ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু মঙ্গলবার মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনে বিধিমালা সংশোধন মঙ্গলবার শপথ নেবেন দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনে বিশৃঙ্খলাকারীরা সাধারণ শ্রমিক নয়: ডিআইজি আবারও বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম, রাত ৮টা থেকেই কার্যকর সজীব ওয়াজেদ জয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ আদালতের মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৫০ দেশকে ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বানাতে জাপানের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী/ ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর কথা, নির্ধারিত সময়েই চালু হবে

পটকা মাছ খেয়ে মুদি দোকানির মৃত্যু, অসুস্থ মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান

সাংবাদিক

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে মো. আজহারুল ইসলাম (৫০) নামে এক মুদি দোকানির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আজহারুলের ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজহারুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে। বড়দল বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বাজার থেকে টেপা বা পটকা মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন আজহারুল। পরে মাছটি রান্না করে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। তাঁরা তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুলের মৃত্যু হয়। পরে আজহারুলের অসুস্থ মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পটকা মাছে টেট্রোডোটক্সিন নামের অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিষ থাকে। এ বিষ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র অবশ করে দিতে পারে। পটকা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতন করা হয়।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বিষাক্ত মাছ খেয়ে চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬০৬ Time View

পটকা মাছ খেয়ে মুদি দোকানির মৃত্যু, অসুস্থ মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান

আপডেটের সময় : ০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে মো. আজহারুল ইসলাম (৫০) নামে এক মুদি দোকানির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আজহারুলের ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজহারুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে। বড়দল বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বাজার থেকে টেপা বা পটকা মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন আজহারুল। পরে মাছটি রান্না করে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। তাঁরা তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুলের মৃত্যু হয়। পরে আজহারুলের অসুস্থ মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পটকা মাছে টেট্রোডোটক্সিন নামের অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিষ থাকে। এ বিষ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র অবশ করে দিতে পারে। পটকা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতন করা হয়।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বিষাক্ত মাছ খেয়ে চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।