ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের আশুলিয়ায় শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি, আহত ৫০ পুলিশ সদস্য ৭ নভেম্বর ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন, ২ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে পাসের চেয়ে আসন বেশি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ৮ লাখ আসন মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালো আন্দোলনকারীরা ছাত্রী নিহতের পর আইআইইউসি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিএনপি নেতাকর্মীরাও শপথ নিলেন ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা; বাস্তবে পেয়েছে কেমন বাংলাদেশ?

সাংবাদিক

মো: ইয়াছির আরাফাত স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শাসন আমল পতন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম অংশীদার ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও। তাদের স্বপ্ন ছিল।এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি শিশু পাবে শিক্ষার সুযোগ, বিনামূল্যে চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও নির্যাতনমুক্ত জীবন। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পথশিশুদের সেই স্বপ্ন কতটা পূরণ হয়েছে?

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাট, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড,রেলস্টেশন সহ নানা জায়গায় বসবাস করে এই পথশিশুরা। এদের কারো মা আছে, কারো বাবা আছে। এমনকি অনেকের বাবা-মা কেউ নেয়। এই পথশিশুদের গত সতেরো বছরে জীবন যাত্রার কোনো পরবর্তী হয়নি। তারা ভেবেছিলো জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সরকার তাদের জন্য কাজ করবে।

অথচ অনন্তকালীন উপদেষ্টা পরিষদ ১ বছর ৬ মাস দেশ পরিচালিত করেছে৷ এবং বর্তমানে ৮ মাস ধরে দেশ পরিচালিত করছে বিএনপি সমর্থীত সরকার। তবুও বিন্দুমাত্র পরিবর্তনের ছোয়াঁ পরেনি তাদের জীবনযাপনে।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল বিক্রি করা ১১ বছরের শিশু সুমি জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া আমার খুব ইচ্ছা। অনেককেই বই, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে দেখি। আমিও পড়তে চাই, বড় হতে চাই। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী আমাদের পড়াশোনার সুযোগ চাই।

কাকরাইল মোড়ে ১৩ বছরের পথশিশু জুয়েল তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলে,অসুস্থ হলে কেউ আমাদের দেখেও না। দেখেও না দেখার মতো করে চলে যায়। টাকা না থাকায় ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা চাই।

আরেক পথশিশু ময়না জানায়,অনেক সময় কাজের নাম বলে নিয়ে গিয়ে আমাদের মারধর ও শারিরীক নির্যাতন করা হয়। আমরা মার খেতে চাই না, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নিরাপদে থাকতে চাই।

অথচ একটা মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র (পোশাক), বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা। এইগুলো মৌলিক চাহিদার ভিতরে কোনটাই সঠিক ভাবে তারা পাই না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পথশিশুদের এই দাবিগুলো পূরণ না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্থ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পথশিশুদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসবে, যখন দেশের কোনো শিশুকে আর পথে জীবন কাটাতে হবে না।এমন একটি মানবিক ও শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
৫৮৫ Time View

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা; বাস্তবে পেয়েছে কেমন বাংলাদেশ?

আপডেটের সময় : ০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মো: ইয়াছির আরাফাত স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শাসন আমল পতন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম অংশীদার ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও। তাদের স্বপ্ন ছিল।এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি শিশু পাবে শিক্ষার সুযোগ, বিনামূল্যে চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও নির্যাতনমুক্ত জীবন। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পথশিশুদের সেই স্বপ্ন কতটা পূরণ হয়েছে?

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাট, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড,রেলস্টেশন সহ নানা জায়গায় বসবাস করে এই পথশিশুরা। এদের কারো মা আছে, কারো বাবা আছে। এমনকি অনেকের বাবা-মা কেউ নেয়। এই পথশিশুদের গত সতেরো বছরে জীবন যাত্রার কোনো পরবর্তী হয়নি। তারা ভেবেছিলো জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সরকার তাদের জন্য কাজ করবে।

অথচ অনন্তকালীন উপদেষ্টা পরিষদ ১ বছর ৬ মাস দেশ পরিচালিত করেছে৷ এবং বর্তমানে ৮ মাস ধরে দেশ পরিচালিত করছে বিএনপি সমর্থীত সরকার। তবুও বিন্দুমাত্র পরিবর্তনের ছোয়াঁ পরেনি তাদের জীবনযাপনে।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল বিক্রি করা ১১ বছরের শিশু সুমি জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া আমার খুব ইচ্ছা। অনেককেই বই, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে দেখি। আমিও পড়তে চাই, বড় হতে চাই। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী আমাদের পড়াশোনার সুযোগ চাই।

কাকরাইল মোড়ে ১৩ বছরের পথশিশু জুয়েল তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলে,অসুস্থ হলে কেউ আমাদের দেখেও না। দেখেও না দেখার মতো করে চলে যায়। টাকা না থাকায় ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা চাই।

আরেক পথশিশু ময়না জানায়,অনেক সময় কাজের নাম বলে নিয়ে গিয়ে আমাদের মারধর ও শারিরীক নির্যাতন করা হয়। আমরা মার খেতে চাই না, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নিরাপদে থাকতে চাই।

অথচ একটা মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র (পোশাক), বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা। এইগুলো মৌলিক চাহিদার ভিতরে কোনটাই সঠিক ভাবে তারা পাই না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পথশিশুদের এই দাবিগুলো পূরণ না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্থ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পথশিশুদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসবে, যখন দেশের কোনো শিশুকে আর পথে জীবন কাটাতে হবে না।এমন একটি মানবিক ও শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।