ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পাবনায় জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা দেবিদ্বার উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা আজ স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করতে চীনের আহ্বান বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ৬ হাজার পিস আতশবাজি জব্দ ফরিদগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলিদের বৈশাখী মেলা ও পূজা উদযাপিত নতুন তালিকায় ভিসা ছাড়াই ৩৬ দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা 

নিউমার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে

সাংবাদিক

রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাতভর চলে বৃষ্টি। আজ শুক্রবারও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে শহরের অনেক এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। দুপুরের পর বেশির ভাগ সড়ক থেকে পানি নামলেও নিউমার্কেট এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে, যা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক ও আশপাশের গলিগুলোতে এখনও পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানি হাঁটুর সমান। রিকশা চলাচল করলেও যাত্রীদের অনেক সময় ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি অনেক দোকানের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে।

পথচারী জোবায়েদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলেকে কোচিংয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু পানি আর কাদা মাড়িয়ে হাঁটা দায়। নিউমার্কেট এলাকায় প্রতি বছরই একই অবস্থা, কিন্তু সিটি করপোরেশন আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই প্রশ্ন।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। ডিএসসিসির জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় জানান, নিউমার্কেট এলাকার পানি সাধারণত পিলখানার ভেতর দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে সেই পথ বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট দিয়ে পানি সরাতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, নীলক্ষেত ও আজিমপুর এলাকায় নিয়মিত জলাবদ্ধতা দেখা যায়। নগর–পরিকল্পনাবিদদের মতে, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নই হতে পারে একমাত্র সমাধান। না হলে প্রতি বর্ষাতেই নাগরিকদের পড়তে হবে একই দুর্ভোগে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৯:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
৭৬১ Time View

নিউমার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে

আপডেটের সময় : ০৯:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাতভর চলে বৃষ্টি। আজ শুক্রবারও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে শহরের অনেক এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। দুপুরের পর বেশির ভাগ সড়ক থেকে পানি নামলেও নিউমার্কেট এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে, যা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক ও আশপাশের গলিগুলোতে এখনও পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানি হাঁটুর সমান। রিকশা চলাচল করলেও যাত্রীদের অনেক সময় ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি অনেক দোকানের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে।

পথচারী জোবায়েদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলেকে কোচিংয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু পানি আর কাদা মাড়িয়ে হাঁটা দায়। নিউমার্কেট এলাকায় প্রতি বছরই একই অবস্থা, কিন্তু সিটি করপোরেশন আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই প্রশ্ন।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। ডিএসসিসির জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় জানান, নিউমার্কেট এলাকার পানি সাধারণত পিলখানার ভেতর দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে সেই পথ বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট দিয়ে পানি সরাতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, নীলক্ষেত ও আজিমপুর এলাকায় নিয়মিত জলাবদ্ধতা দেখা যায়। নগর–পরিকল্পনাবিদদের মতে, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নই হতে পারে একমাত্র সমাধান। না হলে প্রতি বর্ষাতেই নাগরিকদের পড়তে হবে একই দুর্ভোগে।