ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাক্ষাৎকার : বিল গেটস/দুষ্ট লোকের হাতে এআই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি

সাংবাদিক

২৭ সেপ্টেম্বর এনবিসি নিউজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস-এর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রচার হয়। এতে এআইর বর্তমান অবস্থা, মানবসভ্যতার জন্য হুমকি, আমাদের করণীয় এবং বিশ্বনেতৃত্বের ভূমিকা উঠে এসেছে। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর করেছেন সমকালের সহসম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম।

এনবিসি নিউজ: ‘মিট দ্য প্রেস’-এ আপনাকে স্বাগতম।

বিল গেটস: এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে।

এনবিসি: এআই মূলত ইংরেজিভাষীদের কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। যতটুকু জানি, গেটস ফাউন্ডেশন এআই প্রতিষ্ঠানসহ আরও ৬০টি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন? আর এখনই কেন?

বিল গেটস: এআই মডেলগুলো ইংরেজি এবং অন্য ডজনখানেক মূলধারার ভাষা চিনতে বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে। ফলে আপনি যখন আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন, এটি তা সঠিকভাবে রেকর্ড করবে এবং আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু আফ্রিকান ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে এর ভুলের হার প্রায় ১০ গুণ। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন ধরুন, পশ্চিম আফ্রিকার প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ভাষা ‘ইয়োরুবা’। সেখানে ইংরেজির তুলনায় ভুলের হার ১০ গুণ।

এনবিসি: তাহলে তো এখানে সমস্যা থেকে যায়–

বিল গেটস: এটি বাস্তবে ব্যবহারের অনুপযোগী থেকে যায়। অথচ কেবল পুঁজিবাদী মুনাফার মানসিকতা নিয়ে এগোলে এসব ভাষাকে কখনোই অগ্রাধিকার দেওয়া হতো না। তবে একটা চমৎকার ব্যাপার ঘটেছে। আমরা আশা করেছিলাম, ১০টি প্রতিষ্ঠান হয়তো আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবে। শেষ পর্যন্ত ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে পাশে পেয়েছি। এখন আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা আছে– ভাষার মান উন্নত করা, বেঞ্চমার্ক ঠিক করা এবং নিশ্চিত করা যে একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা একাডেমিক সেশন এসব ভাষায় নির্ভুলভাবে চালানো সম্ভব।

এনবিসি: আপনার দৃষ্টিতে এ প্রকল্পের সফলতা কী?

বিল গেটস: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যেসব ভাষা অন্তত ১০ লাখ বা তারও বেশি মানুষ বলেন, সেগুলোকে আমরা ইংরেজির মানের কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। যেন একজন রোগী, কৃষক কিংবা শিক্ষার্থী অনায়াসে এই অডিও ইন্টারফেস ব্যবহার করতে পারেন। হয়তো তাদের ফসলের সুরক্ষা বা দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে পারেন। গুণগত মান কীভাবে মাপা হবে এবং কী ধরনের ডেটা লাগবে, তার সবই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। মডেল প্রদানকারীরা এ ডেটা ব্যবহার করবেন। ফলে ফিচারগুলো প্রতিটি এআই মডেলেই যুক্ত হবে।

এনবিসি: শুরুতেই এআই যেভাবে ভাষা আয়ত্ত করেছে, তা কি আপনাকে অবাক করেছে?

বিল গেটস: অবশ্যই। যখন প্রথম চ্যাটজিপিটি এলো, আমি ওপেনএআইর টিমকে একটি অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বায়োলজি টেস্ট দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম। এটি উন্মুক্ত হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগের ঘটনা। পরীক্ষার ফল দেখে আমি জীবনের অন্যতম সেরা এক ডেমো প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা পেয়েছিলাম। আমরা দেখেছিলাম, ভাষা ব্যবহারে এটি কতটা দক্ষ। সত্যি বলতে, আমরা যে আর্কিটেকচার ব্যবহার করি, ভাষা সেটির জন্য এক নিখুঁত প্রয়োগক্ষেত্র। তাই বিশ্বের সব ভাষাকে এআইর আওতায় নিয়ে আসার ধারণাটি আসলে বাস্তবসম্মত।

এনবিসি: এ বিষয়টি কি আপনাকে আশাবাদী করে তোলে যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আপনারা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা পূরণ করতে পারবেন?

