ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নানা আয়োজনে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ An Interesting Interview with the amazing Music Personality, Davide Pomponio প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন আগামী মাসে, মিলবে যেসব সুবিধা সেনা হেফাজতে মোজাফফর- শহীদ জিয়া হত্যার বিষয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন ফারুক আহমেদ খাঁন স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত ২৭ আগস্ট আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা শেখ হাসিনা ফিরলে স্বচ্ছ বিচার হবে: তথ্য উপদেষ্টা টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদ মোল্লার উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের গঠনমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

নানা আয়োজনে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ

সামাদ খন্দকার, গাজীপুর

ব সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা আয়োজন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) গাজীপুরের পীরুজালী এলাকায় অবস্থিত তার স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে দিনব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিল, এতিম শিশুদের খাবার বিতরণ এবং ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, পাঠক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নাট্যজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নুহাশপল্লীতে ছুটে আসেন। লেখকের সমাধিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। অনেক ভক্তকে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র ‘হিমু’ ও ‘রূপার আদলে সাজে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকশ এতিম শিশুর মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আগত দর্শনার্থীরা।সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশপল্লীতে এসে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ছেড়ে গেছেন ১৪ বছর হলো। নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যরাই প্রতি বছর তার জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করে থাকি। এর বাইরে সরকার বা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা ছিল না, এখনো নেই।

নুহাশপল্লীতে আগত দর্শনার্থীরা বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ কেবল একজন লেখক নন, তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অনন্য নাম। তার উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র এবং কালজয়ী চরিত্রগুলো নতুন প্রজন্মকেও সমানভাবে আকৃষ্ট করছে। তাই তিনি তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী গাজীপুরের নুহাশপল্লীতেই তাকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তার সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র কোটি মানুষের ভালোবাসায় সমানভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০২:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৫১৭ Time View

নানা আয়োজনে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ

আপডেটের সময় : ০২:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ব সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা আয়োজন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) গাজীপুরের পীরুজালী এলাকায় অবস্থিত তার স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে দিনব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিল, এতিম শিশুদের খাবার বিতরণ এবং ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, পাঠক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নাট্যজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নুহাশপল্লীতে ছুটে আসেন। লেখকের সমাধিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। অনেক ভক্তকে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র ‘হিমু’ ও ‘রূপার আদলে সাজে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকশ এতিম শিশুর মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আগত দর্শনার্থীরা।সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশপল্লীতে এসে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ছেড়ে গেছেন ১৪ বছর হলো। নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যরাই প্রতি বছর তার জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করে থাকি। এর বাইরে সরকার বা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা ছিল না, এখনো নেই।

নুহাশপল্লীতে আগত দর্শনার্থীরা বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ কেবল একজন লেখক নন, তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অনন্য নাম। তার উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র এবং কালজয়ী চরিত্রগুলো নতুন প্রজন্মকেও সমানভাবে আকৃষ্ট করছে। তাই তিনি তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী গাজীপুরের নুহাশপল্লীতেই তাকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তার সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র কোটি মানুষের ভালোবাসায় সমানভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে।