ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সজীব ওয়াজেদ জয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ আদালতের মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৫০ দেশকে ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বানাতে জাপানের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী/ ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর কথা, নির্ধারিত সময়েই চালু হবে ৩৬ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ভাঙচুর সাফের টিকিটের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা, সমালোচনায় সমর্থক ও সাবেকরা আইফোনের জন্য বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সজীব ওয়াজেদ জয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ আদালতের

সাংবাদিক

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নামে কর অঞ্চল-৬-এর ১১৬ নম্বর সার্কেলে সংরক্ষিত আয়কর নথির স্থায়ী অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দ করা হবে। নথিতে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তথ্য রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় সিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ৫ নভেম্বর জয় ও অন্য ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি জব্দের আবেদন করা হয়।

দুদকের আবেদনে জয় ছাড়াও সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি ও শেখ হাসিনার বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর আপিল) রওশন আরা আক্তার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আদালতে দেওয়া আবেদনে দুদক অভিযোগ করেছে, জনকল্যাণমূলক কাজের কথা বলে গঠিত সিআরআইকে অবৈধভাবে কর সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও এর অনুকূলে কর অব্যাহতির সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের দাবি, ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে সিআরআইয়ের হিসাবে ২৩টি কোম্পানির মাধ্যমে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১০১ কোটি ৩১ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৪৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার টাকার আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৯:৪০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৫০৭ Time View

সজীব ওয়াজেদ জয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ আদালতের

আপডেটের সময় : ০৯:৪০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নামে কর অঞ্চল-৬-এর ১১৬ নম্বর সার্কেলে সংরক্ষিত আয়কর নথির স্থায়ী অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দ করা হবে। নথিতে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তথ্য রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় সিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ৫ নভেম্বর জয় ও অন্য ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি জব্দের আবেদন করা হয়।

দুদকের আবেদনে জয় ছাড়াও সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি ও শেখ হাসিনার বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর আপিল) রওশন আরা আক্তার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আদালতে দেওয়া আবেদনে দুদক অভিযোগ করেছে, জনকল্যাণমূলক কাজের কথা বলে গঠিত সিআরআইকে অবৈধভাবে কর সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও এর অনুকূলে কর অব্যাহতির সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের দাবি, ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে সিআরআইয়ের হিসাবে ২৩টি কোম্পানির মাধ্যমে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১০১ কোটি ৩১ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৪৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার টাকার আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।