ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ভিসা পাবেন বাংলাদেশিরা সচিবের নির্দেশনার পরও বহাল তবিয়তে, ঢাকায় গেড়ে বসেছেন গণপূর্তের ৬০ প্রকৌশলী সাভার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড বাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মো: সাইফুল ইসলাম কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়নে নতুন দিগন্ত ইস্তানবুল হোটেল এন্ড রিসোর্ট ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে জাতীয় সংসদ গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জে বন বিভাগের নামে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মকর্তা সাব্বিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় সমঝোতা হয়নি: জেডি ভ্যান্স ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও চুক্তি ছাড়াই দেশে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবিদ্বার সরকারি হসপিটালে ঘটে গেলো এক করুন ঘটনা

সচিবের নির্দেশনার পরও বহাল তবিয়তে, ঢাকায় গেড়ে বসেছেন গণপূর্তের ৬০ প্রকৌশলী

সাংবাদিক
ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত-অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেশনের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক উপ-সহকারী, সহকারী, উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলীকে ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অধিকাংশ কর্মকর্তা আগের মতোই স্বপদে বহাল রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ঢাকায় পোস্টিং ধরে রেখে এসব কর্মকর্তা বিভিন্ন সিন্ডিকেটে বিভক্ত হয়ে নিম্নমানের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছেন। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি এবং জনগণের করের টাকার অপচয় হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারি কাজের মানও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১-এ কর্মরত। প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকায় পোস্টিং ধরে রেখেছেন তিনি। ২০০৭ সালে নগর গণপূর্ত বিভাগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় আসেন। পাঁচ বছরের বেশি সময় সেখানে থাকার পর রক্ষণাবেক্ষণ গণপূর্ত বিভাগ গুলশান সেকশনে পদায়ন পান, পরে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সার্কেল-৪-এ যোগ দেন। বর্তমানে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এ কর্মরত আছেন। প্রায় দুই দশকে তাকে ঢাকার বাইরে যেতে হয়নি।

একই চিত্র দেখা যায় মো. ইউনুসের ক্ষেত্রেও। ২০১২ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় প্রথম পোস্টিং পান তিনি। তেজগাঁও ঢাকা ডিভিশন-৩-এ যোগ দেওয়ার পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার আর ঢাকার বাইরে যাওয়া হয়নি। সেখানে ৫–৬ বছর থাকার পর পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সার্কেল-১-এ কর্মরত আছেন।

রায়হান মিয়ার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। ২০১০ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় যোগ দিয়ে পরবর্তী সময়ে সহকারী প্রকৌশলী এবং পরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩, তেজগাঁওয়ে কর্মরত। দীর্ঘ সময়ে তাকেও ঢাকার বাইরে যেতে হয়নি।

এই বাস্তবতার মধ্যেই ‘গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত প্রকৌশলীদের ঢাকার বাইরে বদলি করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে’ ৬৮ জন উপ-বিভাগীয়, সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। গত বছরের ৩ নভেম্বর তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন।

চিঠির সঙ্গে একটি অভিযোগপত্র সংযুক্ত করা হয়। সেখানে তালিকাভুক্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা কয়েকটি সিন্ডিকেটে বিভক্ত হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি এবং জনগণের করের টাকার অপচয় হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারি কাজের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সচিব মো. নজরুল ইসলাম অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেন।

কিন্তু দেখা গেছে, পাঁচ মাস পেরোলেও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা খুবই সীমিত। অভিযুক্ত ৬৮ জনের মধ্যে ৯ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনকে ঢাকার বাইরে পদায়ন করা হয়েছে। পদোন্নতি কিংবা অন্যান্য কারণে ৫ জন ঢাকার ভেতরেই নতুন করে পোস্টিং পেয়েছেন। আরও দু’জনের বদলি আদেশ দেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগ তার মধ্যে অন্যতম।

তিনি বলেন, সচিব যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে বোঝা যায় তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল এবং সেই ভিত্তিতেই তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে দুর্নীতি, সিন্ডিকেশন ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ শুধু বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোই ছিল যথাযথ পদক্ষেপ।

এই তালিকায় থাকা সিভিলের ৭ জন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১-এর মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৪-এর মো. মতিউর রহমান মজুমদার (বদলির আদেশ স্থগিত), ঢাকা গণপূর্ত জরিপ উপ-বিভাগ-২-এর অসীম চন্দ্র স্বর্ণকার (বদলির আদেশ স্থগিত), আজিমপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২-এর মো. মিজানুর রহমান (বদলি করা হয়েছে), মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম খান (বদলি করা হয়েছে), তেজগাঁও গণপূর্ত উপ-বিভাগের মোহাম্মদ রায়হান মিয়া এবং গণপূর্ত রেলওয়ে ডাইভারশন উপ-বিভাগের মিহির কুমার রায় (বদলি করা হয়েছে)।

