ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে অভিযুক্ত আলিস ৪৩০ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয় ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে যত রেকর্ড সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৪ জন গ্রেপ্তার, ৩৭ মামলা সাজেকে আটকা ৩ হাজার পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি পৌঁছালেন সিরিয়াস’ হুমকি বিপ্লবী গার্ডের /হরমুজে জাহাজ চালানোর চেষ্টা করলে মার্কিন ঘাঁটিকে টার্গেট করা হবে সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্ন সেলফি বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস: দুর্ঘটনা কমানোর প্রত্যয়, তবু ঝরছে প্রাণ

বাংলামোটরে মারধর-গুলি/ ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবি থেকে ঘটনার সূত্রপাত

সাংবাদিক

রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদা দাবি, মারধর ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে করা মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাইমনকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এই আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া অপর তিনজন হলেন– সাইমনের ভাই ওমর (৩২) এবং তাদের সহযোগী মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।

বিকেলে চার আসামিকে আদালতে হাজির করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় সাইমন তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সোহানকে ভয় দেখান। একপর্যায়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাঁকে মারধর করেন। পরে সাইমন ফাঁকা গুলি ছুড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। এরপর আসামিরা সেখান থেকে চলে যায়।

আহত সোহান কাছের একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সময় তাঁর ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তখন সাইমনসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে এসে আবার সোহানকে মারধর করার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে মোক্তারকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময় সাইমনকে এবং পরে কয়েকজনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইমনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সাইমন ও অন্যদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক আইনের মামলাও রয়েছে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
৫৬৬ Time View

বাংলামোটরে মারধর-গুলি/ ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবি থেকে ঘটনার সূত্রপাত

আপডেটের সময় : ১২:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদা দাবি, মারধর ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে করা মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাইমনকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এই আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া অপর তিনজন হলেন– সাইমনের ভাই ওমর (৩২) এবং তাদের সহযোগী মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।

বিকেলে চার আসামিকে আদালতে হাজির করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় সাইমন তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সোহানকে ভয় দেখান। একপর্যায়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাঁকে মারধর করেন। পরে সাইমন ফাঁকা গুলি ছুড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। এরপর আসামিরা সেখান থেকে চলে যায়।

আহত সোহান কাছের একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সময় তাঁর ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তখন সাইমনসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে এসে আবার সোহানকে মারধর করার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে মোক্তারকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময় সাইমনকে এবং পরে কয়েকজনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইমনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সাইমন ও অন্যদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক আইনের মামলাও রয়েছে।