ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জিয়ানগরে জামায়াতের অর্থায়নে ইটসলিং রাস্তা নির্মাণ উদ্বোধন ফরিদগঞ্জ আষ্টা মহামায়া পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডক কমিটির সভাপতি ডা: আবুল কালাম আজাদ। ফরিদগঞ্জ আষ্টা মহামায়া পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডক কমিটির সভাপতি ডা: আবুল কালাম আজাদ। কুয়াকাটাগামী ডাবল ডেকার বাস পুকুরে, ১৫ যাত্রী আহত বুয়েট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মারা গেছেন লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়বে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বাণী বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ কুমিল্লা দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা পেলো বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা!

কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ নেই, ক্ষোভ সাংবাদিক মহলে

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষের সামনে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি দপ্তরের ভেতরে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হন সাংবাদিক কালাম তালুকদার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও উপজেলা প্রশাসন এখনো কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সরকারি ওই অনুষ্ঠানের সভায় ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই সভাকক্ষের বাইরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষের সামনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে হেনস্থা ও মারধর করে। ঘটনার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোটালীপাড়া উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি দপ্তরের ভেতরে যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে নিরাপত্তা পাবে? প্রশাসনের উচিত তাদের পক্ষ থেকেও মামলা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটাতে কেউ সাহস পাবে না।
গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত শিরালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দপ্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর হলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়। অথচ ওই অফিসে থাকা অবস্থায় তারই আহ্বানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হলেন। সাংবাদিক অভিযোগ করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এক ধরনের গাফিলতি।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন এখনো আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ১২ মার্চ কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক কালাম তালুকদার। সভা চলাকালে তিনি কক্ষ থেকে বের হলে কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

# মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, ১৩.০৩.২০২৬

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
৬৪৮ Time View

কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ নেই, ক্ষোভ সাংবাদিক মহলে

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষের সামনে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি দপ্তরের ভেতরে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হন সাংবাদিক কালাম তালুকদার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও উপজেলা প্রশাসন এখনো কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সরকারি ওই অনুষ্ঠানের সভায় ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই সভাকক্ষের বাইরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষের সামনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে হেনস্থা ও মারধর করে। ঘটনার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোটালীপাড়া উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি দপ্তরের ভেতরে যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে নিরাপত্তা পাবে? প্রশাসনের উচিত তাদের পক্ষ থেকেও মামলা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটাতে কেউ সাহস পাবে না।
গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত শিরালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দপ্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর হলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়। অথচ ওই অফিসে থাকা অবস্থায় তারই আহ্বানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হলেন। সাংবাদিক অভিযোগ করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এক ধরনের গাফিলতি।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন এখনো আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ১২ মার্চ কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক কালাম তালুকদার। সভা চলাকালে তিনি কক্ষ থেকে বের হলে কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

# মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, ১৩.০৩.২০২৬