ঘোষণার রূপগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, পূর্বাচল প্রেসক্লাবের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং কর্ণগোপ এলাকায় তার মাহিন ফার্মেসি পরিচালনা করেন। ৯ মার্চ ২০২৬ বিকেল ৩টার দিকে দোকানে ব্যবহারের জন্য পানির বোতল নিয়ে হোস্টেলের ভেতরে গেলে পানি নিয়ে ফেরার সময় ৮–১০ জন সন্ত্রাসী তার কাছে এসে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে নিয়ে দুইটি সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে চলে যায়। অপহরণের সময় এই ১০ জন অপহরণকারী তাকে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কুশাব এলাকায় তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে আটকে রাখে। তারা তার মোবাইল দিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়। রাত সাড়ে দশটার দিকে তার স্ত্রী প্রায় ২৫,০০০ টাকা পাঠালে, পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে নিরাপদে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সেই সঙ্গে অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা নগদ ৫০,০০০ টাকা, এন্ড্রয়েড মোবাইল,পার্সোনাল সিমে থাকা অর্থ, নগদ উদ্যোক্তা ও বিকাশ এজেন্টে থাকা টাকা মিলিয়ে প্রায় দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তাকে লাঠি–সোটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করা হয়। থানায় তার স্ত্রী মাকসুদা রহমান অভিযোগ দায়ের করেন। উদ্ধার কার্যক্রমে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব আহ্বায়ক এবং রূপগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নাজমুল হুদা ও পূর্বাচল প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলামের অনুরোধে সার্কেল এসপি মেহেদী হাসান এবং থানা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবজেল নির্দেশক্রমে পুলিশের তিনটি ফোর্স ও সাংবাদিকদের পাঁচটি হোণ্ডাতে প্রায় ১০ জন সাংবাদিক উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। রাত ১১টার দিকে সাংবাদিক মাহিনকে নিরাপদে মুক্তি দেওয়া হয়। এখনও কোনো আসামি সনাক্ত বা গ্রেফতার হয়নি। সাধারণ জনগণ এবং সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, “যদি নির্বাচিত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়।” তারা জানিয়েছেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূলের বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার দৃঢ় ভূমিকা দাবি করেছেন।






















