ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের

সাংবাদিক

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যার কারণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। অটোরিকশাচালক সুমন জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানাতে চায় না পুলিশ।

ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত

পুলিশের দাবি, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেতে তাজমিনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক সুমন তাঁকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সুমন একাই জড়িত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাতে বাস থেকে নেমে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন। গভীর রাতে তাঁকে একা পেয়ে চালক শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন অটোরিকশা থেকেই বাবার কাছে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠান এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুরের একটি ধানখেতে যায়। সেখানে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েও রক্ষা পাননি তাজমিন।

গভীর রাতে বাবাকে পাঠান লোকেশন

পরিবার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমিন তাঁর বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তাঁর বাবা বার্তাটি দেখতে পারেননি।

এর আগে ওই রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাজমিনকে সর্বশেষ দেখা যায় বলে জানা গেছে।

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করে পুলিশ।

যশোরের মেয়ে তাজমিন, থাকতেন কুমিল্লায়

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আর স্কুলে যাচ্ছিলেন না।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তাজমিন। এরপর তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল ও আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:২৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৫২১ Time View

তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের

আপডেটের সময় : ১০:২৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যার কারণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। অটোরিকশাচালক সুমন জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানাতে চায় না পুলিশ।

ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত

পুলিশের দাবি, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেতে তাজমিনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক সুমন তাঁকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সুমন একাই জড়িত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাতে বাস থেকে নেমে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন। গভীর রাতে তাঁকে একা পেয়ে চালক শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন অটোরিকশা থেকেই বাবার কাছে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠান এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুরের একটি ধানখেতে যায়। সেখানে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েও রক্ষা পাননি তাজমিন।

গভীর রাতে বাবাকে পাঠান লোকেশন

পরিবার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমিন তাঁর বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তাঁর বাবা বার্তাটি দেখতে পারেননি।

এর আগে ওই রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাজমিনকে সর্বশেষ দেখা যায় বলে জানা গেছে।

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করে পুলিশ।

যশোরের মেয়ে তাজমিন, থাকতেন কুমিল্লায়

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আর স্কুলে যাচ্ছিলেন না।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তাজমিন। এরপর তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল ও আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।