ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের আশুলিয়ায় শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি, আহত ৫০ পুলিশ সদস্য ৭ নভেম্বর ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন, ২ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে পাসের চেয়ে আসন বেশি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ৮ লাখ আসন মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালো আন্দোলনকারীরা ছাত্রী নিহতের পর আইআইইউসি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিএনপি নেতাকর্মীরাও শপথ নিলেন ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান ৮০ লাখ টাকা ‘ঘুষ দাবি’, দুদকের ফাঁদে হাতেনাতে আটক সার্ভেয়ার

নতুন ধারণার ই-কমার্স

সাংবাদিক

বাংলাদেশের সোশ্যাল কমার্স ইকোসিস্টেমের পরিধি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এই সময়ে দুই লাখের বেশি মার্চেন্ট এ ব্যবসায় জড়িত। এটি দেশের ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি। এই ব্যবসায় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্ডার, ক্রেতা, বিপণন ও অপারেশনাল টুলস ম্যানেজ করতে হয়।

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা এখন শুধু অনলাইনে পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম ধাপে অর্ডার নিশ্চিত হলে পণ্য সংগ্রহ, প্যাকেজিং, কুরিয়ার, ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি, রিটার্ন ও শেষে বিক্রেতার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া– এই পুরো প্রক্রিয়া সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ।

এই প্রক্রিয়ায় অর্ডার ও অর্থের হিসাব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টি ক্রমে জরুরি হয়ে উঠছে। এই অংশে জায়গায় ডি-ক্লেয়ার বা ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ধারণার গুরুত্ব বেড়েছে।

ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি

পণ্য অর্ডার থেকে ডেলিভারি হয়ে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো হিসাবকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকে বলে ডি-ক্লেয়ার। বলা যায়, বিশেষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ অর্ডার পাওয়া গেছে; যার মধ্যে ৪০০টি ডেলিভারি হলো, ৫০টি ফেরত গেল। ঝুলে আছে ৩০টির পেমেন্ট। অবশিষ্ট ২০টির মূল্য বা চার্জের সমন্বয় হয়েছে।

কার্যকর ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা অর্ডার আইডি ধরে সবকটি লেনদেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। কোন পণ্য কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, কত টাকা পাওয়া গেছে, কয়টি কুরিয়ার হয়েছে, রিটার্নের জন্য কত সমন্বয় হয়েছে ও শেষাংশে বিক্রেতার হিসাবে কত টাকা যাওয়ার কথা– এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া গেলে জটিল হিসাব অনেক সহজ হয়। এর অর্থ ডি-ক্লেয়ার শুধু টাকা পাঠানো নয়; বরং টাকার হিসাব ঠিকঠাক মিলিয়ে নেওয়া। নির্দিষ্ট ক্রেতা এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে অনলাইনে পণ্য অর্ডার করলেন। বিক্রেতা অর্ডারটি গ্রহণ করে কুরিয়ারের হাতে পণ্য পৌঁছে দিলেন। পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাল ও সিওডি হলে কুরিয়ার ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করল। কিন্তু লেনদেন এখানেই শেষ নয়; প্রাপ্ত অর্থ থেকে কুরিয়ার চার্জ, রিটার্ন বা অন্যসব সমন্বয় বাদ দিয়ে বিক্রেতার প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত হয়। তারপর সেই অর্থ বিক্রেতার ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে পাঠানো হয়।

হিসাবনিকাশ ও অর্থ প্রাপ্তির এই পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার তাগিদ থেকেই ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা জরুরি হয়ে সামনে আসছে।

বাংলাদেশের ই-কমার্সে সিওডি এখন পরীক্ষিত ও বহুল ব্যবহৃত পেমেন্ট পদ্ধতি। ফলে অনলাইন ব্যবসায়ীর জন্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়; বিক্রি হওয়া পণ্যের অর্থ কখন ও কীভাবে সবার কাছে পৌঁছাবে– এটিও ব্যবসা পরিচালনার বড় বিষয়। নির্দিষ্ট অর্ডার ডেলিভারি হলে যদি অর্থ প্রাপ্তিতে অনেক সময় ব্যয় হয়, তাহলে ছোট ব্যবসায়ীর নগদ অর্থপ্রবাহে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

ডি-ক্লেয়ার পদ্ধতির ডিজিটাল ব্যবস্থায় পণ্য সংরক্ষণে তেমন ঝামেলা থাকে না। এ পদ্ধতিতে অর্ডারের তথ্য, ডেলিভারি স্ট্যাটাস, প্রাপ্ত অর্থ, কুরিয়ার চার্জ ও বিক্রেতার পাওনা– এসব একই ব্যবস্থায় হিসাব করা গেলে ভুলের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ী জানতে পারেন, কোন অর্ডার ডেলিভারি হয়েছে, রিটার্ন হয়েছে কোনটি ও কোন অর্ডারের টাকা এখনও অপেক্ষায় রয়েছে। আরেকটি জরুরি শর্ত হলো স্বচ্ছতা। প্রচলিত ব্যবস্থায় বিক্রেতাকে অনেক সময় অর্ডার, ডেলিভারি ও পেমেন্টের তথ্য আলাদা করে মেলানোর ঝামেলা পোহাতে হয়। ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা থাকলে অর্ডারের শুরু থেকে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো লেনদেনের রেকর্ড রাখা সম্ভব। এতে হিসাব ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার সঙ্গে বিরোধ বা ভুল হিসাব শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়।

