ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আটক আনাসকে ছেড়ে দিয়েছে এসআরবি আশুলিয়ায় সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে আগুন, নিহত ১ আহত ১৭ কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসে পুলিশের অভিযান; ২০ হাজার ইয়াবাসহ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় সংসদ সদস্যের ছেলে-ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৮ নেতাকর্মী বহিষ্কার, ১ জনকে শোকজ আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ থেকে আগুন স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে বন বিভাগের নামে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মকর্তা সাব্বিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে বন বিভাগের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসও সাব্বিরের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগে পুরো এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় এসও সাব্বিরের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন কেটে দেন এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে ভয় পান। পরে গোপন অনুসন্ধানে কয়েকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিস্ফোরক তথ্য দেন। তাদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী জানান, বসতঘর নির্মাণের অনুমতি পেতে তাকে এসও সাব্বিরকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরই তিনি ঘর নির্মাণের সুযোগ পান বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়াও গোপন সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের গাছ অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গেও এই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সরাসরি অপচয় ও আইন লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে, বন বিভাগের চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক চালক জানান, চেকপোস্ট অতিক্রম করতে হলে তাকে নিয়মিত ৫৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে হয়রানি ও অশালীন আচরণের শিকার হতে হয়।
চেকপোস্টে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কার্তিকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ক্যামেরা দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন এবং কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অনুসন্ধানী টিম যখন এসও সাব্বিরের অফিসে যায়, তখন তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি মাসে সাংবাদিকদের প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করা হয়।
এই অভিযোগগুলো জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—যদি কোনো অনিয়ম না থাকে, তাহলে নিয়মিত এ ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন কেন?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনুসন্ধানী টিমকেও অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়, যা দুর্নীতির গভীরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপের ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
(চলবে… পরবর্তী পর্বে থাকছে ভিডিওসহ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য)

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
৬৭৩ Time View

গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে বন বিভাগের নামে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মকর্তা সাব্বিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

আপডেটের সময় : ১২:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে বন বিভাগের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসও সাব্বিরের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগে পুরো এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় এসও সাব্বিরের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন কেটে দেন এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে ভয় পান। পরে গোপন অনুসন্ধানে কয়েকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিস্ফোরক তথ্য দেন। তাদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী জানান, বসতঘর নির্মাণের অনুমতি পেতে তাকে এসও সাব্বিরকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরই তিনি ঘর নির্মাণের সুযোগ পান বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়াও গোপন সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের গাছ অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গেও এই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সরাসরি অপচয় ও আইন লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে, বন বিভাগের চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক চালক জানান, চেকপোস্ট অতিক্রম করতে হলে তাকে নিয়মিত ৫৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে হয়রানি ও অশালীন আচরণের শিকার হতে হয়।
চেকপোস্টে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কার্তিকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ক্যামেরা দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন এবং কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অনুসন্ধানী টিম যখন এসও সাব্বিরের অফিসে যায়, তখন তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি মাসে সাংবাদিকদের প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করা হয়।
এই অভিযোগগুলো জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—যদি কোনো অনিয়ম না থাকে, তাহলে নিয়মিত এ ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন কেন?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনুসন্ধানী টিমকেও অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়, যা দুর্নীতির গভীরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপের ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
(চলবে… পরবর্তী পর্বে থাকছে ভিডিওসহ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য)