সিভিলের সহকারী প্রকৌশলীদের ২৫ জনের নাম রয়েছে এ তালিকায়। এর মধ্যে ৩ জন পদোন্নতি পেয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হয়েছেন। তারা হলেন সাভার গণপূর্ত সার্কেলের আখতার বুলবুল আহম্মেদ, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের শেখ মোহাম্মদ এনামুল হক এবং ঢাকা গণপূর্ত জোনের মো. ইউনুস আলী মোল্লা।

এ ছাড়া জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ (পিপিসি) গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল মোর্শেদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

অন্য ২১ সহকারী প্রকৌশলী এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। তারা হলেন: ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর মুহাম্মদ দোলোয়ার হোসেন, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর আলী আকবর মিয়া, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর মুহাম্মদ রুহুল আমিন, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলের খান শাহীন হোসেন, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মো. আনিছুর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর আব্দুল করিম শেখ, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর মো. ইয়াকুব মিয়া, গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল-২-এর মো. ইউনুস ভূঞা, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর মো. আবু সুফিয়ান, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মো. ইউনুস।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন গণপূর্ত জরিপ বিভাগের এ এইচ এম আহাছান-উল-হক কোরেশী, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলের মো. সামিউর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনের সেলিম হোসেন, ঢাকা গণপূর্ত জোনের মো. শাহ আলম, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মো. আ. রউফ সরকার, ঢাকা গণপূর্ত জোনের মোহাম্মদ রহমত উল্যা, সাভার গণপূর্ত সার্কেলের মো. রবিউল ইসলাম এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর মো. গফ্ফার হোসেন।

অভিযোগ থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের তালিকায় রয়েছেন মোট ৩৬ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের বদলি আদেশ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে এবং ৩ জন পুনরায় ঢাকাতেই পোস্টিং পেয়েছেন।

ঢাকার বাইরে পোস্টিং পাওয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের মধ্যে নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগের প্রাক্কলন শাখায় গেছেন মোহাম্মদ মাসুদুল হাসান, ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগে মুহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে বদলি হয়েছেন মো. আল আমিন।

অন্যদিকে, বদলি হয়ে আবার ঢাকাতেই পোস্টিং পেয়েছেন গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-৪-এর দেওয়ান শামছুন নাহার, গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেলের তুষার আলম এবং মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের মো. মমিনুল ইসলাম।

এর বাইরে ৩০ জন এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। তারা হলেন গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আসিফ হাসান রেজা, গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-১-এর মো. মোবারক হোসেন, গণপূর্ত জরিপ বিভাগের মোহাম্মদ বাবুল হোসেন, পেকু গণপূর্ত সার্কেলের মো. সাজ্জাদ কবির, গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৬-এর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মোহাম্মদ ছাইদুর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, একই বিভাগের দিলরুবা চৌধুরী ও মো. মাসুদুল হাসান, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর মো. মাসুদুর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর মুজাহিদুল ইসলাম, মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আব্দুল হালিম হাওলাদার ও মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর সামসুন্নাহার, একই বিভাগের মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও মোসা. সালমা জাহান শেলী।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর মো. মাহামুদুল হাসান ও জিহাদুল ইসলাম, মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের মো. জুলফিকার আরেফিন মুরাদ, মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগের শাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মো. নুরুল কবির, একই বিভাগের মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন খান ও আনন্দ চন্দ্র, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের মো. তুষার আলম, একই বিভাগের মো. মমিনুল ইসলাম ও মো. ইমাম হোসেন, গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের মো. আব্দুল মোত্তালিব, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের মো. শিহাবুল ইসলাম এবং একই বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

‘গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত প্রকৌশলীদের ঢাকার বাহিরে বদলি করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে’  ৬৮ জন উপ-বিভাগীয়, সহকারী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীরকে ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশানা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী গৃহীত পদক্ষেপ জানান।

৫ মাস পেরোলেও বাকিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা স্টেপবাই স্টেপ করছি। মন্ত্রীর (জাকারিয়া তাহের) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে করনীয় ঠিক করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিভাগীয় পদক্ষেপ হিসেবে বদলি করা যৌক্তিক হলেও তা মোটেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তর ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’। অভিযোগ শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আরও অনেকের যোগসাজশ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও অনেককে ঢাকাতেই পদায়ন করা হয়েছে, এমনকি কেউ কেউ পদোন্নতিও পেয়েছেন। এতে করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের কেউ কেউ পুরস্কৃত হচ্ছেন—কেন এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলার অর্থ হলো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবের সুযোগ রাখা। এ ধরনের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। তাঁর মতে, সরাসরি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