সফলতার জন্য এই পদ্ধতিতে শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; কুরিয়ার সংস্থা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মার্চেন্ট, পেমেন্ট পরিষেবা ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যবিনিময় ও সমন্বয় প্রয়োজন। এ ছাড়া গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা, অর্থ লেনদেনে সুরক্ষা ও রিটার্নের ক্ষেত্রে সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ই-কমার্স যত বড় হচ্ছে, ততই অর্ডার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অর্ডার-টু-পেমেন্ট ক্লিয়ারিং পদ্ধতির গুরুত্ব বেড়েছে। দ্রুত ডেলিভারি ছাড়াও তাৎক্ষণিক ও স্বচ্ছ পেমেন্ট নিষ্পত্তি এখন অনলাইন ব্যবসা প্রতিযোগিতার সবচেয়ে জরুরি অংশ।

ই-কমার্সের সাফল্য শুধু কত পণ্য বিক্রি হলো, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং অর্ডার থেকে ডেলিভারি ও ডেলিভারি থেকে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো চক্র কতটা দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে শেষ হয়, এর গুরুত্ব অনেক।

ই-কমার্স এখন ইকোসিস্টেমের অংশ

সহজে ও দক্ষতার সঙ্গে মার্চেন্টরা যেন বিজনেস পরিচালনা ও পরিধি বাড়াতে পারেন, সে জন্য সুপরিচিত ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম পাঠাও এবার কমার্স প্ল্যাটফর্মে যাত্রা করেছে। একে বলে
অল-ইন-ওয়ান প্ল্যাটফর্ম। এখানে স্টোরফ্রন্ট, সেলস চ্যানেল, অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও কাস্টমার কমিউনিকেশন– সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে। পাঠাও পরিষেবার সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, অনেক বছর ধরে মার্চেন্টরা ডেলিভারির ঝামেলা কমাতে ও নিরাপদে পণ্য প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। ই-কমার্সের মাধ্যমে সেই কমিটমেন্টের পরিধি ডেলিভারির বাইরে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা মার্চেন্টদের সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছি, যেখানে তারা স্টোরফ্রন্ট ও অর্ডার থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি, সেলস, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও ক্রেতা সংযোগ– এসব কিছু একসঙ্গে সামলে নিতে পারবেন। অন্যদিকে নিজস্ব ব্যবসাকে ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করা ও নতুন ধারার সুযোগকে বড় ব্যবসায় রূপান্তর করতে পারেন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬২৫ Time View

নতুন ধারণার ই-কমার্স

আপডেটের সময় : ০৭:০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সোশ্যাল কমার্স ইকোসিস্টেমের পরিধি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এই সময়ে দুই লাখের বেশি মার্চেন্ট এ ব্যবসায় জড়িত। এটি দেশের ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি। এই ব্যবসায় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্ডার, ক্রেতা, বিপণন ও অপারেশনাল টুলস ম্যানেজ করতে হয়।

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা এখন শুধু অনলাইনে পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম ধাপে অর্ডার নিশ্চিত হলে পণ্য সংগ্রহ, প্যাকেজিং, কুরিয়ার, ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি, রিটার্ন ও শেষে বিক্রেতার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া– এই পুরো প্রক্রিয়া সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ।

এই প্রক্রিয়ায় অর্ডার ও অর্থের হিসাব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টি ক্রমে জরুরি হয়ে উঠছে। এই অংশে জায়গায় ডি-ক্লেয়ার বা ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ধারণার গুরুত্ব বেড়েছে।

ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি

পণ্য অর্ডার থেকে ডেলিভারি হয়ে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো হিসাবকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকে বলে ডি-ক্লেয়ার। বলা যায়, বিশেষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ অর্ডার পাওয়া গেছে; যার মধ্যে ৪০০টি ডেলিভারি হলো, ৫০টি ফেরত গেল। ঝুলে আছে ৩০টির পেমেন্ট। অবশিষ্ট ২০টির মূল্য বা চার্জের সমন্বয় হয়েছে।

কার্যকর ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা অর্ডার আইডি ধরে সবকটি লেনদেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। কোন পণ্য কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, কত টাকা পাওয়া গেছে, কয়টি কুরিয়ার হয়েছে, রিটার্নের জন্য কত সমন্বয় হয়েছে ও শেষাংশে বিক্রেতার হিসাবে কত টাকা যাওয়ার কথা– এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া গেলে জটিল হিসাব অনেক সহজ হয়। এর অর্থ ডি-ক্লেয়ার শুধু টাকা পাঠানো নয়; বরং টাকার হিসাব ঠিকঠাক মিলিয়ে নেওয়া। নির্দিষ্ট ক্রেতা এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে অনলাইনে পণ্য অর্ডার করলেন। বিক্রেতা অর্ডারটি গ্রহণ করে কুরিয়ারের হাতে পণ্য পৌঁছে দিলেন। পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাল ও সিওডি হলে কুরিয়ার ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করল। কিন্তু লেনদেন এখানেই শেষ নয়; প্রাপ্ত অর্থ থেকে কুরিয়ার চার্জ, রিটার্ন বা অন্যসব সমন্বয় বাদ দিয়ে বিক্রেতার প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত হয়। তারপর সেই অর্থ বিক্রেতার ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে পাঠানো হয়।