বিল গেটস: হ্যাঁ, এআইর যত ধরনের জটিলতা আছে, তার মধ্যে এ সমস্যার সমাধান কী এবং কীভাবে তা করতে হবে– সেটা একদম পরিষ্কার। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ রয়েছে, যাদের ভাষা বর্তমানে খুব দুর্বলভাবে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মানুষ আমাদের চেয়ে অনেক নিম্নমানের অভিজ্ঞতা পাচ্ছে।

এনবিসি: এআইর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত সতর্ক করছেন, আপনি তাদের অন্যতম। গত আগস্টে আপনি লিখেছিলেন, ‘এআই হয় এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সমতার মাধ্যম হবে, না হয় সবচেয়ে ভয়াবহ বৈষম্যের উৎস হয়ে দাঁড়াবে।’ আপনি নিজে এআইর এসব ঝুঁকিকে কতটা মারাত্মক মনে করেন?

বিল গেটস: দেখুন, এআই কেবল আর দশটা সাধারণ প্রযুক্তির মতো নয়। তাই যারা ভাবেন, আগে যেমন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় ছিল এবং দিনশেষে সব ঠিক হয়ে গেছে; এবারও ভেবেচিন্তে রূপরেখা তৈরির কোনো দরকার নেই– তারা ভুল ভাবছেন। এটি সত্যিই একটি বিবর্তনীয় ঘটনা। আমরা মূলত এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছি, যা অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। আগামী কয়েক বছরে সূচকীয় হারে এটি আমাদের চেয়ে বহুগুণ বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে। মানুষের মতো তো আর একে অপরকে শেখানোর সীমাবদ্ধতা এর নেই। এখানে জ্ঞানের আদান-প্রদান ঘটে নিমিষেই।

এনবিসি: এ ক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয়?

বিল গেটস: আমি জোর দিয়ে বলতে চাই– কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নয়, বরং সমাজ, একাডেমিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, ভোটার এবং নীতিনির্ধারকদের এখনই সম্পৃক্ত হতে হবে– আমরা এই প্রযুক্তিকে কীভাবে পরিচালিত করতে চাই। এর ইতিবাচক দিকগুলোর গতি বাড়ানো এবং এর ভয়াবহ সম্ভাব্য অপব্যবহার কমানোর বিষয়ে যতটা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, ততটাই দেওয়া উচিত।
এনবিসি: আপনি সুন্দর কথা বললেন– কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। এআই কি ইতোমধ্যে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করেন?
বিল গেটস: না, এখনও তা হয়নি। এআই এখনও মানুষের নিয়ন্ত্রণে আছে।

এনবিসি: কীসের ওপর ভিত্তি করে আপনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত?

বিল গেটস: এআই তো আর কোটি কোটি রোবট চালাচ্ছে না! আমরা চাইলেই যে কোনো সময় কম্পিউটার বন্ধ করে দিতে পারি। এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো– খারাপ উদ্দেশ্যে মানুষ কীভাবে এআই ব্যবহার করছে। যেমন ধরুন, একজন প্রতারক কোনো ব্যক্তিকে ঠকাতে চায়; দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দিতে চায়; কিংবা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এলোমেলো করে দিতে চায়। এআই এখন তাদের সেই ক্ষমতা দিচ্ছে। আগে সাইবার আক্রমণ বা জৈব অস্ত্রের মতো বিষয়গুলো কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এখন এআইর কারণে ছোট ছোট গোষ্ঠীও তা করার ক্ষমতা পাচ্ছে। সুতরাং সঠিক সরকারি সুরক্ষা নীতি না থাকলে এই ‘কুবুদ্ধি এবং এআইর মিশ্রণ’ আমাদের জন্য অনেক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এনবিসি: সাম্প্রতিক সময়ে এআই নিয়ে সবচেয়ে বড় খবর ছিল, ‘যারা এআই তৈরি করছেন, তারা নিজেরাও বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষের দিকে এটি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’ আপনি কি বিশ্বাস করেন, এআই পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী?

বিল গেটস: এআই অবশ্যই এমন ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা রাখে, যা শতকোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও পুরোপুরি ১০০ ভাগ ধ্বংস করা কঠিন, কিন্তু কুবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হাতে এই আধুনিক এআই টুলের চেয়ে শক্তিশালী কোনো অস্ত্র আর কখনোই ছিল না। এটা ভালো– ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকেও অনেকে তাদের নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে এ সত্যগুলো স্বীকার করছেন। কিন্তু সমস্যা হলো বাকি বিশ্ব হয় এটাকে অবহেলা করছে, নয়তো কেবল বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে। কীভাবে একে নিয়ন্ত্রণ করব, তা নিয়ে সব চিন্তাবিদ একসঙ্গে বসছেন না– এটি সত্যিই আশঙ্কাজনক।
এনবিসি: ওই হুইসেলব্লোয়ারের এমন সতর্কবার্তাকে মানুষের কীভাবে নেওয়া উচিত? এই মুহূর্তে কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?

