ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে থামলেই ভোগান্তি- অভিযোগ মোটরসাইকেল আরোহীদের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পেক্স ক্লাব অফ চাঁদপুরের পালাবদল অনুষ্ঠিত আগামী ৩০ জুন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চালু হচ্ছে ইত্তিহাদ রেলের যাত্রী সেবা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এআইইউবিতে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত অবশেষে হরমুজ পাড়ি দিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সিংগাইরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মাহিয়ার মরদেহ উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি হিউম্যান রাইটস এলাইভ ভোলা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, আহবায়ক আওলাদ, সদস্য সচিব তারেক মুরাদনগরে কর্মরত এসি ল্যান্ড সাকিব হাসানের ওপর ডাকাত দলের বর্বরোচিত হামলা, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে থামলেই ভোগান্তি- অভিযোগ মোটরসাইকেল আরোহীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারের পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও হয়রানি, মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছে দায়িত্বরত কিছু ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি এমনই অভিযোগ করেছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক কর্মচারী মো. সোহেল। তিনি জানান, সোমবার দুপুর আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অফিস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে তার মোটরসাইকেল থামানো হয়। পরে তাকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোহেলের দাবি, তার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বৈধ ও হালনাগাদ ছিল। এরপরও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মামলার কথা বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাকে রেকার বিল দেওয়ার কথাও বলা হয়।
তিনি বলেন, “আমি জানতে চেয়েছিলাম, আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কেন আমাকে রেকার বিল দিতে হবে। তখন বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আমি ২০০ টাকা দিতে চাইলে আমার হাত থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট নিয়ে নেওয়া হয়। পরে আমাকে চলে যেতে দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগী সোহেল আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল পুলিশ বাহিনীতে জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমেছে বলে মনে হচ্ছে না। আমি নতুন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে যানবাহন আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। ফলে অনেক চালকের মধ্যেই চেকপোস্টটি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
৫২৪ Time View

পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে থামলেই ভোগান্তি- অভিযোগ মোটরসাইকেল আরোহীদের

আপডেটের সময় : ০৪:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ঢাকার সাভারের পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও হয়রানি, মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছে দায়িত্বরত কিছু ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি এমনই অভিযোগ করেছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক কর্মচারী মো. সোহেল। তিনি জানান, সোমবার দুপুর আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অফিস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে তার মোটরসাইকেল থামানো হয়। পরে তাকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোহেলের দাবি, তার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বৈধ ও হালনাগাদ ছিল। এরপরও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মামলার কথা বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাকে রেকার বিল দেওয়ার কথাও বলা হয়।
তিনি বলেন, “আমি জানতে চেয়েছিলাম, আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কেন আমাকে রেকার বিল দিতে হবে। তখন বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আমি ২০০ টাকা দিতে চাইলে আমার হাত থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট নিয়ে নেওয়া হয়। পরে আমাকে চলে যেতে দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগী সোহেল আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল পুলিশ বাহিনীতে জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমেছে বলে মনে হচ্ছে না। আমি নতুন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে যানবাহন আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। ফলে অনেক চালকের মধ্যেই চেকপোস্টটি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।