ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৩৮ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে, বাসররাতেই বরের মৃত্যু এশিয়া কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান প্রবাসী ভোটিংয়ে বাংলাদেশ মডেল অনুসরণের কথা ভাবছে নেপাল পেটে গজ রেখে সেলাই, চার মাস পর বীথির মৃত্যু দুই মাসের মধ্যে ১ হাজার খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ থাকতেই সরে দাঁড়ালেন আহমেদ ইসমেত, বিডিবিএলের নতুন চেয়ারম্যান হালিম চৌধুরী মহাখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন বরিশাল কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির হাসপাতালে মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও চীন-ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভাইরাল অডিওর কণ্ঠ সাবেক ওসি রাকিবুলের: ডিবি

বিদ্যুৎহীন সাইকেলে ব্যয়াম, কাপড় হবে পরিস্কার

সাংবাদিক

পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি, পড়াশোনার চাপ আর ঘরের কাজ, সবকিছুর মধ্যে থেকেও সমস্যাকে ভয় না পেয়ে তার সমাধান খুঁজে নিয়েছিল ভারতের কেরালের এক কিশোরী। বয়স মাত্র ১৪।

এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের জামাকাপড় কাচার কাজ করতে হচ্ছিল তাকে এবং তার যমজ বোনকে। সেই কাজেই সময় নষ্ট হচ্ছিল অনেকটা। আর সেখান থেকেই মাথায় আসে অভিনব এক ভাবনা। সাধারণ একটি সাইকেলকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলল বিদ্যুৎ ছাড়াই চলা ওয়াশিং মেশিন।

কিশোরীর নাম রেম্যা জোসে। কেরালার মালাপ্পুরম জেলার কিঝাট্টুরের বাসিন্দা রেমার পরিবারের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তার মা অসুস্থ,  বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত। যে কারণে বাড়ির বেশ কিছু দায়িত্ব এসে পড়েছে দুই বোনের উপর৷ প্রায় ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় স্কুলে।

জামাকাপড় কাচার জন্য কোনও ওয়াশিং মেশিন নেই। ফলে হাতেই কাপড় কাচতে হয়। এই কাজে ব্যয় হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই সমস্যার সমাধানে বৈদ্যুতিক ওয়াশিং মেশিন কীভাবে কাজ করে তা লক্ষ্য করেছিল রেমা। মেশিনের ভিতরে ড্রাম ঘোরার বিষয়টি তার মাথায় থেকে যায়। এরপর ভাবতে শুরু করে, বিদ্যুতের বদলে যদি মানুষের শক্তি ব্যবহার করে সেই ড্রাম ঘোরানো যায়, তাহলে কেমন হয়?

ভাবনা থেকেই তৈরি হল তার অভিনব নকশা।

একটি পুরনো সাইকেলের প্যাডেল ও চেনের মেকানিজমকে ওয়াশিং ড্রামের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। নিজের হাতে নকশা আঁকার পর সেটি বাবাকে দেখান। পরে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে সেই নকশা অনুযায়ী মেশিনটি তৈরি করা হয়।

এই মেশিনে বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারী সাইকেলের মতো প্যাডেল করলেই সেই যান্ত্রিক শক্তি ড্রাম ঘোরায়। ফলে কাপড় ধোয়া এবং পানি ঝরানোর কাজও করা যায়।

সবচেয়ে বড় বিষয়, পুরো মেশিনটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল আনুমানিক ২ দুই হাজার টাকা। দামি বৈদ্যুতিক ওয়াশিং মেশিনের বিকল্প হিসেবে এটি তৈরি হয়েছিল খুব কম খরচে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের প্রয়োজন না থাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগের সমস্যা থাকা জায়গাতেও এমন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৪৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৮৯ Time View

বিদ্যুৎহীন সাইকেলে ব্যয়াম, কাপড় হবে পরিস্কার

আপডেটের সময় : ০৫:৪৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি, পড়াশোনার চাপ আর ঘরের কাজ, সবকিছুর মধ্যে থেকেও সমস্যাকে ভয় না পেয়ে তার সমাধান খুঁজে নিয়েছিল ভারতের কেরালের এক কিশোরী। বয়স মাত্র ১৪।

এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের জামাকাপড় কাচার কাজ করতে হচ্ছিল তাকে এবং তার যমজ বোনকে। সেই কাজেই সময় নষ্ট হচ্ছিল অনেকটা। আর সেখান থেকেই মাথায় আসে অভিনব এক ভাবনা। সাধারণ একটি সাইকেলকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলল বিদ্যুৎ ছাড়াই চলা ওয়াশিং মেশিন।

কিশোরীর নাম রেম্যা জোসে। কেরালার মালাপ্পুরম জেলার কিঝাট্টুরের বাসিন্দা রেমার পরিবারের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তার মা অসুস্থ,  বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত। যে কারণে বাড়ির বেশ কিছু দায়িত্ব এসে পড়েছে দুই বোনের উপর৷ প্রায় ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় স্কুলে।

জামাকাপড় কাচার জন্য কোনও ওয়াশিং মেশিন নেই। ফলে হাতেই কাপড় কাচতে হয়। এই কাজে ব্যয় হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই সমস্যার সমাধানে বৈদ্যুতিক ওয়াশিং মেশিন কীভাবে কাজ করে তা লক্ষ্য করেছিল রেমা। মেশিনের ভিতরে ড্রাম ঘোরার বিষয়টি তার মাথায় থেকে যায়। এরপর ভাবতে শুরু করে, বিদ্যুতের বদলে যদি মানুষের শক্তি ব্যবহার করে সেই ড্রাম ঘোরানো যায়, তাহলে কেমন হয়?

ভাবনা থেকেই তৈরি হল তার অভিনব নকশা।

একটি পুরনো সাইকেলের প্যাডেল ও চেনের মেকানিজমকে ওয়াশিং ড্রামের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। নিজের হাতে নকশা আঁকার পর সেটি বাবাকে দেখান। পরে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে সেই নকশা অনুযায়ী মেশিনটি তৈরি করা হয়।

এই মেশিনে বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারী সাইকেলের মতো প্যাডেল করলেই সেই যান্ত্রিক শক্তি ড্রাম ঘোরায়। ফলে কাপড় ধোয়া এবং পানি ঝরানোর কাজও করা যায়।

সবচেয়ে বড় বিষয়, পুরো মেশিনটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল আনুমানিক ২ দুই হাজার টাকা। দামি বৈদ্যুতিক ওয়াশিং মেশিনের বিকল্প হিসেবে এটি তৈরি হয়েছিল খুব কম খরচে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের প্রয়োজন না থাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগের সমস্যা থাকা জায়গাতেও এমন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।