বিল গেটস: অবশ্যই আমাদের নিকটবর্তী ঝুঁকিগুলো নিয়ে আগে কাজ করতে হবে। যেমন এআই ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার হামলা বা বড় স্কেলে মানুষকে প্রতারিত করার ক্ষমতা। এআইকে শুধু নিজের মতো চলতে না দিয়ে এর মধ্যে কড়া নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আপনি যদি নিরাপত্তা না রাখেন, তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পাওয়ার গ্রিড ডাউন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুই টের পাবে না। এটি খুবই জরুরি একটি কাজ।

এনবিসি: কেউ বলছেন, এআইতে একটি ‘কিল সুইচ’ থাকা দরকার। কেউ বলছেন, উন্নয়ন পুরোপুরি সাময়িক বন্ধ রাখা দরকার। আবার কেউ ভাবছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। আপনার মতে, এআই কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত?

বিল গেটস: দুর্ভাগ্যবশত অন্য যে কোনো বিপজ্জনক প্রযুক্তি (যেমন পারমাণবিক বোমা বা রকেট) সম্পর্কে সরকারগুলোর ধারণা ভালো ছিল। কারণ তারা সেখানে অর্থায়ন করত বা মূল খরিদ্দার ছিল। কিন্তু এআই এসেছে পুরোপুরি বেসরকারি খাত থেকে। এ বছর সাইবার হামলা বা জৈব অস্ত্রের যে বিপজ্জনক সীমানাগুলো এআই অতিক্রম করেছে, সে সম্পর্কে সরকারের অভিজ্ঞতা খুবই সামান্য। তা ছাড়া এটাকে জাতীয়তাবাদী ‘আমাদের বনাম তাদের’ লড়াই বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে অনেকেই বলছেন– সামনে এগিয়ে যাও, থামার দরকার নেই। কিন্তু প্রতিটি এআইতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখা হবে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। প্রশ্ন একটাই– আমরা কি তা এখনই করব? এর ফলে কাজের গতি কিন্তু তেমন একটা কমবে না। কারণ আমরা ইতোমধ্যে একটি সূচকীয় প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা তো সাধারণ বুদ্ধির বিষয়। কিন্তু মানুষ সাধারণত কঠিন সময়ে আমেরিকার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর সেখানে এখন তেমন কিছু না দেখে তারা কিছুটা বিভ্রান্ত।

এনবিসি: আপনি কি বলতে চাচ্ছেন, এসব সুরক্ষা বলয় কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত?

বিল গেটস: অবশ্যই। এটাই তো সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয়। যেমন ‘অ্যানথ্রোপিক’ রিপোর্ট করেছে, মানুষ তাদের এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র বা টার্গেটিং সিস্টেম বানানোর চেষ্টা করছে। কম্বোডিয়ায় বসে বসে টাইপ করার দিন শেষ। এআই তার চেয়ে হাজার গুণ নিখুঁতভাবে জালিয়াতি করতে পারে। এই ঝুঁকিগুলো চোখের সামনে দৃশ্যমান। কারণ এর পেছনে বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ জড়িয়ে আছে। আমি পোলিও বা ম্যালেরিয়া নির্মূলের বাইরে এসে এ বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট কথা বলছি। কারণ আমি সত্যি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এত সীমা অতিক্রম করার পরও খোদ ইন্ডাস্ট্রির বাইরের মানুষ যেন বুঝতেই পারছে না– আসলে কী ঘটছে।

এনবিসি: সীমা অতিক্রম বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন যে কিছু এআই ব্যবস্থা অন্যান্য সিস্টেমে হ্যাক করতে সক্ষম হয়েছে?