সূত্রঃ চ্যানেল আই

 

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৮:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৫০৭ Time View

সচিবের নির্দেশনার পরও বহাল তবিয়তে, ঢাকায় গেড়ে বসেছেন গণপূর্তের ৬০ প্রকৌশলী

আপডেটের সময় : ০৮:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত-অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেশনের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক উপ-সহকারী, সহকারী, উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলীকে ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অধিকাংশ কর্মকর্তা আগের মতোই স্বপদে বহাল রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ঢাকায় পোস্টিং ধরে রেখে এসব কর্মকর্তা বিভিন্ন সিন্ডিকেটে বিভক্ত হয়ে নিম্নমানের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছেন। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি এবং জনগণের করের টাকার অপচয় হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারি কাজের মানও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১-এ কর্মরত। প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকায় পোস্টিং ধরে রেখেছেন তিনি। ২০০৭ সালে নগর গণপূর্ত বিভাগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় আসেন। পাঁচ বছরের বেশি সময় সেখানে থাকার পর রক্ষণাবেক্ষণ গণপূর্ত বিভাগ গুলশান সেকশনে পদায়ন পান, পরে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সার্কেল-৪-এ যোগ দেন। বর্তমানে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এ কর্মরত আছেন। প্রায় দুই দশকে তাকে ঢাকার বাইরে যেতে হয়নি।

একই চিত্র দেখা যায় মো. ইউনুসের ক্ষেত্রেও। ২০১২ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় প্রথম পোস্টিং পান তিনি। তেজগাঁও ঢাকা ডিভিশন-৩-এ যোগ দেওয়ার পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার আর ঢাকার বাইরে যাওয়া হয়নি। সেখানে ৫–৬ বছর থাকার পর পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সার্কেল-১-এ কর্মরত আছেন।

রায়হান মিয়ার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। ২০১০ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় যোগ দিয়ে পরবর্তী সময়ে সহকারী প্রকৌশলী এবং পরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩, তেজগাঁওয়ে কর্মরত। দীর্ঘ সময়ে তাকেও ঢাকার বাইরে যেতে হয়নি।

এই বাস্তবতার মধ্যেই ‘গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত প্রকৌশলীদের ঢাকার বাইরে বদলি করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে’ ৬৮ জন উপ-বিভাগীয়, সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। গত বছরের ৩ নভেম্বর তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন।

চিঠির সঙ্গে একটি অভিযোগপত্র সংযুক্ত করা হয়। সেখানে তালিকাভুক্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা কয়েকটি সিন্ডিকেটে বিভক্ত হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি এবং জনগণের করের টাকার অপচয় হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারি কাজের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সচিব মো. নজরুল ইসলাম অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেন।

কিন্তু দেখা গেছে, পাঁচ মাস পেরোলেও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা খুবই সীমিত। অভিযুক্ত ৬৮ জনের মধ্যে ৯ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনকে ঢাকার বাইরে পদায়ন করা হয়েছে। পদোন্নতি কিংবা অন্যান্য কারণে ৫ জন ঢাকার ভেতরেই নতুন করে পোস্টিং পেয়েছেন। আরও দু’জনের বদলি আদেশ দেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগ তার মধ্যে অন্যতম।

তিনি বলেন, সচিব যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে বোঝা যায় তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল এবং সেই ভিত্তিতেই তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে দুর্নীতি, সিন্ডিকেশন ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ শুধু বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোই ছিল যথাযথ পদক্ষেপ।

এই তালিকায় থাকা সিভিলের ৭ জন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১-এর মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৪-এর মো. মতিউর রহমান মজুমদার (বদলির আদেশ স্থগিত), ঢাকা গণপূর্ত জরিপ উপ-বিভাগ-২-এর অসীম চন্দ্র স্বর্ণকার (বদলির আদেশ স্থগিত), আজিমপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২-এর মো. মিজানুর রহমান (বদলি করা হয়েছে), মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম খান (বদলি করা হয়েছে), তেজগাঁও গণপূর্ত উপ-বিভাগের মোহাম্মদ রায়হান মিয়া এবং গণপূর্ত রেলওয়ে ডাইভারশন উপ-বিভাগের মিহির কুমার রায় (বদলি করা হয়েছে)।

