ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এসিল্যান্ডসহ কোনো কর্মীর ‘দেখা পাননি’ সচিব, ৮ জনকে শোকজ হিউম্যান রাইটস এলাইভ বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ আশুলিয়ায় গভীররাতে দোকানসহ বাসাবাড়িতে আগুন সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী এনসিটিবির বই ছাপানোয় সিন্ডিকেট, সময়ক্ষেপণ ও কৃত্রিম সংকট: শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ঘিরে বিমানবন্দরে শোডাউন নয় গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে থামলেই ভোগান্তি- অভিযোগ মোটরসাইকেল আরোহীদের

জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

মোঃ মামুন হাওলাদার শিমুল, জিয়ানগর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার নতুন নাম ব্যবহার না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে এক জনসভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে উপজেলার নাম ‘জিয়ানগর’ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ২০১৭ সালে জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসন ও সমন্বয় কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্তে উপজেলার নাম পুনরায় ‘ইন্দুরকানী’ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও ‘জিয়ানগর’ নাম কার্যকর করা হয়।

রোববার সরেজমিনে উপজেলার ৩৪ নম্বর কলারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন সাইনবোর্ডে এখনও ‘ইন্দুরকানী’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘জিয়ানগর’ নাম সংযোজন করা হয়নি।

বিএনপি নেতা হাই জমাদ্দার বলেন, “সরকারিভাবে উপজেলার নাম পরিবর্তনের ছয় মাস পার হলেও বিদ্যালয়ে এখনও পুরোনো নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা মনে করি, এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলা নয়, বরং নতুন নাম বাস্তবায়নে অনীহারও বহিঃপ্রকাশ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ ওলামা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে বিভিন্ন সময় বলতেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি স্কুলে চাকরি করবেন না। অথচ এখন বিএনপি সরকারের আমলেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার নতুন নাম ‘জিয়ানগর’ ব্যবহার করছেন না।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ বলেন, “বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে এখনও নাম পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমীন জানান, বিদ্যালয়গুলোকে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কেন তা বাস্তবায়ন করেনি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
৫০৭ Time View

জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

আপডেটের সময় : ১২:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার নতুন নাম ব্যবহার না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে এক জনসভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে উপজেলার নাম ‘জিয়ানগর’ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ২০১৭ সালে জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসন ও সমন্বয় কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্তে উপজেলার নাম পুনরায় ‘ইন্দুরকানী’ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও ‘জিয়ানগর’ নাম কার্যকর করা হয়।

রোববার সরেজমিনে উপজেলার ৩৪ নম্বর কলারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন সাইনবোর্ডে এখনও ‘ইন্দুরকানী’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘জিয়ানগর’ নাম সংযোজন করা হয়নি।

বিএনপি নেতা হাই জমাদ্দার বলেন, “সরকারিভাবে উপজেলার নাম পরিবর্তনের ছয় মাস পার হলেও বিদ্যালয়ে এখনও পুরোনো নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা মনে করি, এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলা নয়, বরং নতুন নাম বাস্তবায়নে অনীহারও বহিঃপ্রকাশ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ ওলামা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে বিভিন্ন সময় বলতেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি স্কুলে চাকরি করবেন না। অথচ এখন বিএনপি সরকারের আমলেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার নতুন নাম ‘জিয়ানগর’ ব্যবহার করছেন না।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ বলেন, “বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে এখনও নাম পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমীন জানান, বিদ্যালয়গুলোকে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কেন তা বাস্তবায়ন করেনি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”