বিল গেটস: না, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, চলতি বছরেই এআই ব্যবহার করে কোটি কোটি মানুষ মেরে ফেলার মতো জৈব অস্ত্রের ডিজাইন করা সম্ভব হচ্ছে। এআই দিয়ে কোডের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা ব্যাংকিং সিস্টেম অচল করা সম্ভব হচ্ছে। কুবুদ্ধির মানুষের
এসব না আটকালে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। তা ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে এটি সৃষ্টিকর্তার ধারণার চেয়েও বেশি স্বায়ত্তশাসিত হয়ে উঠছে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় খারাপ মানুষের অপব্যবহার রুখে দেওয়া। এআই নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এই মুহূর্তের মূল বিপদ নয়।

এনবিসি: কিছুদিন আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন– এআই পৃথিবী দখল করে নেবে, মানবজাতি ধ্বংস করবে– এসব খবর নাকি স্রেফ ভুয়া। আপনিও কি তাই মনে করেন?

বিল গেটস: না, এটি মোটেও ভুয়া নয়। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এমন হলেও তিনি মার্কিন জনগণকে রক্ষা করতে চাইবেন। বেশির ভাগ মানুষ যেহেতু সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো ব্যবহার করে দেখেননি; তাই তারা বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। কিন্তু আমার বা অন্যদের কথা শোনার পর এবং এটা বোঝার পর যে এতে দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না– আশা করি, তিনি একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় ঐকমত্যে আসবেন।

এনবিসি: সম্প্রতি বলেছেন, আপনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এআই নিয়ে কথা বলতে চান। এআই নিয়ে তাঁকে আপনার কী বার্তা থাকবে?

বিল গেটস: প্রযুক্তিতে আমার সারাজীবনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি তাঁকে বোঝাতে চাইব– এই বিষয় কতটা আলাদা ও উদ্বেগজনক। আশা করি, এটি শুনে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসবেন এবং সুরক্ষা বলয় কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করবেন। আমি তাঁকে পুরো কাজ থামিয়ে দেওয়ার কথা বলব না। বলব, প্রতিটি আমেরিকান এআইর ওপর যেন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি চীনও নিশ্চয় কোনো জৈব সন্ত্রাসী হামলা বা নিজস্ব নিয়ন্ত্রণহীন বড় আক্রমণ চাইবে না। তাই এটি দুই দেশের প্রতিযোগিতায় বড় প্রভাব ফেলবে না।

সূত্র:- সমকাল

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৪৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
৫০৬ Time View

সাক্ষাৎকার : বিল গেটস/দুষ্ট লোকের হাতে এআই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি

আপডেটের সময় : ০৫:৪৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

২৭ সেপ্টেম্বর এনবিসি নিউজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস-এর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রচার হয়। এতে এআইর বর্তমান অবস্থা, মানবসভ্যতার জন্য হুমকি, আমাদের করণীয় এবং বিশ্বনেতৃত্বের ভূমিকা উঠে এসেছে। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর করেছেন সমকালের সহসম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম।

এনবিসি নিউজ: ‘মিট দ্য প্রেস’-এ আপনাকে স্বাগতম।

বিল গেটস: এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে।

এনবিসি: এআই মূলত ইংরেজিভাষীদের কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। যতটুকু জানি, গেটস ফাউন্ডেশন এআই প্রতিষ্ঠানসহ আরও ৬০টি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন? আর এখনই কেন?

বিল গেটস: এআই মডেলগুলো ইংরেজি এবং অন্য ডজনখানেক মূলধারার ভাষা চিনতে বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে। ফলে আপনি যখন আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন, এটি তা সঠিকভাবে রেকর্ড করবে এবং আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু আফ্রিকান ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে এর ভুলের হার প্রায় ১০ গুণ। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন ধরুন, পশ্চিম আফ্রিকার প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ভাষা ‘ইয়োরুবা’। সেখানে ইংরেজির তুলনায় ভুলের হার ১০ গুণ।

এনবিসি: তাহলে তো এখানে সমস্যা থেকে যায়–

বিল গেটস: এটি বাস্তবে ব্যবহারের অনুপযোগী থেকে যায়। অথচ কেবল পুঁজিবাদী মুনাফার মানসিকতা নিয়ে এগোলে এসব ভাষাকে কখনোই অগ্রাধিকার দেওয়া হতো না। তবে একটা চমৎকার ব্যাপার ঘটেছে। আমরা আশা করেছিলাম, ১০টি প্রতিষ্ঠান হয়তো আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবে। শেষ পর্যন্ত ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে পাশে পেয়েছি। এখন আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা আছে– ভাষার মান উন্নত করা, বেঞ্চমার্ক ঠিক করা এবং নিশ্চিত করা যে একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা একাডেমিক সেশন এসব ভাষায় নির্ভুলভাবে চালানো সম্ভব।

এনবিসি: আপনার দৃষ্টিতে এ প্রকল্পের সফলতা কী?

বিল গেটস: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যেসব ভাষা অন্তত ১০ লাখ বা তারও বেশি মানুষ বলেন, সেগুলোকে আমরা ইংরেজির মানের কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। যেন একজন রোগী, কৃষক কিংবা শিক্ষার্থী অনায়াসে এই অডিও ইন্টারফেস ব্যবহার করতে পারেন। হয়তো তাদের ফসলের সুরক্ষা বা দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে পারেন। গুণগত মান কীভাবে মাপা হবে এবং কী ধরনের ডেটা লাগবে, তার সবই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। মডেল প্রদানকারীরা এ ডেটা ব্যবহার করবেন। ফলে ফিচারগুলো প্রতিটি এআই মডেলেই যুক্ত হবে।

এনবিসি: শুরুতেই এআই যেভাবে ভাষা আয়ত্ত করেছে, তা কি আপনাকে অবাক করেছে?

বিল গেটস: অবশ্যই। যখন প্রথম চ্যাটজিপিটি এলো, আমি ওপেনএআইর টিমকে একটি অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বায়োলজি টেস্ট দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম। এটি উন্মুক্ত হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগের ঘটনা। পরীক্ষার ফল দেখে আমি জীবনের অন্যতম সেরা এক ডেমো প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা পেয়েছিলাম। আমরা দেখেছিলাম, ভাষা ব্যবহারে এটি কতটা দক্ষ। সত্যি বলতে, আমরা যে আর্কিটেকচার ব্যবহার করি, ভাষা সেটির জন্য এক নিখুঁত প্রয়োগক্ষেত্র। তাই বিশ্বের সব ভাষাকে এআইর আওতায় নিয়ে আসার ধারণাটি আসলে বাস্তবসম্মত।

এনবিসি: এ বিষয়টি কি আপনাকে আশাবাদী করে তোলে যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আপনারা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা পূরণ করতে পারবেন?

বিল গেটস: হ্যাঁ, এআইর যত ধরনের জটিলতা আছে, তার মধ্যে এ সমস্যার সমাধান কী এবং কীভাবে তা করতে হবে– সেটা একদম পরিষ্কার। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ রয়েছে, যাদের ভাষা বর্তমানে খুব দুর্বলভাবে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মানুষ আমাদের চেয়ে অনেক নিম্নমানের অভিজ্ঞতা পাচ্ছে।

এনবিসি: এআইর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত সতর্ক করছেন, আপনি তাদের অন্যতম। গত আগস্টে আপনি লিখেছিলেন, ‘এআই হয় এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সমতার মাধ্যম হবে, না হয় সবচেয়ে ভয়াবহ বৈষম্যের উৎস হয়ে দাঁড়াবে।’ আপনি নিজে এআইর এসব ঝুঁকিকে কতটা মারাত্মক মনে করেন?

বিল গেটস: দেখুন, এআই কেবল আর দশটা সাধারণ প্রযুক্তির মতো নয়। তাই যারা ভাবেন, আগে যেমন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় ছিল এবং দিনশেষে সব ঠিক হয়ে গেছে; এবারও ভেবেচিন্তে রূপরেখা তৈরির কোনো দরকার নেই– তারা ভুল ভাবছেন। এটি সত্যিই একটি বিবর্তনীয় ঘটনা। আমরা মূলত এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছি, যা অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। আগামী কয়েক বছরে সূচকীয় হারে এটি আমাদের চেয়ে বহুগুণ বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে। মানুষের মতো তো আর একে অপরকে শেখানোর সীমাবদ্ধতা এর নেই। এখানে জ্ঞানের আদান-প্রদান ঘটে নিমিষেই।

এনবিসি: এ ক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয়?

বিল গেটস: আমি জোর দিয়ে বলতে চাই– কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নয়, বরং সমাজ, একাডেমিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, ভোটার এবং নীতিনির্ধারকদের এখনই সম্পৃক্ত হতে হবে– আমরা এই প্রযুক্তিকে কীভাবে পরিচালিত করতে চাই। এর ইতিবাচক দিকগুলোর গতি বাড়ানো এবং এর ভয়াবহ সম্ভাব্য অপব্যবহার কমানোর বিষয়ে যতটা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, ততটাই দেওয়া উচিত।
এনবিসি: আপনি সুন্দর কথা বললেন– কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই ইতোমধ্যে মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। এআই কি ইতোমধ্যে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করেন?
বিল গেটস: না, এখনও তা হয়নি। এআই এখনও মানুষের নিয়ন্ত্রণে আছে।

এনবিসি: কীসের ওপর ভিত্তি করে আপনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত?

