ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত: ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন এর জীবিকা চাঁদপুর প্রকল্পের ৫ম পর্যায়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ এসিল্যান্ডসহ কোনো কর্মীর ‘দেখা পাননি’ সচিব, ৮ জনকে শোকজ হিউম্যান রাইটস এলাইভ বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ আশুলিয়ায় গভীররাতে দোকানসহ বাসাবাড়িতে আগুন সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী এনসিটিবির বই ছাপানোয় সিন্ডিকেট, সময়ক্ষেপণ ও কৃত্রিম সংকট: শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ঘিরে বিমানবন্দরে শোডাউন নয়

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা

রনবীর রায় রাজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। এক সময় যে যন্ত্রটি ছিল প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য অংশ, আধুনিক যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে তা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলার ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম কিংবা মসলা পিষে তৈরি করতেন হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল আবশ্যিক। এমনকি আগেকার দিনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মেয়েকে বিয়ের পর জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও চালু ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন জাঁতাবিমুখ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাম সহজ হইছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই আমেজ আর নাই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পইড়্যা রইছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন,জাঁতা কেবল একটি যন্ত্র নয়,এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসবের সংরক্ষণ প্রয়োজন।

উন্নয়নের জোয়ারে জীবন সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে শেকড়ের সংস্কৃতি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পাথরের জাঁতা আজ জাদুঘরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
৫৯৭ Time View

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যান্ত্রিকতার কবলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের পাথরের জাঁতা

আপডেটের সময় : ০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। এক সময় যে যন্ত্রটি ছিল প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য অংশ, আধুনিক যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে তা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

কয়েক দশক আগেও গ্রামবাংলার ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম কিংবা মসলা পিষে তৈরি করতেন হরেক রকমের খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল আবশ্যিক। এমনকি আগেকার দিনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মেয়েকে বিয়ের পর জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও চালু ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারে প্যাকেটজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন জাঁতাবিমুখ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাম সহজ হইছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই আমেজ আর নাই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পইড়্যা রইছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন,জাঁতা কেবল একটি যন্ত্র নয়,এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসবের সংরক্ষণ প্রয়োজন।

উন্নয়নের জোয়ারে জীবন সহজ হলেও হারিয়ে যাচ্ছে শেকড়ের সংস্কৃতি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই পাথরের জাঁতা আজ জাদুঘরের শোভাবর্ধক বস্তুতে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।