ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নভেম্বরের শেষেই রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা রোসাটমের হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য: তাজমীন কীভাবে কক্সবাজারে গেল, জানালেন মা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সোবহানার ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, জুটিতেও রেকর্ড সোবহানার সেঞ্চুরিতে অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি হ্যাটট্রিকের পর ফাইফার, হাসানের তোপে অলআউট আফগানিস্তান আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস নওগাঁয় ডিবি’র’ অভিযানে দুই কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার-৩ প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড, নিষিদ্ধ হলেন ভিনিসিয়ুস মোদি-শাহকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা বিক্ষোভকারীদের ফেসবুকে পরিচয়ের ১৭ দিনেই কক্সবাজার যায় তাজমিন, ফেরার পথে হত্যাকাণ্ড

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা; পেয়েছে কেমন বাংলাদেশ?

সাংবাদিক

 মো: ইয়াছির আরাফাত স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শাসন আমল পতন ও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা। পেয়েছে বা কেমন বাংলাদেশ তারা। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাট, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড,রেলস্টেশন সহ নানা জায়গায় বসবাস করে এই পথশিশুরা।

এদের কারো মা আছে, কারো বাবা আছে। এমনকি অনেকের বাবা-মা কেউ নেয়। এই পথশিশুদের গত সতেরো বছরে জীবন যাত্রার কোনো পরবর্তী হয়নি। তারা ভেবেছিলো জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সরকার তাদের জন্য কাজ করবে। অথচ অনন্তকালীন উপদেষ্টা পরিষদ ১ বছর ৬ মাস দেশ পরিচালিত করেছে৷ এবং বর্তমানে ৮ মাস ধরে দেশ পরিচালিত করছে বিএনপি সমর্থীত সরকার। তবুও বিন্দুমাত্র পরিবর্তনের ছোয়াঁ পরেনি তাদের জীবনযাপনে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল বিক্রি করা ১১ বছরের শিশু সুমি জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া আমার খুব ইচ্ছা।

অনেককেই বই, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে দেখি। আমিও পড়তে চাই, বড় হতে চাই। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী আমাদের পড়াশোনার সুযোগ চাই। কাকরাইল মোড়ে ১৩ বছরের পথশিশু জুয়েল তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলে,অসুস্থ হলে কেউ আমাদের দেখেও না।দেখেও না দেখার মতো করে চলে যায়। টাকা না থাকায় ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা চাই। আরেক পথশিশু ময়না জানায়,অনেক সময় কাজের নাম বলে নিয়ে গিয়ে আমাদের মারধর ও শারিরীক নির্যাতন করা হয়। আমরা মার খেতে চাই না, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নিরাপদে থাকতে চাই। অথচ একটা মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র (পোশাক), বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা। এইগুলো মৌলিক চাহিদার ভিতরে কোনটাই সঠিক ভাবে তারা পাই না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পথশিশুদের এই দাবিগুলো পূরণ না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্থ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পথশিশুদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসবে, যখন দেশের কোনো শিশুকে আর পথে জীবন কাটাতে হবে না।এমন একটি মানবিক ও শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
৫০৭ Time View

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা; পেয়েছে কেমন বাংলাদেশ?

আপডেটের সময় : ০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

 মো: ইয়াছির আরাফাত স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শাসন আমল পতন ও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলো পথশিশুরা। পেয়েছে বা কেমন বাংলাদেশ তারা। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাট, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড,রেলস্টেশন সহ নানা জায়গায় বসবাস করে এই পথশিশুরা।

এদের কারো মা আছে, কারো বাবা আছে। এমনকি অনেকের বাবা-মা কেউ নেয়। এই পথশিশুদের গত সতেরো বছরে জীবন যাত্রার কোনো পরবর্তী হয়নি। তারা ভেবেছিলো জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সরকার তাদের জন্য কাজ করবে। অথচ অনন্তকালীন উপদেষ্টা পরিষদ ১ বছর ৬ মাস দেশ পরিচালিত করেছে৷ এবং বর্তমানে ৮ মাস ধরে দেশ পরিচালিত করছে বিএনপি সমর্থীত সরকার। তবুও বিন্দুমাত্র পরিবর্তনের ছোয়াঁ পরেনি তাদের জীবনযাপনে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল বিক্রি করা ১১ বছরের শিশু সুমি জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া আমার খুব ইচ্ছা।

অনেককেই বই, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে দেখি। আমিও পড়তে চাই, বড় হতে চাই। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী আমাদের পড়াশোনার সুযোগ চাই। কাকরাইল মোড়ে ১৩ বছরের পথশিশু জুয়েল তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলে,অসুস্থ হলে কেউ আমাদের দেখেও না।দেখেও না দেখার মতো করে চলে যায়। টাকা না থাকায় ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা চাই। আরেক পথশিশু ময়না জানায়,অনেক সময় কাজের নাম বলে নিয়ে গিয়ে আমাদের মারধর ও শারিরীক নির্যাতন করা হয়। আমরা মার খেতে চাই না, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নিরাপদে থাকতে চাই। অথচ একটা মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র (পোশাক), বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা। এইগুলো মৌলিক চাহিদার ভিতরে কোনটাই সঠিক ভাবে তারা পাই না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পথশিশুদের এই দাবিগুলো পূরণ না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্থ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পথশিশুদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসবে, যখন দেশের কোনো শিশুকে আর পথে জীবন কাটাতে হবে না।এমন একটি মানবিক ও শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।