ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান, চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের একের পর এক ‘ধাক্কা’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার এমপির নেতৃত্বে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ধ্বংসযজ্ঞ-মবতন্ত্র চলে: আসিফ মাহমুদ লাওসকে ৪-০ গোলে হারিয়ে হংকংয়ের দারুণ শুরু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,৪৪৯ মামলা জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭৮ জনের ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, আশা যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদা না দেওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, মালামাল লুট নিউইয়র্ক সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আত্মঘাতী গোলসহ পাকিস্তানের জালে ৪ গোল থাইল্যান্ডের

ইরান, চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের একের পর এক ‘ধাক্কা’

সাংবাদিক

ইরান, চীন ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যুতেই সাম্প্রতিক সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা থাকলেও সেই চাপকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর করতে ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুমকির মাত্রা বাড়ানো মানেই রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা বাড়া নয়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন স্পষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ফল অর্জন করতে পারেনি। যুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা গ্রহণ করেননি। ফলে তেহরানকে ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন চাপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে দেশটির অনেক ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রও প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পৃক্ত হয়নি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক প্রভাব শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন এবং তাদের সমর্থন আদায় করাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চীনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের দৃশ্যমান ফলাফল মূলত দুই দেশের বাণিজ্যবিরতি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

তাইওয়ান, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। সরাসরি বৈঠক হলেও এসব বিরোধের কোনোটি চূড়ান্তভাবে সমাধান হয়নি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কোনো হাতিয়ার নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো—এসব ক্ষমতাকে কতটা কার্যকরভাবে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ফলাফলে রূপ দেওয়া যাচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প একাধিকবার এই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মস্কো ও কিয়েভকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটনের বিভিন্ন প্রচেষ্টা, এমনকি জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ও উল্লেখযোগ্য ফল বয়ে আনেনি।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েরই নিজস্ব স্বার্থ ও হিসাব রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ওয়াশিংটনের চাপের মাধ্যমে দুই পক্ষকে চূড়ান্ত সমাধান মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভব হচ্ছে না বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরান, চীন ও ইউক্রেন—এই তিনটি ইস্যুর দিকে তাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির একটি বিষয় স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। তবে চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা এবং সেই চাপকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত, চীনের সঙ্গে মৌলিক বিরোধগুলো অমীমাংসিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন শক্তির প্রভাব ও তার বাস্তব ফলাফলের মধ্যে থাকা ব্যবধানকে সামনে এনেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৬ Time View

ইরান, চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের একের পর এক ‘ধাক্কা’

আপডেটের সময় : ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান, চীন ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যুতেই সাম্প্রতিক সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা থাকলেও সেই চাপকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর করতে ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুমকির মাত্রা বাড়ানো মানেই রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা বাড়া নয়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন স্পষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ফল অর্জন করতে পারেনি। যুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা গ্রহণ করেননি। ফলে তেহরানকে ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন চাপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে দেশটির অনেক ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রও প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পৃক্ত হয়নি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক প্রভাব শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন এবং তাদের সমর্থন আদায় করাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চীনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের দৃশ্যমান ফলাফল মূলত দুই দেশের বাণিজ্যবিরতি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

তাইওয়ান, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। সরাসরি বৈঠক হলেও এসব বিরোধের কোনোটি চূড়ান্তভাবে সমাধান হয়নি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কোনো হাতিয়ার নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো—এসব ক্ষমতাকে কতটা কার্যকরভাবে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ফলাফলে রূপ দেওয়া যাচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প একাধিকবার এই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মস্কো ও কিয়েভকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটনের বিভিন্ন প্রচেষ্টা, এমনকি জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ও উল্লেখযোগ্য ফল বয়ে আনেনি।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েরই নিজস্ব স্বার্থ ও হিসাব রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ওয়াশিংটনের চাপের মাধ্যমে দুই পক্ষকে চূড়ান্ত সমাধান মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভব হচ্ছে না বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরান, চীন ও ইউক্রেন—এই তিনটি ইস্যুর দিকে তাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির একটি বিষয় স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। তবে চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা এবং সেই চাপকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত, চীনের সঙ্গে মৌলিক বিরোধগুলো অমীমাংসিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন শক্তির প্রভাব ও তার বাস্তব ফলাফলের মধ্যে থাকা ব্যবধানকে সামনে এনেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।