ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

পুলিশ-বিএনপির পাহারায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের দাফন সম্পন্ন

সাংবাদিক

পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাহারায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় রাউজানের গহিরায় তার নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। তাদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীকেও জানাজা ও দাফনের কাজে অংশ নিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি রাউজানের গহিরায় বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছালে বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে তারা মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এদিকে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

দাফনের কাজে তদারককারী প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন খুব ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় তারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন।

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রাউজানের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় তিনি পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মির্জা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা ঘরছাড়া ছিলেন। তাদের কোনো নেতাকর্মীর মৃত্যু হলে রাউজানে দাফন করতে দেওয়া হতো না। এবার মানবিক বিবেচনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার শেষযাত্রায় পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অংশ নিয়েছেন তারা।

জানাজায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আ.স.ম. ইয়াছিন মাহমুদ বলেন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্তেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, জানাজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় বহু মানুষ অংশ নিলেও কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৪২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
৫০৩ Time View

পুলিশ-বিএনপির পাহারায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের দাফন সম্পন্ন

আপডেটের সময় : ০৩:৪২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাহারায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় রাউজানের গহিরায় তার নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। তাদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীকেও জানাজা ও দাফনের কাজে অংশ নিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি রাউজানের গহিরায় বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছালে বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে তারা মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এদিকে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

দাফনের কাজে তদারককারী প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন খুব ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় তারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন।

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রাউজানের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় তিনি পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মির্জা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা ঘরছাড়া ছিলেন। তাদের কোনো নেতাকর্মীর মৃত্যু হলে রাউজানে দাফন করতে দেওয়া হতো না। এবার মানবিক বিবেচনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার শেষযাত্রায় পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অংশ নিয়েছেন তারা।

জানাজায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আ.স.ম. ইয়াছিন মাহমুদ বলেন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। সাংগঠনিকভাবে দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্তেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, জানাজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় বহু মানুষ অংশ নিলেও কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।