ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলার কাঁটা হলেও সীমান্ত সড়ক শেষ করতে হবে: মন্ত্রী এ্যানি

সাংবাদিক

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফের চলমান ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নানা জটিলতা ও প্রশ্ন থাকলেও জনস্বার্থে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে সীমান্তে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।

মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফের সীমান্তবর্তী নাফ নদী পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সড়ক প্রকল্পে একের পর এক তিন দফা সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা প্রকল্প তিনবার রিভাইজ হওয়া আপনাকে বুঝতে হবে যে, এরপরও জনগণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তাহলে রিভাইজটা কেন হলো? আপনারা বুঝে নেন, তিনবার হওয়ার যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে। এটা কি জনস্বার্থে হলো? এটা কি জনগণের জন্য হলো?’

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অতীতে অনেক ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকার, আমাদের দায়িত্ব আছে। এখন এই মুহূর্তে এটা আমাদের একটা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এটাকে শেষও করতে হবে। বসে থাকলে তো চলবে না।’

তিনি বলেন, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সমন্বয় করে দেশের স্বার্থে সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সীমান্তের নিরাপত্তার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খননের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সড়কটি শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সড়কটি সম্পন্ন হলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও কার্যকর হবে। মাদক ও চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনীক চৌধুরী ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে তিনি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ ও নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নাফ নদীর তীর ঘেঁষে ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সীমান্ত সুরক্ষা সড়ক’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তিন দফায় সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ কোটি টাকা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম থেকে উখিয়ার পালংখালী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। পাঁচটি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সড়কটির নির্মাণকাজ এখনো থেমে থেমে চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

গলার কাঁটা হলেও সীমান্ত সড়ক শেষ করতে হবে: মন্ত্রী এ্যানি

আপডেটের সময় : ১০:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফের চলমান ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নানা জটিলতা ও প্রশ্ন থাকলেও জনস্বার্থে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে সীমান্তে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।

মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফের সীমান্তবর্তী নাফ নদী পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সড়ক প্রকল্পে একের পর এক তিন দফা সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা প্রকল্প তিনবার রিভাইজ হওয়া আপনাকে বুঝতে হবে যে, এরপরও জনগণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তাহলে রিভাইজটা কেন হলো? আপনারা বুঝে নেন, তিনবার হওয়ার যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে। এটা কি জনস্বার্থে হলো? এটা কি জনগণের জন্য হলো?’

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অতীতে অনেক ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকার, আমাদের দায়িত্ব আছে। এখন এই মুহূর্তে এটা আমাদের একটা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এটাকে শেষও করতে হবে। বসে থাকলে তো চলবে না।’

তিনি বলেন, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সমন্বয় করে দেশের স্বার্থে সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সীমান্তের নিরাপত্তার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খননের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সড়কটি শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সড়কটি সম্পন্ন হলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও কার্যকর হবে। মাদক ও চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনীক চৌধুরী ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে তিনি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ ও নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নাফ নদীর তীর ঘেঁষে ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সীমান্ত সুরক্ষা সড়ক’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তিন দফায় সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ কোটি টাকা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম থেকে উখিয়ার পালংখালী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। পাঁচটি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সড়কটির নির্মাণকাজ এখনো থেমে থেমে চলছে।