ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতেই ঢাকায় ইউএসবিবিসি : রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন গৌরীপুরে মাস্টার মেসের মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন- ১৬ বাংলাদেশির মৃত্য এসএসসির ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ গাজীপুরে যুবদল নেতার ওপর সশস্ত্র হামলা, আহত ২: বিএনপির তীব্র নিন্দা কলমাকান্দায় আদিবাসী দিবস পালন কোটালীপাড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ নারীরা নেতৃত্বের সুযোগ পেলে শক্তিশালী হবে দেশের ভবিষ্যৎ গোপালগঞ্জ জেলা বিটিএসএফের কমিটি ঘোষণা সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মুনের বাজিমাত, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীসহ ৫ ক্যাটাগরিতে সেরা

ঐতিহ্যের উচ্ছ্বাসে মুখরিত বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের পিঠা উৎসব

হালিম সৈকত, কুমিল্লা

হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী আমরা। খাদ্য রসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি যেন শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ও মনে ভেসে ওঠে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।
বাংলার নারী সমাজ অতীতে শিক্ষা দীক্ষায় অনগ্রসর ছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়।


শীতের সময় বাহারি পিঠার উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঠার ঐতিহ্য। সময়ের স্রোত গড়িয়ে লোকজ এই শিল্প আবহমান বাংলার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও এ যুগে সামাজিকতার ক্ষেত্রে পিঠার প্রচলন অনেকটাই কমে এসেছে।
তাই মুখরোচক খাবার হিসেবে পিঠার স্বাদ গ্রহণ ও জনসমক্ষে একে আরো পরিচিত করে তুলতে শহরে ও গ্রামে বিভিন্ন স্থানে শীতকে ঘিরে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। লোকজ এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে বাঙালির পিঠা পার্বণের আনন্দধারায় বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছে পিঠা উৎসব।
শীতের পিঠা-পুলিসহ নানা অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় পিঠার পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে পিঠা উৎসবে অংশ নেয়া স্টলগুলো।

পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিতাস উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
উদ্বোধন করেন বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি সেলিম সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তিতাস উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ খাজা মঈনুদ্দিন, একাডেমিক সুপার ভাইজার সারজিনা আক্তার।
সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রোমেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন, নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান হানিফ, বাতেন সরকার, ছবির আহমেদ মেম্বার, আদিলুর রহমান, আনিছুর রহমান, হুমায়ূন কবির সরকার, বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক মোঃ কামাল পারভেজ।

পরিচালনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন, বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও প্রভাষক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া।

এবার ৮টি স্টলে নানা ধরণের পিঠার সন্ধান মিলেছে। সব মিলিয়ে পিঠা উৎসবকে ঘিরে স্কুল প্রাঙ্গণে ছিলো ছাত্রী,শিক্ষক ও অভিভাবকে মুখরিত।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৩৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
৭৭৪ Time View

ঐতিহ্যের উচ্ছ্বাসে মুখরিত বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের পিঠা উৎসব

আপডেটের সময় : ০৩:৩৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী আমরা। খাদ্য রসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি যেন শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ও মনে ভেসে ওঠে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।
বাংলার নারী সমাজ অতীতে শিক্ষা দীক্ষায় অনগ্রসর ছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়।


শীতের সময় বাহারি পিঠার উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঠার ঐতিহ্য। সময়ের স্রোত গড়িয়ে লোকজ এই শিল্প আবহমান বাংলার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও এ যুগে সামাজিকতার ক্ষেত্রে পিঠার প্রচলন অনেকটাই কমে এসেছে।
তাই মুখরোচক খাবার হিসেবে পিঠার স্বাদ গ্রহণ ও জনসমক্ষে একে আরো পরিচিত করে তুলতে শহরে ও গ্রামে বিভিন্ন স্থানে শীতকে ঘিরে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। লোকজ এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে বাঙালির পিঠা পার্বণের আনন্দধারায় বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছে পিঠা উৎসব।
শীতের পিঠা-পুলিসহ নানা অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় পিঠার পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে পিঠা উৎসবে অংশ নেয়া স্টলগুলো।

পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিতাস উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
উদ্বোধন করেন বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি সেলিম সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তিতাস উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ খাজা মঈনুদ্দিন, একাডেমিক সুপার ভাইজার সারজিনা আক্তার।
সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রোমেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন, নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান হানিফ, বাতেন সরকার, ছবির আহমেদ মেম্বার, আদিলুর রহমান, আনিছুর রহমান, হুমায়ূন কবির সরকার, বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক মোঃ কামাল পারভেজ।

পরিচালনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন, বেগম রোকেয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও প্রভাষক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া।

এবার ৮টি স্টলে নানা ধরণের পিঠার সন্ধান মিলেছে। সব মিলিয়ে পিঠা উৎসবকে ঘিরে স্কুল প্রাঙ্গণে ছিলো ছাত্রী,শিক্ষক ও অভিভাবকে মুখরিত।