রাজধানী ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটকের সামনে থেকে জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন। এছাড়াও ঢাকার প্রতিটি প্রবেশ-বাহির পথে চেকপোস্ট বাড়িয়ে তল্লাশির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক দুই জঙ্গির ছবি সব থানায়ও পাঠানো হয়েছে।

পলাতক আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুরের মইনুল হাসান শামীম ও লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার ভেটেশ্বর গ্রামের আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব। তারা জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।

রোববার দুপুরে ডিএমপি সদরদপ্তর থেকে ঢাকার সব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি বিভিন্ন চেকপোস্টে সন্দেহভাজনদের যান থামিয়ে তল্লাশির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মনজুর রহমান বলেন, এরইমধ্যে জঙ্গিদের ধরতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, কিছু জায়গায় চেকপোস্ট বসানোর কার্যক্রম চলছে। ডিএমপি থেকে এরইমধ্যে এধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ডিএমপির নির্দেশনা পাওয়ার পর ঢাকার আশপাশের জেলার নৌপথেও নজরদারি করছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন-অর রশীদ বলেন, আমরা শুনেছি আদালতের গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চোখে স্প্রে করে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে অপর জঙ্গিরা। চার জন জঙ্গি মোটরসাইকেল করে আদালতে এসে দুই জনকে ছিনিয়ে নেয় পুলিশের চোখে স্প্রে মেরে। চোখে স্প্রে করার কারণে দায়িত্বরতরা কিছু দেখতে পারেনি।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপর আমরা ঢাকা শহরের চেকপোস্ট বসিয়েছি। আমাদের ডিবির প্রত্যেকটা টিম কাজ করছে। আশা করছি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারবো। জঙ্গিরা বিভিন্ন কৌশল করে কাজ করে। এবার তারা নতুন একটি কৌশল নিয়েছে, স্প্রে মেরে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মাদপুর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আজ হাজিরা ছিল ওই দুই আসামির। এসময় পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আরও ৪ জঙ্গি জড়িত। তারা দুটি মোটরসাইকেল করে আদালতে এসেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ৮ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ৫৩ পৃষ্ঠার ওই আদেশে মইনুল ও আবু সিদ্দকের নামও ছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x