ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতলক্ষ্যার সেই ট্র্যাজেডি: ১২ বছর পরও প্রশ্নের মুখে বিচার

তুষার খান, নারায়ণগঞ্জ

আজ ২৭ এপ্রিল। দেশের বিচার ও অপরাধ ইতিহাসে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের এই দিনে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় নিহতদের পরিবারে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ রয়ে গেছে।

দিনটি ঘিরে স্বজনদের মধ্যে শোক ও বেদনার আবহ তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এক যুগ পার হলেও তাদের অপেক্ষার অবসান হয়নি। মামলার বাদী ও নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিলছে, কিন্তু রায়ের বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। উচ্চ আদালতে ফাঁসির রায় বহাল থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় তারা হতাশ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত রায় কার্যকরের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটির দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকা থেকে সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেগুলোতে ছিল নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নিম্ন আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের সাজা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইন ও বিচার বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত রায় কার্যকর হওয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
নিহতদের স্বজনদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার জট কাটিয়ে দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক। তাহলেই তারা কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাবেন, আর বহু আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও পূর্ণতা পাবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
৫৩৩ Time View

শীতলক্ষ্যার সেই ট্র্যাজেডি: ১২ বছর পরও প্রশ্নের মুখে বিচার

আপডেটের সময় : ১২:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আজ ২৭ এপ্রিল। দেশের বিচার ও অপরাধ ইতিহাসে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের এই দিনে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় নিহতদের পরিবারে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ রয়ে গেছে।

দিনটি ঘিরে স্বজনদের মধ্যে শোক ও বেদনার আবহ তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এক যুগ পার হলেও তাদের অপেক্ষার অবসান হয়নি। মামলার বাদী ও নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিলছে, কিন্তু রায়ের বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। উচ্চ আদালতে ফাঁসির রায় বহাল থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় তারা হতাশ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত রায় কার্যকরের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটির দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকা থেকে সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেগুলোতে ছিল নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নিম্ন আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের সাজা পরিবর্তন করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইন ও বিচার বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত রায় কার্যকর হওয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
নিহতদের স্বজনদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার জট কাটিয়ে দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক। তাহলেই তারা কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাবেন, আর বহু আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও পূর্ণতা পাবে।