ছেলের বৌ-ভাতের জন্য গরু চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার বাবা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গরু চুরি করে সেই মাংস দিয়ে ছেলের বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (৫২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চুরি হওয়া গরুর মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের পশ্চিম মাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মাস্তা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের কালো রঙের একটি ক্রস জাতের গাভি গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘরের দরজা খোলা।
পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গরুটির সন্ধানে বের হন শহিদুল। বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পান তারা। সেই ছাপ অনুসরণ করে পাশের বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বিয়ের গেট দিয়ে সাজানো বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে চুরি হওয়া গরুটি জবাই করে মাংস কাটার দৃশ্য দেখতে পান শহিদুল ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন।
এ সময় গরুর মালিক ও তার ভাতিজা আনারুলের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ছেলের বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানের জন্য কিনে আনা গরু তিনি জবাই করেছেন। একপর্যায়ে গরুর মাথা ও চামড়া দেখতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্তদের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনারুলের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতে কাটা জখম হয়।
পরে রফিকুল ইসলামের বাড়ির একটি চটের বস্তার ভেতর থেকে গরুর মাথা ও চামড়া উদ্ধার করেন শহিদুলের সঙ্গে থাকা লোকজন। এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়।
আহত আনারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের সদস্য জাহিদ হাসান।
মামলায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন একই গ্রামের সোহান (২৩), রাব্বি (২১) ও শফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক।
গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একটি মাত্র গাভি ছিল। বাছুরটিকে রেখে গাভিটি চুরি করে নিয়ে ওরা বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। আমি সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
রোববার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে আটক করা হয়েছে। বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’






















আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি, এজলাসে হট্টগোল-বাইরে হাতাহাতি