ঢাকা , শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাতৃভাষা দিবসে বাংলায় কথা বলে শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সাংবাদিক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের মানুষকে বাংলা ভাষায় কথা বলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ‘মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই বিশেষ শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন তার বার্তায় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘সবাইকে জানাই মহান একুশের শুভেচ্ছা। গভীর শ্রদ্ধা জানাই ভাষা শহীদদের। ভাষা আমাদের সংস্কৃতির পরিচয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, একুশে ফেব্রুয়ারি মানুষকে নিজের ভাষায় কথা বলতে এবং নিজস্ব ইতিহাস মনে রাখতে শেখায়। আমেরিকার পক্ষ থেকে তিনি এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের মানুষের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।

আজ রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতি স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিদেশি কূটনীতিকসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে এবং হাতে ফুল নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে ধীর পায়ে শহীদ মিনারে উপস্থিত হতে শুরু করেন।

১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর মমতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন হাজারো মানুষ। ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা এবং বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বাংলায় শুভেচ্ছা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মহলের সংহতি জ্ঞাপন ২১ ফেব্রুয়ারির গুরুত্বকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে নিজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ধারণ করার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা একুশের চেতনারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ সারা বিশ্বেই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৫২ সালের সেই আত্মত্যাগ আজ বিশ্ব দরবারে সাহসিকতা ও অধিকার আদায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫১১ Time View

মাতৃভাষা দিবসে বাংলায় কথা বলে শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেটের সময় : ০৫:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের মানুষকে বাংলা ভাষায় কথা বলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ‘মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই বিশেষ শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন তার বার্তায় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘সবাইকে জানাই মহান একুশের শুভেচ্ছা। গভীর শ্রদ্ধা জানাই ভাষা শহীদদের। ভাষা আমাদের সংস্কৃতির পরিচয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, একুশে ফেব্রুয়ারি মানুষকে নিজের ভাষায় কথা বলতে এবং নিজস্ব ইতিহাস মনে রাখতে শেখায়। আমেরিকার পক্ষ থেকে তিনি এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের মানুষের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।

আজ রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতি স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিদেশি কূটনীতিকসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে এবং হাতে ফুল নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে ধীর পায়ে শহীদ মিনারে উপস্থিত হতে শুরু করেন।

১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর মমতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন হাজারো মানুষ। ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা এবং বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বাংলায় শুভেচ্ছা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মহলের সংহতি জ্ঞাপন ২১ ফেব্রুয়ারির গুরুত্বকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে নিজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ধারণ করার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা একুশের চেতনারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ সারা বিশ্বেই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৫২ সালের সেই আত্মত্যাগ আজ বিশ্ব দরবারে সাহসিকতা ও অধিকার আদায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।