ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিএনপির ত্যাগী নেতাদের চাকরি, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী বাঁচার জন্য আ.লীগ-ছাত্রলীগের অনেকে এখন জামায়াত হয়ে যাচ্ছে: রাশেদ খাঁন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি দুর্গাপূজার ছুটিতে এবারও বিশেষ ট্রেন, বাড়তি বগি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কমিটি অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন নভেম্বরের শেষেই রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা রোসাটমের হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য: তাজমীন কীভাবে কক্সবাজারে গেল, জানালেন মা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সোবহানার ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, জুটিতেও রেকর্ড

পটকা মাছ খেয়ে মুদি দোকানির মৃত্যু, অসুস্থ মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান

সাংবাদিক

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে মো. আজহারুল ইসলাম (৫০) নামে এক মুদি দোকানির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আজহারুলের ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজহারুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে। বড়দল বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বাজার থেকে টেপা বা পটকা মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন আজহারুল। পরে মাছটি রান্না করে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। তাঁরা তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুলের মৃত্যু হয়। পরে আজহারুলের অসুস্থ মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পটকা মাছে টেট্রোডোটক্সিন নামের অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিষ থাকে। এ বিষ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র অবশ করে দিতে পারে। পটকা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতন করা হয়।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বিষাক্ত মাছ খেয়ে চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৭৭ Time View

পটকা মাছ খেয়ে মুদি দোকানির মৃত্যু, অসুস্থ মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান

আপডেটের সময় : ০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে মো. আজহারুল ইসলাম (৫০) নামে এক মুদি দোকানির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আজহারুলের ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজহারুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে। বড়দল বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বাজার থেকে টেপা বা পটকা মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন আজহারুল। পরে মাছটি রান্না করে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। তাঁরা তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুলের মৃত্যু হয়। পরে আজহারুলের অসুস্থ মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পটকা মাছে টেট্রোডোটক্সিন নামের অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিষ থাকে। এ বিষ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র অবশ করে দিতে পারে। পটকা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতন করা হয়।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বিষাক্ত মাছ খেয়ে চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।