ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘লার্ন অ্যান্ড গ্রো’-এর রোবটিক্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত সফলভাবে সম্পন্ন হলো “Study & Career Opportunities in Japan” শীর্ষক সেমিনার সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বিআইএমএএসসি ও প্যান সলিউশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস থামল বাংলাদেশের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

সাংবাদিক নির্যাতনে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল

সাংবাদিক

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রেখে ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ অধ্যাদেশে দোষী ব্যক্তিকে মাত্রা ভেদে এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ন্যূনতম এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা প্রায়ই সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হন—এ বিষয়টি বিবেচনা করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন এই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং ইতোমধ্যে তা সব মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অংশীজনদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে।

অধ্যাদেশে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২, ৩৯ ও ৪০ অনুযায়ী সাংবাদিকদের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সরকার ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ বা প্রচারের কারণে সাংবাদিককে কোনো ব্যক্তি, সরকারি সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী বাহিনী ভয়ভীতি, হুমকি বা হয়রানি করতে পারবে না। সাংবাদিককে তার তথ্যসূত্র প্রকাশে জোর করা যাবে না এবং তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের নিজ প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে। সরল বিশ্বাসে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। সহিংসতার শিকার হলে সাংবাদিক সরাসরি আদালতে অভিযোগ দিতে পারবেন, যা তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

খসড়ায় অপরাধের সংজ্ঞায় শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অপমান, সার্বক্ষণিক নজরদারি, যৌন হয়রানি, অবৈধ আটক, গুম, অপহরণসহ সকল ধরনের ভয়ভীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাংবাদিককে প্রদান করা হবে।

তবে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংবাদিক নিজেও অনধিক এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি অপরাধ কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে হয়, তবে বিনিয়োগকারী, পরিচালক বা ব্যবস্থাপক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন—যদি না প্রমাণ করতে পারেন যে ঘটনাটি তার অজ্ঞাতসারে ঘটেছে বা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৩০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
৭৭৩ Time View

সাংবাদিক নির্যাতনে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল

আপডেটের সময় : ০৫:৩০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রেখে ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ অধ্যাদেশে দোষী ব্যক্তিকে মাত্রা ভেদে এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ন্যূনতম এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা প্রায়ই সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হন—এ বিষয়টি বিবেচনা করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন এই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং ইতোমধ্যে তা সব মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অংশীজনদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে।

অধ্যাদেশে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২, ৩৯ ও ৪০ অনুযায়ী সাংবাদিকদের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সরকার ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ বা প্রচারের কারণে সাংবাদিককে কোনো ব্যক্তি, সরকারি সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী বাহিনী ভয়ভীতি, হুমকি বা হয়রানি করতে পারবে না। সাংবাদিককে তার তথ্যসূত্র প্রকাশে জোর করা যাবে না এবং তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের নিজ প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে। সরল বিশ্বাসে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। সহিংসতার শিকার হলে সাংবাদিক সরাসরি আদালতে অভিযোগ দিতে পারবেন, যা তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

খসড়ায় অপরাধের সংজ্ঞায় শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অপমান, সার্বক্ষণিক নজরদারি, যৌন হয়রানি, অবৈধ আটক, গুম, অপহরণসহ সকল ধরনের ভয়ভীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাংবাদিককে প্রদান করা হবে।

তবে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংবাদিক নিজেও অনধিক এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি অপরাধ কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে হয়, তবে বিনিয়োগকারী, পরিচালক বা ব্যবস্থাপক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন—যদি না প্রমাণ করতে পারেন যে ঘটনাটি তার অজ্ঞাতসারে ঘটেছে বা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।