ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক

বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার নাম নিয়মিত উঠে আসাকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবেশ ও বন রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি বা গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারার টিকে থাকার বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ রক্ষার কাজ তত সহজ হবে। এ জন্য বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও দেশের জন্য আরও কিছু করার সক্ষমতা সবার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। যারা বর্তমানে দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থেমে থাকলে চলবে না; দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতেই পারেন। এরপর বাড়তি কিছু না করলেও কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশের অবনতি হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, পরবর্তী প্রজন্মকেও এই দেশেই বসবাস করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে নিজের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

সভায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সব মানুষ এর সুফল পাবে। সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে দেশের মানুষের কল্যাণে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৫০৩ Time View

দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ১০:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার নাম নিয়মিত উঠে আসাকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবেশ ও বন রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি বা গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারার টিকে থাকার বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ রক্ষার কাজ তত সহজ হবে। এ জন্য বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও দেশের জন্য আরও কিছু করার সক্ষমতা সবার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। যারা বর্তমানে দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থেমে থাকলে চলবে না; দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতেই পারেন। এরপর বাড়তি কিছু না করলেও কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশের অবনতি হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, পরবর্তী প্রজন্মকেও এই দেশেই বসবাস করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে নিজের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

সভায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সব মানুষ এর সুফল পাবে। সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে দেশের মানুষের কল্যাণে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।