কোটালীপাড়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ দফা দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর ছাত্রদল নেতাদের হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী মিনু খানম। এ সময় তিনি সরকারের কাছে ৪ দফা দাবি জানান এবং দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিনু খানম। তিনি বলেন, “সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর হামলার বিষয়টি আপনারা জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন, এজন্য আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা চরম উদ্বিগ্ন ও হতাশ।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. কোটালীপাড়া থানায় দেওয়া অভিযোগ দ্রুত এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
২. হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
৩. গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে হবে।
৪. কোটালীপাড়াসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, গত ১২ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক কালাম তালুকদার।
সভা চলাকালে তিনি কক্ষ থেকে বের হলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে। হামলাকারীরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সরকারি দপ্তরের ভেতরে এমন ঘটনার পরও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক কালাম তালুকদারের উপর হামলার সময় উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সভাকক্ষে উপস্থিত থাকলেও বাইরে প্রকাশ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,“সরকারি দপ্তরের ভেতরে একজন সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হলো উপজেলা প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ স্থান। সেই জায়গাতেই যদি একজন সাংবাদিক নিরাপত্তা না পান, তাহলে দেশের অন্য কোথাও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?”
তিনি আরও বলেন,“ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া চরম দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির শামিল। এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
এ ঘটনায় জেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



















