ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সেন্টমার্টিন: থাকছে নতুন নির্দেশনা

সাংবাদিক

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। তবে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার পর্যটকসংখ্যা সীমিত রাখাসহ বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবেন এবং প্রত্যেককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে দিতে হবে ১০০ টাকা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণের বিষয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে পর্যটকদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

জাহাজ ছাড়বে নুনিয়ারছড়া থেকে

এবারও টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে না। অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো শুধু নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে চলাচল করবে।

একই সঙ্গে সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর কোনো নৌযানকে দ্বীপে চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না।

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিনে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের পর্যটকসংখ্যার সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বীপটিতে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ৫০০ জনের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না।

পর্যটকপ্রতি পরিবেশ ফি ১০০ টাকা

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে। ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী এ অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর।

নতুন এসব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলোও বহাল থাকবে।

সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবং ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিশ্চিত করতেই নতুন এসব নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:২৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৫১৩ Time View

১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সেন্টমার্টিন: থাকছে নতুন নির্দেশনা

আপডেটের সময় : ১০:২৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। তবে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার পর্যটকসংখ্যা সীমিত রাখাসহ বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবেন এবং প্রত্যেককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে দিতে হবে ১০০ টাকা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণের বিষয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে পর্যটকদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

জাহাজ ছাড়বে নুনিয়ারছড়া থেকে

এবারও টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে না। অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো শুধু নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে চলাচল করবে।

একই সঙ্গে সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর কোনো নৌযানকে দ্বীপে চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না।

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিনে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের পর্যটকসংখ্যার সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বীপটিতে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ৫০০ জনের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না।

পর্যটকপ্রতি পরিবেশ ফি ১০০ টাকা

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে। ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী এ অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর।

নতুন এসব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলোও বহাল থাকবে।

সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবং ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিশ্চিত করতেই নতুন এসব নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।