প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কমিটি
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। গত ৮ অক্টোবর অধিদপ্তরের প্রশাসন (গেজেটেড) শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী পদ ও কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত করে সুপারিশ করবে কমিটি। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিতার ধরন ও মাত্রা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ পর্যালোচনা করে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধানগত প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবে কমিটি। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব তৈরির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিত ও দক্ষ প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রত্যাশীরা তাঁদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ চিহ্নিত করে নিয়োগের সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে অগ্রগতি হতে পারে।
চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আশা করছেন, কমিটি দ্রুত কাজ শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধিতার ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী উপযোগী কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাস্তবসম্মত সুপারিশ দেবে।
তাদের মতে, কমিটি গঠন ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে সুপারিশ প্রণয়নের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর। উদ্যোগটি যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কমিটির সদস্যসচিব আলিফ হোসেন বলেন, গঠিত কমিটি যথাযথভাবে কাজ না করলে প্রয়োজনে আবারও মাঠপর্যায়ে কঠোর আন্দোলন করা হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের দাবি আদায়ে তাঁরা পিছু হটবেন না। তিনি বলেন, ‘এ দেশে বাঁচলে সম্মানের সঙ্গে বাঁচব। আর তা না হলে রাষ্ট্রের হাতেই মরব। দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব।’
চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের বোঝা নন; তাঁরা দেশের মানবসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁরা অবদান রাখতে পারবেন।
তাদের প্রত্যাশা, কমিটি দ্রুত একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।






















বিএনপির ত্যাগী নেতাদের চাকরি, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী