ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান, চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের একের পর এক ‘ধাক্কা’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার এমপির নেতৃত্বে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ধ্বংসযজ্ঞ-মবতন্ত্র চলে: আসিফ মাহমুদ লাওসকে ৪-০ গোলে হারিয়ে হংকংয়ের দারুণ শুরু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,৪৪৯ মামলা জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭৮ জনের ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, আশা যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদা না দেওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, মালামাল লুট নিউইয়র্ক সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আত্মঘাতী গোলসহ পাকিস্তানের জালে ৪ গোল থাইল্যান্ডের

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস: বাংলাদেশ ও এশিয়ার ১০ বিস্ময় পর্যটন স্থান

সাংবাদিক

একসময় ভ্রমণ মানে ছিল নতুন জায়গা দেখা। এখন পর্যটন শুধু ঘোরাঘুরি নয়—এটি সংস্কৃতি, অর্থনীতি, স্থানীয় মানুষের জীবিকা, প্রকৃতি এবং প্রযুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বৈশ্বিক শিল্প। প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের তালিকাতেও দিনটি World Tourism Day হিসেবে স্বীকৃত।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য—“Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism”। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে পর্যটনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে, সেটিই এবারের মূল ভাবনা। জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে, AI এখন পর্যটকের গন্তব্য বাছাই, পর্যটন ব্যবসার পরিচালনা এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তৈরিতেও পরিবর্তন আনছে। এই দিবসে তাই একবার ফিরে দেখা যাক—বাংলাদেশে কোথায় কোথায় ঘুরে আসা যায়, এশিয়ার কোন গন্তব্যগুলো বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি টানে কোন শহর?

বাংলাদেশের পর্যটনের ১০ আকর্ষণীয় গন্তব্য: বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এর পর্যটন বৈচিত্র্য বেশ বড়। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও গ্রামীণ প্রকৃতি—সবই আছে।

ছবি: সংগৃহীত

১. কক্সবাজার

বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সমুদ্রের ঢেউ, পাহাড় ও সামুদ্রিক খাবারের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

২. সুন্দরবন

বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলোর একটি সুন্দরবন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, হরিণ, অসংখ্য পাখি ও জোয়ার-ভাটার নদী-খালের জটিল জগত একে অনন্য করে তুলেছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের সুন্দরবন UNESCO World Heritage Site হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

৩. সেন্ট মার্টিন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত সেন্ট মার্টিনের নীল পানি, নারকেলগাছ ও সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

৪. সাজেক: পাহাড়ের ওপর মেঘ, সবুজ উপত্যকা ও পাহাড়ি জনপদের জীবন—সাজেক তরুণ পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।

৫. বান্দরবান: পাহাড়, ঝরনা, মেঘ ও আদিবাসী সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের জন্য বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পাহাড়ি পর্যটন এলাকা।

৬. রাঙামাটি: কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও নৌভ্রমণের সমন্বয়ে রাঙামাটি তৈরি করেছে ভিন্ন ধরনের পর্যটন অভিজ্ঞতা।

৭. কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার সুযোগের জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এটিকে বিশেষ সমুদ্রসৈকত হিসেবে তুলে ধরেছে।

৮. শ্রীমঙ্গল: চা-বাগান, সবুজ পাহাড়, বন ও শান্ত পরিবেশের জন্য শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা।

৯. পাহাড়পুর: নওগাঁর পাহাড়পুরে রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। UNESCO-এর মতে, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-ইসলামিক স্থাপনাগুলোর একটি এবং ১৯৮৫ সালে World Heritage List-এ অন্তর্ভুক্ত হয়।

১০. বাগেরহাট: ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী বাগেরহাট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক গন্তব্য। এটিও ১৯৮৫ সালে UNESCO World Heritage List-এ স্থান পায়।

এশিয়ার বিখ্যাত ১০ পর্যটন গন্তব্য:

এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যময় পর্যটন অঞ্চল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আধুনিক নগর, দ্বীপ, পাহাড় ও ধর্মীয় স্থাপনা—সবই রয়েছে এখানে।

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের টোকিও, আধুনিক শহর, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির জন্য বিশ্বের সকল পর্যটকের পছন্দের স্থান।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক, মন্দির, খাবার, রাতের শহর ও শপিং এর জন্য বিখ্যাত।
ইন্দোনেশিয়ার বালি, এখানকার সমুদ্র, মন্দির ও প্রকৃতি ভ্রমনপ্রিয়াসুদের সারা বছর আমন্ত্রণ জানায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আধুনিক স্থাপত্য ও বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য বিখ্যাত এটি।
সিঙ্গাপুরের আধুনিক নগর, উদ্যান ও বিনোদন স্থান ভ্রমনের ইচ্ছা থাকে সকল পর্যটকের।
জাপানের কিয়োটো হলো ঐতিহ্যবাহী জাপানি সংস্কৃতি ও মন্দিরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
চীনের সর্বত্তই ভ্রমন করা যায়। তবে এদের মধ্যে হংকং আকাশচুম্বী ভবন, বন্দর ও নগরজীবনের জন্য উল্লেখযোগ্য।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের K-culture, প্রযুক্তি ও ঐতিহ্য সারা বছর নতুন নতুন পর্যটকদের আমন্ত্রণ করে।
মালদ্বীপ ইসলাম প্রধান দেশ হলেও ,এর পর্যটন খাত অনেক উন্নত। প্রবালদ্বীপ, নীল সমুদ্র ও রিসোর্টগুলো ভ্রমন প্রিয় মানুষের প্রথম পছন্দের স্থান।
ভারতে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে নানা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও মন্দির রয়েছে। তবে,  আগ্রার তাজমহল দেখার ইচ্ছা সকলের স্বপ্নের মত।

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর পর্যটকদের পছন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—“বিশ্বের এক নম্বর পর্যটনস্থান” নির্ধারণের একক কোনো বৈশ্বিক মাপকাঠি নেই। কোন তালিকা কী মাপছে—আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন, সামগ্রিক আকর্ষণ, অবকাঠামো, সংস্কৃতি নাকি পর্যটন-অভিজ্ঞতা—তার ওপর ফল বদলে যায়।

তবে Euromonitor International-এর ২০২৫ Top 100 City Destinations Index অনুযায়ী, প্যারিস বিশ্বের শীর্ষ শহর পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। টানা পঞ্চম বছর প্যারিস এই অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে শহরটিতে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনও হয়েছে বলে Euromonitor জানিয়েছে।

Euromonitor-এর একই গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের সংখ্যায় ব্যাংকক ২০২৫ সালে শীর্ষে ছিল—প্রায় ৩ কোটি আন্তর্জাতিক আগমন নিয়ে। হংকং ছিল দ্বিতীয়।
অর্থাৎ সহজ করে বললে—সামগ্রিক City Destination Index-এর ১ নম্বর: প্যারিস। আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের সংখ্যায় ১ নম্বর: ব্যাংকক।

ছবি: সংগৃহীত

তাই “পৃথিবীর পর্যটকদের পছন্দের এক নম্বর” বলতে প্যারিস বললে সেটি Euromonitor-এর সামগ্রিক গন্তব্য সূচকের ভিত্তিতে সঠিক; আর সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক আগমন বোঝালে উত্তর ব্যাংকক। এই পার্থক্যটি প্রতিবেদনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

একজন পর্যটক যখন একটি নতুন দেশে যান, তিনি শুধু একটি জায়গা দেখেন না। তিনি স্থানীয় খাবার খান, হোটেলে থাকেন, পরিবহন ব্যবহার করেন, স্থানীয় গাইড নেন, স্মারক কেনেন—ফলে তার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় বহু মানুষের আয়।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের ২০২৬ সালের বার্তাতেও প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ছোট ব্যবসা ও পর্যটনকর্মীদের উপকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্যও এখানেই বড় সম্ভাবনা। কক্সবাজারের সমুদ্র, সুন্দরবনের বন্য প্রকৃতি, পাহাড়ি এলাকার বৈচিত্র্য, চা-বাগান কিংবা হাজার বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন—প্রতিটি গন্তব্যের আলাদা গল্প আছে।

পর্যটনের ভবিষ্যৎ তাই শুধু “কোথায় যাব?” নয়; বরং “কীভাবে যাব, কী দেখব এবং সেই ভ্রমণে স্থানীয় মানুষ ও প্রকৃতির কতটা উপকার হবে?”—এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৪ Time View

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস: বাংলাদেশ ও এশিয়ার ১০ বিস্ময় পর্যটন স্থান

আপডেটের সময় : ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় ভ্রমণ মানে ছিল নতুন জায়গা দেখা। এখন পর্যটন শুধু ঘোরাঘুরি নয়—এটি সংস্কৃতি, অর্থনীতি, স্থানীয় মানুষের জীবিকা, প্রকৃতি এবং প্রযুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বৈশ্বিক শিল্প। প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের তালিকাতেও দিনটি World Tourism Day হিসেবে স্বীকৃত।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য—“Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism”। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে পর্যটনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে, সেটিই এবারের মূল ভাবনা। জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে, AI এখন পর্যটকের গন্তব্য বাছাই, পর্যটন ব্যবসার পরিচালনা এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তৈরিতেও পরিবর্তন আনছে। এই দিবসে তাই একবার ফিরে দেখা যাক—বাংলাদেশে কোথায় কোথায় ঘুরে আসা যায়, এশিয়ার কোন গন্তব্যগুলো বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি টানে কোন শহর?

বাংলাদেশের পর্যটনের ১০ আকর্ষণীয় গন্তব্য: বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এর পর্যটন বৈচিত্র্য বেশ বড়। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও গ্রামীণ প্রকৃতি—সবই আছে।

ছবি: সংগৃহীত

১. কক্সবাজার

বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সমুদ্রের ঢেউ, পাহাড় ও সামুদ্রিক খাবারের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

২. সুন্দরবন

বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলোর একটি সুন্দরবন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, হরিণ, অসংখ্য পাখি ও জোয়ার-ভাটার নদী-খালের জটিল জগত একে অনন্য করে তুলেছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের সুন্দরবন UNESCO World Heritage Site হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

৩. সেন্ট মার্টিন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত সেন্ট মার্টিনের নীল পানি, নারকেলগাছ ও সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

৪. সাজেক: পাহাড়ের ওপর মেঘ, সবুজ উপত্যকা ও পাহাড়ি জনপদের জীবন—সাজেক তরুণ পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।

৫. বান্দরবান: পাহাড়, ঝরনা, মেঘ ও আদিবাসী সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের জন্য বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পাহাড়ি পর্যটন এলাকা।

৬. রাঙামাটি: কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও নৌভ্রমণের সমন্বয়ে রাঙামাটি তৈরি করেছে ভিন্ন ধরনের পর্যটন অভিজ্ঞতা।

৭. কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার সুযোগের জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এটিকে বিশেষ সমুদ্রসৈকত হিসেবে তুলে ধরেছে।

৮. শ্রীমঙ্গল: চা-বাগান, সবুজ পাহাড়, বন ও শান্ত পরিবেশের জন্য শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা।

৯. পাহাড়পুর: নওগাঁর পাহাড়পুরে রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। UNESCO-এর মতে, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-ইসলামিক স্থাপনাগুলোর একটি এবং ১৯৮৫ সালে World Heritage List-এ অন্তর্ভুক্ত হয়।

১০. বাগেরহাট: ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী বাগেরহাট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক গন্তব্য। এটিও ১৯৮৫ সালে UNESCO World Heritage List-এ স্থান পায়।

এশিয়ার বিখ্যাত ১০ পর্যটন গন্তব্য:

এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যময় পর্যটন অঞ্চল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আধুনিক নগর, দ্বীপ, পাহাড় ও ধর্মীয় স্থাপনা—সবই রয়েছে এখানে।

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের টোকিও, আধুনিক শহর, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির জন্য বিশ্বের সকল পর্যটকের পছন্দের স্থান।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক, মন্দির, খাবার, রাতের শহর ও শপিং এর জন্য বিখ্যাত।
ইন্দোনেশিয়ার বালি, এখানকার সমুদ্র, মন্দির ও প্রকৃতি ভ্রমনপ্রিয়াসুদের সারা বছর আমন্ত্রণ জানায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আধুনিক স্থাপত্য ও বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য বিখ্যাত এটি।
সিঙ্গাপুরের আধুনিক নগর, উদ্যান ও বিনোদন স্থান ভ্রমনের ইচ্ছা থাকে সকল পর্যটকের।
জাপানের কিয়োটো হলো ঐতিহ্যবাহী জাপানি সংস্কৃতি ও মন্দিরের অন্যতম দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
চীনের সর্বত্তই ভ্রমন করা যায়। তবে এদের মধ্যে হংকং আকাশচুম্বী ভবন, বন্দর ও নগরজীবনের জন্য উল্লেখযোগ্য।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের K-culture, প্রযুক্তি ও ঐতিহ্য সারা বছর নতুন নতুন পর্যটকদের আমন্ত্রণ করে।
মালদ্বীপ ইসলাম প্রধান দেশ হলেও ,এর পর্যটন খাত অনেক উন্নত। প্রবালদ্বীপ, নীল সমুদ্র ও রিসোর্টগুলো ভ্রমন প্রিয় মানুষের প্রথম পছন্দের স্থান।
ভারতে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে নানা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও মন্দির রয়েছে। তবে,  আগ্রার তাজমহল দেখার ইচ্ছা সকলের স্বপ্নের মত।

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর পর্যটকদের পছন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—“বিশ্বের এক নম্বর পর্যটনস্থান” নির্ধারণের একক কোনো বৈশ্বিক মাপকাঠি নেই। কোন তালিকা কী মাপছে—আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন, সামগ্রিক আকর্ষণ, অবকাঠামো, সংস্কৃতি নাকি পর্যটন-অভিজ্ঞতা—তার ওপর ফল বদলে যায়।

তবে Euromonitor International-এর ২০২৫ Top 100 City Destinations Index অনুযায়ী, প্যারিস বিশ্বের শীর্ষ শহর পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। টানা পঞ্চম বছর প্যারিস এই অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে শহরটিতে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনও হয়েছে বলে Euromonitor জানিয়েছে।

Euromonitor-এর একই গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের সংখ্যায় ব্যাংকক ২০২৫ সালে শীর্ষে ছিল—প্রায় ৩ কোটি আন্তর্জাতিক আগমন নিয়ে। হংকং ছিল দ্বিতীয়।
অর্থাৎ সহজ করে বললে—সামগ্রিক City Destination Index-এর ১ নম্বর: প্যারিস। আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের সংখ্যায় ১ নম্বর: ব্যাংকক।

ছবি: সংগৃহীত

তাই “পৃথিবীর পর্যটকদের পছন্দের এক নম্বর” বলতে প্যারিস বললে সেটি Euromonitor-এর সামগ্রিক গন্তব্য সূচকের ভিত্তিতে সঠিক; আর সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক আগমন বোঝালে উত্তর ব্যাংকক। এই পার্থক্যটি প্রতিবেদনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

একজন পর্যটক যখন একটি নতুন দেশে যান, তিনি শুধু একটি জায়গা দেখেন না। তিনি স্থানীয় খাবার খান, হোটেলে থাকেন, পরিবহন ব্যবহার করেন, স্থানীয় গাইড নেন, স্মারক কেনেন—ফলে তার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় বহু মানুষের আয়।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের ২০২৬ সালের বার্তাতেও প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ছোট ব্যবসা ও পর্যটনকর্মীদের উপকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্যও এখানেই বড় সম্ভাবনা। কক্সবাজারের সমুদ্র, সুন্দরবনের বন্য প্রকৃতি, পাহাড়ি এলাকার বৈচিত্র্য, চা-বাগান কিংবা হাজার বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন—প্রতিটি গন্তব্যের আলাদা গল্প আছে।

পর্যটনের ভবিষ্যৎ তাই শুধু “কোথায় যাব?” নয়; বরং “কীভাবে যাব, কী দেখব এবং সেই ভ্রমণে স্থানীয় মানুষ ও প্রকৃতির কতটা উপকার হবে?”—এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।