ঢাকা , শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল/ লিনোর জোড়া গোলে ভারতকে ৪-০ গোলে হারাল ব্রাজিল সেনপাড়া মৌজা ভাগ, আটকে গেছে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন-নামজারি দ্বিতীয় বিয়ে করতে গেলেই অনলাইনে মিলবে আগের বিয়ের তথ্য: আইনমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুর-লুটপাট: ছাত্রদল নেতাসহ আরও দুজন গ্রেপ্তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান, ছবি প্রকাশ বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ভিসা নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দূতাবাসের স্থানীয় সরকার নির্বাচন/ কেনাকাটা-প্রচারে ৭২ কোটি টাকা ব্যয় করবে ইসি রাড্ডায় ভাঙচুর, লুটপাট/ মিরপুর থেকে সাবেক যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

সেনপাড়া মৌজা ভাগ, আটকে গেছে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন-নামজারি

সাংবাদিক

রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া মৌজার একটি অংশ ইব্রাহীমপুর মৌজার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন, নামজারি ও খাজনা পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একই কারণে ওই এলাকার ফ্ল্যাটের বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্ল্যাটের ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ডিজিটাল জরিপে সেনপাড়া মৌজার একটি অংশ বিভক্ত করে ইব্রাহীমপুর মৌজার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে বিভক্ত অংশের জমি ও ফ্ল্যাটের প্রয়োজনীয় দলিল ও নথিপত্র এখনো সেনপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অ্যাসিল্যান্ড) কার্যালয় থেকে ইব্রাহীমপুর অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন মৌজার আওতাভুক্ত জমি ও ফ্ল্যাটের বিভিন্ন কাজ আটকে আছে।

সেনপাড়া মৌজার বিভক্ত অংশের জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকেরা নিবন্ধন, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের জন্য কখনো সেনপাড়া, আবার কখনো ইব্রাহীমপুর অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে যাচ্ছেন। সেনপাড়া কার্যালয় থেকে তাদের ইব্রাহীমপুরে যেতে বলা হচ্ছে। সেখানে গেলে বলা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনো সেনপাড়া কার্যালয় থেকে আসেনি। ফলে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। কবে এই জটিলতার অবসান হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেনপাড়া অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয় মিরপুর-১৩ নম্বরে। আর ইব্রাহীমপুরের সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার দপ্তর খিলক্ষেত অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে। ফলে ইব্রাহীমপুর মৌজার কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খিলক্ষেতেও যেতে হচ্ছে।

বড় আবাসন প্রকল্পেও প্রভাব
সেনপাড়া মৌজার বিভক্ত অংশে এখন আর ফাঁকা জমি নেই। সেখানে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। এসব ভবনের ফ্ল্যাটের সঙ্গে জমির একটি অংশের মালিকানাও ক্রেতাদের থাকে। ফলে জমির নিবন্ধন, খাজনা পরিশোধ ও ফ্ল্যাটের নামজারি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনীয় দলিল ও নথি স্থানান্তর না হওয়ায় এসব কাজ আটকে আছে। একই কারণে ফ্ল্যাট বিক্রিও বন্ধ রয়েছে। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরপুর-১৫ নম্বরে রাকিন সিটি, নাভানা কনডোমিনিয়াম ও রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজ আগে সেনপাড়া মৌজার অন্তর্ভুক্ত ছিল। মৌজা বিভক্ত হওয়ার পর বড় এই আবাসন প্রকল্পগুলো ইব্রাহীমপুর মৌজার আওতায় পড়েছে।

রাকিন সিটিতে ৩৫টি ১৫ তলা ভবনে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজে সাতটি নয়তলা ভবনে ৪০২টি ফ্ল্যাট এবং নাভানা কনডোমিনিয়ামে নয়টি ১৫ তলা ভবনে প্রায় ৭০০ ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব প্রকল্পের অনেক ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ও নামজারি আটকে আছে। ফ্ল্যাটের বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে।

রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজের ফ্ল্যাটের ক্রেতা মো. রওনক আলম খান সমকালকে বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে নিবন্ধন ও নামজারির জন্য সেনপাড়া ও ইব্রাহীমপুর অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে ঘুরছেন তিনি। কর্মকর্তারা বলছেন, সেনপাড়া মৌজার বিভক্ত অংশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো তারা পাননি।

রওনক আলম খান বলেন, ‘ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিলে কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।’

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটটি কিনেছেন রওনক। ফ্ল্যাটটি ব্যাংকে জামানত হিসেবে রাখতে নামজারির কাগজ প্রয়োজন। কিন্তু নামজারি বন্ধ থাকায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন।

