গ্রাম-শহরের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
শহর ও গ্রামের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করে দেশের সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা নেওয়ার উপযোগী শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে হবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দিয়ে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।
টিকার গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টিকা সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। টিকার সরবরাহ থেকে প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি টিকার কার্যকারিতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই। ১৯৭৯ সাল থেকে দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে নগরবাসী—সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারির ফলাফল মূল্যায়ন দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















কুমিল্লা থেকে ‘নিখোঁজ’ চার স্কুলছাত্রী হবিগঞ্জে উদ্ধার নিয়ে যা জানাল পুলিশ