ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সাংবাদিক

রাজধানীর সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত জুলাইতে ১৯ বছরের মরিয়মের সঙ্গে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

তখন মরিয়মকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও দেশজুড়ে সমালোচনা আর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েন নজরুল। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, “ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্লাটে সাতক্ষীরার-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সিআইডির ফরেনসিক দল ও পিবিআই সেখানে কাজ করছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা খবর পেয়েছেন। তবে ঘটনা সম্ভবত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে।

গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

এরপর সংসদ সদস্য তার ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।”

এমপি দাবি করেন, “আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে।

“আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

ওই ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৬ Time View

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটের সময় : ০৩:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত জুলাইতে ১৯ বছরের মরিয়মের সঙ্গে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

তখন মরিয়মকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও দেশজুড়ে সমালোচনা আর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েন নজরুল। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, “ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্লাটে সাতক্ষীরার-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সিআইডির ফরেনসিক দল ও পিবিআই সেখানে কাজ করছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা খবর পেয়েছেন। তবে ঘটনা সম্ভবত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে।

গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

এরপর সংসদ সদস্য তার ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।”

এমপি দাবি করেন, “আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে।

“আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

ওই ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।