ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

সাংবাদিক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর বলেন, “এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাই কোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল।”

রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

কবে নাগাদ ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে বলে তথ্য দেন তিনি।

এনবিআরের ওই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে তার পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন সংবাদ প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রচার হয়। তবে গত ১৪ জুলাই কর মওকুফ এবং মামলা প্রত্যাহারের খবর ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

মামলাটি বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছিলেন তিনি।

কর বিরোধের বিষয়টি সে সময় ব্যাখ্যা করে আইনজীবী মামুন বলেন, “গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। সেই কর পরিশোধের পর আবার কেন অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে- এই প্রশ্নেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। অথচ বিষয়টি কর ফাঁকির মামলা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।”

মামলার সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মামুন বলেন, “তিনি একসময় গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে এটি পরিচালনা করছেন।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৮ Time View

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেটের সময় : ১১:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর বলেন, “এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাই কোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল।”

রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

কবে নাগাদ ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে বলে তথ্য দেন তিনি।

এনবিআরের ওই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে তার পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন সংবাদ প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রচার হয়। তবে গত ১৪ জুলাই কর মওকুফ এবং মামলা প্রত্যাহারের খবর ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

মামলাটি বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছিলেন তিনি।

কর বিরোধের বিষয়টি সে সময় ব্যাখ্যা করে আইনজীবী মামুন বলেন, “গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। সেই কর পরিশোধের পর আবার কেন অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে- এই প্রশ্নেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। অথচ বিষয়টি কর ফাঁকির মামলা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।”

মামলার সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মামুন বলেন, “তিনি একসময় গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে এটি পরিচালনা করছেন।”