হিসাবনিকাশ ও অর্থ প্রাপ্তির এই পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার তাগিদ থেকেই ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা জরুরি হয়ে সামনে আসছে।

বাংলাদেশের ই-কমার্সে সিওডি এখন পরীক্ষিত ও বহুল ব্যবহৃত পেমেন্ট পদ্ধতি। ফলে অনলাইন ব্যবসায়ীর জন্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়; বিক্রি হওয়া পণ্যের অর্থ কখন ও কীভাবে সবার কাছে পৌঁছাবে– এটিও ব্যবসা পরিচালনার বড় বিষয়। নির্দিষ্ট অর্ডার ডেলিভারি হলে যদি অর্থ প্রাপ্তিতে অনেক সময় ব্যয় হয়, তাহলে ছোট ব্যবসায়ীর নগদ অর্থপ্রবাহে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

ডি-ক্লেয়ার পদ্ধতির ডিজিটাল ব্যবস্থায় পণ্য সংরক্ষণে তেমন ঝামেলা থাকে না। এ পদ্ধতিতে অর্ডারের তথ্য, ডেলিভারি স্ট্যাটাস, প্রাপ্ত অর্থ, কুরিয়ার চার্জ ও বিক্রেতার পাওনা– এসব একই ব্যবস্থায় হিসাব করা গেলে ভুলের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ী জানতে পারেন, কোন অর্ডার ডেলিভারি হয়েছে, রিটার্ন হয়েছে কোনটি ও কোন অর্ডারের টাকা এখনও অপেক্ষায় রয়েছে। আরেকটি জরুরি শর্ত হলো স্বচ্ছতা। প্রচলিত ব্যবস্থায় বিক্রেতাকে অনেক সময় অর্ডার, ডেলিভারি ও পেমেন্টের তথ্য আলাদা করে মেলানোর ঝামেলা পোহাতে হয়। ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা থাকলে অর্ডারের শুরু থেকে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো লেনদেনের রেকর্ড রাখা সম্ভব। এতে হিসাব ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার সঙ্গে বিরোধ বা ভুল হিসাব শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়।

সফলতার জন্য এই পদ্ধতিতে শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; কুরিয়ার সংস্থা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মার্চেন্ট, পেমেন্ট পরিষেবা ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যবিনিময় ও সমন্বয় প্রয়োজন। এ ছাড়া গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা, অর্থ লেনদেনে সুরক্ষা ও রিটার্নের ক্ষেত্রে সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ই-কমার্স যত বড় হচ্ছে, ততই অর্ডার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অর্ডার-টু-পেমেন্ট ক্লিয়ারিং পদ্ধতির গুরুত্ব বেড়েছে। দ্রুত ডেলিভারি ছাড়াও তাৎক্ষণিক ও স্বচ্ছ পেমেন্ট নিষ্পত্তি এখন অনলাইন ব্যবসা প্রতিযোগিতার সবচেয়ে জরুরি অংশ।

ই-কমার্সের সাফল্য শুধু কত পণ্য বিক্রি হলো, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং অর্ডার থেকে ডেলিভারি ও ডেলিভারি থেকে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো চক্র কতটা দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে শেষ হয়, এর গুরুত্ব অনেক।

ই-কমার্স এখন ইকোসিস্টেমের অংশ

সহজে ও দক্ষতার সঙ্গে মার্চেন্টরা যেন বিজনেস পরিচালনা ও পরিধি বাড়াতে পারেন, সে জন্য সুপরিচিত ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম পাঠাও এবার কমার্স প্ল্যাটফর্মে যাত্রা করেছে। একে বলে
অল-ইন-ওয়ান প্ল্যাটফর্ম। এখানে স্টোরফ্রন্ট, সেলস চ্যানেল, অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও কাস্টমার কমিউনিকেশন– সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে। পাঠাও পরিষেবার সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, অনেক বছর ধরে মার্চেন্টরা ডেলিভারির ঝামেলা কমাতে ও নিরাপদে পণ্য প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। ই-কমার্সের মাধ্যমে সেই কমিটমেন্টের পরিধি ডেলিভারির বাইরে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা মার্চেন্টদের সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছি, যেখানে তারা স্টোরফ্রন্ট ও অর্ডার থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি, সেলস, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও ক্রেতা সংযোগ– এসব কিছু একসঙ্গে সামলে নিতে পারবেন। অন্যদিকে নিজস্ব ব্যবসাকে ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করা ও নতুন ধারার সুযোগকে বড় ব্যবসায় রূপান্তর করতে পারেন।