সিভিলের সহকারী প্রকৌশলীদের ২৫ জনের নাম রয়েছে এ তালিকায়। এর মধ্যে ৩ জন পদোন্নতি পেয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হয়েছেন। তারা হলেন সাভার গণপূর্ত সার্কেলের আখতার বুলবুল আহম্মেদ, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের শেখ মোহাম্মদ এনামুল হক এবং ঢাকা গণপূর্ত জোনের মো. ইউনুস আলী মোল্লা।

এ ছাড়া জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ (পিপিসি) গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল মোর্শেদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

অন্য ২১ সহকারী প্রকৌশলী এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। তারা হলেন: ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর মুহাম্মদ দোলোয়ার হোসেন, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর আলী আকবর মিয়া, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর মুহাম্মদ রুহুল আমিন, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলের খান শাহীন হোসেন, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মো. আনিছুর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর আব্দুল করিম শেখ, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর মো. ইয়াকুব মিয়া, গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল-২-এর মো. ইউনুস ভূঞা, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর মো. আবু সুফিয়ান, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মো. ইউনুস।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন গণপূর্ত জরিপ বিভাগের এ এইচ এম আহাছান-উল-হক কোরেশী, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলের মো. সামিউর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনের সেলিম হোসেন, ঢাকা গণপূর্ত জোনের মো. শাহ আলম, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মো. আ. রউফ সরকার, ঢাকা গণপূর্ত জোনের মোহাম্মদ রহমত উল্যা, সাভার গণপূর্ত সার্কেলের মো. রবিউল ইসলাম এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর মো. গফ্ফার হোসেন।

অভিযোগ থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের তালিকায় রয়েছেন মোট ৩৬ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের বদলি আদেশ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে এবং ৩ জন পুনরায় ঢাকাতেই পোস্টিং পেয়েছেন।

ঢাকার বাইরে পোস্টিং পাওয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের মধ্যে নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগের প্রাক্কলন শাখায় গেছেন মোহাম্মদ মাসুদুল হাসান, ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগে মুহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে বদলি হয়েছেন মো. আল আমিন।

অন্যদিকে, বদলি হয়ে আবার ঢাকাতেই পোস্টিং পেয়েছেন গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-৪-এর দেওয়ান শামছুন নাহার, গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেলের তুষার আলম এবং মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের মো. মমিনুল ইসলাম।

এর বাইরে ৩০ জন এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। তারা হলেন গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আসিফ হাসান রেজা, গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-১-এর মো. মোবারক হোসেন, গণপূর্ত জরিপ বিভাগের মোহাম্মদ বাবুল হোসেন, পেকু গণপূর্ত সার্কেলের মো. সাজ্জাদ কবির, গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৬-এর মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর মোহাম্মদ ছাইদুর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, একই বিভাগের দিলরুবা চৌধুরী ও মো. মাসুদুল হাসান, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর মো. মাসুদুর রহমান, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর মুজাহিদুল ইসলাম, মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আব্দুল হালিম হাওলাদার ও মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর সামসুন্নাহার, একই বিভাগের মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও মোসা. সালমা জাহান শেলী।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর মো. মাহামুদুল হাসান ও জিহাদুল ইসলাম, মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের মো. জুলফিকার আরেফিন মুরাদ, মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগের শাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মো. নুরুল কবির, একই বিভাগের মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন খান ও আনন্দ চন্দ্র, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের মো. তুষার আলম, একই বিভাগের মো. মমিনুল ইসলাম ও মো. ইমাম হোসেন, গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের মো. আব্দুল মোত্তালিব, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের মো. শিহাবুল ইসলাম এবং একই বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

‘গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত প্রকৌশলীদের ঢাকার বাহিরে বদলি করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে’  ৬৮ জন উপ-বিভাগীয়, সহকারী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীরকে ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশানা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী গৃহীত পদক্ষেপ জানান।

৫ মাস পেরোলেও বাকিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা স্টেপবাই স্টেপ করছি। মন্ত্রীর (জাকারিয়া তাহের) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে করনীয় ঠিক করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিভাগীয় পদক্ষেপ হিসেবে বদলি করা যৌক্তিক হলেও তা মোটেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তর ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’। অভিযোগ শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আরও অনেকের যোগসাজশ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও অনেককে ঢাকাতেই পদায়ন করা হয়েছে, এমনকি কেউ কেউ পদোন্নতিও পেয়েছেন। এতে করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের কেউ কেউ পুরস্কৃত হচ্ছেন—কেন এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলার অর্থ হলো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবের সুযোগ রাখা। এ ধরনের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। তাঁর মতে, সরাসরি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

সূত্রঃ চ্যানেল আই