রওনক জানান, প্রায় দুই মাস আগে রূপসী প্রকল্পের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি মিরপুর ভূমি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তখন তাদের জানানো হয়েছিল, এ বিষয়ে ইব্রাহীমপুর ভূমি কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

তবে দুই মাস পার হয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন, নামজারি ও বেচাকেনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
৫০২ Time View

সেনপাড়া মৌজা ভাগ, আটকে গেছে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন-নামজারি

আপডেটের সময় : ১০:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া মৌজার একটি অংশ ইব্রাহীমপুর মৌজার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন, নামজারি ও খাজনা পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একই কারণে ওই এলাকার ফ্ল্যাটের বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্ল্যাটের ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ডিজিটাল জরিপে সেনপাড়া মৌজার একটি অংশ বিভক্ত করে ইব্রাহীমপুর মৌজার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে বিভক্ত অংশের জমি ও ফ্ল্যাটের প্রয়োজনীয় দলিল ও নথিপত্র এখনো সেনপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অ্যাসিল্যান্ড) কার্যালয় থেকে ইব্রাহীমপুর অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন মৌজার আওতাভুক্ত জমি ও ফ্ল্যাটের বিভিন্ন কাজ আটকে আছে।

সেনপাড়া মৌজার বিভক্ত অংশের জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকেরা নিবন্ধন, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের জন্য কখনো সেনপাড়া, আবার কখনো ইব্রাহীমপুর অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে যাচ্ছেন। সেনপাড়া কার্যালয় থেকে তাদের ইব্রাহীমপুরে যেতে বলা হচ্ছে। সেখানে গেলে বলা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনো সেনপাড়া কার্যালয় থেকে আসেনি। ফলে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। কবে এই জটিলতার অবসান হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেনপাড়া অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয় মিরপুর-১৩ নম্বরে। আর ইব্রাহীমপুরের সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার দপ্তর খিলক্ষেত অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে। ফলে ইব্রাহীমপুর মৌজার কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খিলক্ষেতেও যেতে হচ্ছে।

বড় আবাসন প্রকল্পেও প্রভাব
সেনপাড়া মৌজার বিভক্ত অংশে এখন আর ফাঁকা জমি নেই। সেখানে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। এসব ভবনের ফ্ল্যাটের সঙ্গে জমির একটি অংশের মালিকানাও ক্রেতাদের থাকে। ফলে জমির নিবন্ধন, খাজনা পরিশোধ ও ফ্ল্যাটের নামজারি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনীয় দলিল ও নথি স্থানান্তর না হওয়ায় এসব কাজ আটকে আছে। একই কারণে ফ্ল্যাট বিক্রিও বন্ধ রয়েছে। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরপুর-১৫ নম্বরে রাকিন সিটি, নাভানা কনডোমিনিয়াম ও রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজ আগে সেনপাড়া মৌজার অন্তর্ভুক্ত ছিল। মৌজা বিভক্ত হওয়ার পর বড় এই আবাসন প্রকল্পগুলো ইব্রাহীমপুর মৌজার আওতায় পড়েছে।

রাকিন সিটিতে ৩৫টি ১৫ তলা ভবনে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজে সাতটি নয়তলা ভবনে ৪০২টি ফ্ল্যাট এবং নাভানা কনডোমিনিয়ামে নয়টি ১৫ তলা ভবনে প্রায় ৭০০ ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব প্রকল্পের অনেক ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ও নামজারি আটকে আছে। ফ্ল্যাটের বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে।

রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজের ফ্ল্যাটের ক্রেতা মো. রওনক আলম খান সমকালকে বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে নিবন্ধন ও নামজারির জন্য সেনপাড়া ও ইব্রাহীমপুর অ্যাসিল্যান্ড কার্যালয়ে ঘুরছেন তিনি। কর্মকর্তারা বলছেন, সেনপাড়া মৌজার বিভক্ত অংশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো তারা পাননি।

রওনক আলম খান বলেন, ‘ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিলে কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।’

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটটি কিনেছেন রওনক। ফ্ল্যাটটি ব্যাংকে জামানত হিসেবে রাখতে নামজারির কাগজ প্রয়োজন। কিন্তু নামজারি বন্ধ থাকায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন।

রওনক জানান, প্রায় দুই মাস আগে রূপসী প্রকল্পের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি মিরপুর ভূমি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তখন তাদের জানানো হয়েছিল, এ বিষয়ে ইব্রাহীমপুর ভূমি কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

তবে দুই মাস পার হয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন, নামজারি ও বেচাকেনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।