বিল গেটস: এআই তো আর কোটি কোটি রোবট চালাচ্ছে না! আমরা চাইলেই যে কোনো সময় কম্পিউটার বন্ধ করে দিতে পারি। এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো– খারাপ উদ্দেশ্যে মানুষ কীভাবে এআই ব্যবহার করছে। যেমন ধরুন, একজন প্রতারক কোনো ব্যক্তিকে ঠকাতে চায়; দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দিতে চায়; কিংবা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এলোমেলো করে দিতে চায়। এআই এখন তাদের সেই ক্ষমতা দিচ্ছে। আগে সাইবার আক্রমণ বা জৈব অস্ত্রের মতো বিষয়গুলো কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এখন এআইর কারণে ছোট ছোট গোষ্ঠীও তা করার ক্ষমতা পাচ্ছে। সুতরাং সঠিক সরকারি সুরক্ষা নীতি না থাকলে এই ‘কুবুদ্ধি এবং এআইর মিশ্রণ’ আমাদের জন্য অনেক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এনবিসি: সাম্প্রতিক সময়ে এআই নিয়ে সবচেয়ে বড় খবর ছিল, ‘যারা এআই তৈরি করছেন, তারা নিজেরাও বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষের দিকে এটি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’ আপনি কি বিশ্বাস করেন, এআই পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী?

বিল গেটস: এআই অবশ্যই এমন ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা রাখে, যা শতকোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও পুরোপুরি ১০০ ভাগ ধ্বংস করা কঠিন, কিন্তু কুবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হাতে এই আধুনিক এআই টুলের চেয়ে শক্তিশালী কোনো অস্ত্র আর কখনোই ছিল না। এটা ভালো– ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকেও অনেকে তাদের নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে এ সত্যগুলো স্বীকার করছেন। কিন্তু সমস্যা হলো বাকি বিশ্ব হয় এটাকে অবহেলা করছে, নয়তো কেবল বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে। কীভাবে একে নিয়ন্ত্রণ করব, তা নিয়ে সব চিন্তাবিদ একসঙ্গে বসছেন না– এটি সত্যিই আশঙ্কাজনক।
এনবিসি: ওই হুইসেলব্লোয়ারের এমন সতর্কবার্তাকে মানুষের কীভাবে নেওয়া উচিত? এই মুহূর্তে কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?

বিল গেটস: অবশ্যই আমাদের নিকটবর্তী ঝুঁকিগুলো নিয়ে আগে কাজ করতে হবে। যেমন এআই ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার হামলা বা বড় স্কেলে মানুষকে প্রতারিত করার ক্ষমতা। এআইকে শুধু নিজের মতো চলতে না দিয়ে এর মধ্যে কড়া নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আপনি যদি নিরাপত্তা না রাখেন, তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পাওয়ার গ্রিড ডাউন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুই টের পাবে না। এটি খুবই জরুরি একটি কাজ।

এনবিসি: কেউ বলছেন, এআইতে একটি ‘কিল সুইচ’ থাকা দরকার। কেউ বলছেন, উন্নয়ন পুরোপুরি সাময়িক বন্ধ রাখা দরকার। আবার কেউ ভাবছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। আপনার মতে, এআই কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত?

বিল গেটস: দুর্ভাগ্যবশত অন্য যে কোনো বিপজ্জনক প্রযুক্তি (যেমন পারমাণবিক বোমা বা রকেট) সম্পর্কে সরকারগুলোর ধারণা ভালো ছিল। কারণ তারা সেখানে অর্থায়ন করত বা মূল খরিদ্দার ছিল। কিন্তু এআই এসেছে পুরোপুরি বেসরকারি খাত থেকে। এ বছর সাইবার হামলা বা জৈব অস্ত্রের যে বিপজ্জনক সীমানাগুলো এআই অতিক্রম করেছে, সে সম্পর্কে সরকারের অভিজ্ঞতা খুবই সামান্য। তা ছাড়া এটাকে জাতীয়তাবাদী ‘আমাদের বনাম তাদের’ লড়াই বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে অনেকেই বলছেন– সামনে এগিয়ে যাও, থামার দরকার নেই। কিন্তু প্রতিটি এআইতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখা হবে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। প্রশ্ন একটাই– আমরা কি তা এখনই করব? এর ফলে কাজের গতি কিন্তু তেমন একটা কমবে না। কারণ আমরা ইতোমধ্যে একটি সূচকীয় প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা তো সাধারণ বুদ্ধির বিষয়। কিন্তু মানুষ সাধারণত কঠিন সময়ে আমেরিকার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর সেখানে এখন তেমন কিছু না দেখে তারা কিছুটা বিভ্রান্ত।

