ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন দিল একনেক হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু ৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর এইচএসসি: ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরলেন ট্রাম্প ২০ বছর পর বাগেরহাটে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের গায়েবানা জানাজা : সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ এনসিপি বড়দিন উপলক্ষে চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

৪৯ হাজার টাকা বেতনের কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

সাংবাদিক

একরামুল হক পেশায় উপসহকারী প্রকৌশলী। কর্মরত আছেন এলজিইডির কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে। সর্বমোট বেতন পান ৪৯ হাজার টাকা। এই বেতনেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন দশম গ্রেডের কর্মচারী একরামুল। নিজের স্ত্রীর নামেও কিনেছেন বিপুল সম্পত্তি। একাধিক ভবন, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংকে কোটি টাকা; সবই আছে তাদের।

বাংলা ৫২ নিউজ ডটকমের এর হাতে আসা তথ্যপ্রমাণে দেখা যাচ্ছে, একরামুল দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি।

এর মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩০ কোটি টাকার বেশি, নিজের নামেও রয়েছে অন্তত ২০ কোটির সম্পদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর ফাইল করেছেন যশোরে। আর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। ট্যাক্স ফাইলের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য সেখানে উল্লেখ করেননি একরামুল দম্পতি।

কীভাবে অর্জন করেছেন এত সম্পদ, এমন প্রশ্নের জবাবে একরামুল বলেন, এসবের মালিক তার ভাই। কিন্তু কী কারণে সেসব সম্পদ নিজের নামে রেখেছেন, সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি একরামুল।

অন্যদিকে স্ত্রী শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসায়ী। কিন্তু সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি নিতান্ত সাধারণ এক গৃহিণী। তিনি কীভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন তা জানা নেই দাবি করে একরামুল বলেন, বাসায় গিয়ে স্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইবেন।

একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তবে একরামুলের সম্পদের পরিমাণে বিরাট অসংগতি খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজায় ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের রয়েছে একরামুলের ৬৬ শতাংশ জমি। একই উপজেলায় নিজের নামে ১ দশমকি ১২৩ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাটও কিনেছেন তিনি। এই ফ্ল্যাট ও জমির বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে সদরে সম্পত্তি কিনেছেন দুটি। হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ২০১৮ খতিয়ানে ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ ও হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি। স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই দুটি জমির বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা।

একরামুলের ৫৫ শতাংশ জমির ওপর পান বরজ ও বাগান।
এ ছাড়া কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নিজের নামে আরও পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল। এর মধ্যে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজায় ১৯০নং খতিয়ানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পানের বরজ করেছেন। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ৫৮ দশমকি ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেটিতে করেছেন বাগান।

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে একরামুলের। এ ছাড়াও আছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি (প্রায় চার বিঘা) কিনে তামাক ক্ষেত বানিয়েছেন। একই মৌজা ও খতিয়ানে কিনেছেন প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ (প্রায় সাত বিঘা) জমি। একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে তিনি নিজ নামে ২৯৭ শতাংশ (প্রায় ৯ বিঘা) জমি কিনেছেন যার বাজারমূল্য ৪ কোটি টাকা।

স্থাবর-অস্থাবর এসব সম্পত্তি ছাড়াও ব্যাংকে রয়েছে একরামুলের প্রায় কোটি টাকা। অনুসন্ধানে খোঁজ মিলেছে তার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের তথ্য। শাম্মী আক্তারের নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে।

এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংকে আছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ২১ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকে রয়েছে ৪ লাখ টাকা।
এসব সম্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে তা আসলে আমার ভাইয়ের। আমার ভাই ভুলক্রমে আমার নামে অনলাইন ডকুমেন্ট করে রেখেছেন।
(প্রতিবেদন চলবে) – দ্বিতীয় পর্ব

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
৮৪৯ Time View

৪৯ হাজার টাকা বেতনের কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

আপডেটের সময় : ১০:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

একরামুল হক পেশায় উপসহকারী প্রকৌশলী। কর্মরত আছেন এলজিইডির কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে। সর্বমোট বেতন পান ৪৯ হাজার টাকা। এই বেতনেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন দশম গ্রেডের কর্মচারী একরামুল। নিজের স্ত্রীর নামেও কিনেছেন বিপুল সম্পত্তি। একাধিক ভবন, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংকে কোটি টাকা; সবই আছে তাদের।

বাংলা ৫২ নিউজ ডটকমের এর হাতে আসা তথ্যপ্রমাণে দেখা যাচ্ছে, একরামুল দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি।

এর মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩০ কোটি টাকার বেশি, নিজের নামেও রয়েছে অন্তত ২০ কোটির সম্পদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর ফাইল করেছেন যশোরে। আর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। ট্যাক্স ফাইলের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য সেখানে উল্লেখ করেননি একরামুল দম্পতি।

কীভাবে অর্জন করেছেন এত সম্পদ, এমন প্রশ্নের জবাবে একরামুল বলেন, এসবের মালিক তার ভাই। কিন্তু কী কারণে সেসব সম্পদ নিজের নামে রেখেছেন, সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি একরামুল।

অন্যদিকে স্ত্রী শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসায়ী। কিন্তু সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি নিতান্ত সাধারণ এক গৃহিণী। তিনি কীভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন তা জানা নেই দাবি করে একরামুল বলেন, বাসায় গিয়ে স্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইবেন।

একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তবে একরামুলের সম্পদের পরিমাণে বিরাট অসংগতি খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজায় ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের রয়েছে একরামুলের ৬৬ শতাংশ জমি। একই উপজেলায় নিজের নামে ১ দশমকি ১২৩ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাটও কিনেছেন তিনি। এই ফ্ল্যাট ও জমির বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে সদরে সম্পত্তি কিনেছেন দুটি। হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ২০১৮ খতিয়ানে ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ ও হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি। স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই দুটি জমির বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা।

একরামুলের ৫৫ শতাংশ জমির ওপর পান বরজ ও বাগান।
এ ছাড়া কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নিজের নামে আরও পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল। এর মধ্যে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজায় ১৯০নং খতিয়ানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পানের বরজ করেছেন। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ৫৮ দশমকি ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেটিতে করেছেন বাগান।

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে একরামুলের। এ ছাড়াও আছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি (প্রায় চার বিঘা) কিনে তামাক ক্ষেত বানিয়েছেন। একই মৌজা ও খতিয়ানে কিনেছেন প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ (প্রায় সাত বিঘা) জমি। একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে তিনি নিজ নামে ২৯৭ শতাংশ (প্রায় ৯ বিঘা) জমি কিনেছেন যার বাজারমূল্য ৪ কোটি টাকা।

স্থাবর-অস্থাবর এসব সম্পত্তি ছাড়াও ব্যাংকে রয়েছে একরামুলের প্রায় কোটি টাকা। অনুসন্ধানে খোঁজ মিলেছে তার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের তথ্য। শাম্মী আক্তারের নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে।

এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংকে আছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ২১ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকে রয়েছে ৪ লাখ টাকা।
এসব সম্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে তা আসলে আমার ভাইয়ের। আমার ভাই ভুলক্রমে আমার নামে অনলাইন ডকুমেন্ট করে রেখেছেন।
(প্রতিবেদন চলবে) – দ্বিতীয় পর্ব