এনবিসি: আপনি কি বলতে চাচ্ছেন, এসব সুরক্ষা বলয় কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত?

বিল গেটস: অবশ্যই। এটাই তো সবচেয়ে স্পষ্ট বিষয়। যেমন ‘অ্যানথ্রোপিক’ রিপোর্ট করেছে, মানুষ তাদের এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র বা টার্গেটিং সিস্টেম বানানোর চেষ্টা করছে। কম্বোডিয়ায় বসে বসে টাইপ করার দিন শেষ। এআই তার চেয়ে হাজার গুণ নিখুঁতভাবে জালিয়াতি করতে পারে। এই ঝুঁকিগুলো চোখের সামনে দৃশ্যমান। কারণ এর পেছনে বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ জড়িয়ে আছে। আমি পোলিও বা ম্যালেরিয়া নির্মূলের বাইরে এসে এ বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট কথা বলছি। কারণ আমি সত্যি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এত সীমা অতিক্রম করার পরও খোদ ইন্ডাস্ট্রির বাইরের মানুষ যেন বুঝতেই পারছে না– আসলে কী ঘটছে।

এনবিসি: সীমা অতিক্রম বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন যে কিছু এআই ব্যবস্থা অন্যান্য সিস্টেমে হ্যাক করতে সক্ষম হয়েছে?

বিল গেটস: না, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, চলতি বছরেই এআই ব্যবহার করে কোটি কোটি মানুষ মেরে ফেলার মতো জৈব অস্ত্রের ডিজাইন করা সম্ভব হচ্ছে। এআই দিয়ে কোডের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা ব্যাংকিং সিস্টেম অচল করা সম্ভব হচ্ছে। কুবুদ্ধির মানুষের
এসব না আটকালে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। তা ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে এটি সৃষ্টিকর্তার ধারণার চেয়েও বেশি স্বায়ত্তশাসিত হয়ে উঠছে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় খারাপ মানুষের অপব্যবহার রুখে দেওয়া। এআই নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এই মুহূর্তের মূল বিপদ নয়।

এনবিসি: কিছুদিন আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন– এআই পৃথিবী দখল করে নেবে, মানবজাতি ধ্বংস করবে– এসব খবর নাকি স্রেফ ভুয়া। আপনিও কি তাই মনে করেন?

বিল গেটস: না, এটি মোটেও ভুয়া নয়। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এমন হলেও তিনি মার্কিন জনগণকে রক্ষা করতে চাইবেন। বেশির ভাগ মানুষ যেহেতু সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো ব্যবহার করে দেখেননি; তাই তারা বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। কিন্তু আমার বা অন্যদের কথা শোনার পর এবং এটা বোঝার পর যে এতে দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না– আশা করি, তিনি একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় ঐকমত্যে আসবেন।

এনবিসি: সম্প্রতি বলেছেন, আপনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এআই নিয়ে কথা বলতে চান। এআই নিয়ে তাঁকে আপনার কী বার্তা থাকবে?

বিল গেটস: প্রযুক্তিতে আমার সারাজীবনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি তাঁকে বোঝাতে চাইব– এই বিষয় কতটা আলাদা ও উদ্বেগজনক। আশা করি, এটি শুনে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসবেন এবং সুরক্ষা বলয় কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করবেন। আমি তাঁকে পুরো কাজ থামিয়ে দেওয়ার কথা বলব না। বলব, প্রতিটি আমেরিকান এআইর ওপর যেন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি চীনও নিশ্চয় কোনো জৈব সন্ত্রাসী হামলা বা নিজস্ব নিয়ন্ত্রণহীন বড় আক্রমণ চাইবে না। তাই এটি দুই দেশের প্রতিযোগিতায় বড় প্রভাব ফেলবে না।

সূত্র:- সমকাল