ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘লার্ন অ্যান্ড গ্রো’-এর রোবটিক্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত সফলভাবে সম্পন্ন হলো “Study & Career Opportunities in Japan” শীর্ষক সেমিনার সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বিআইএমএএসসি ও প্যান সলিউশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস থামল বাংলাদেশের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

ভয়াল ২৫ মার্চ আজ

সাংবাদিক

আজ ২৫ মার্চ, ভয়াল কালরাত্রি। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে এক বিভীষিকাময় রাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালায় ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা। এ দিনটিকে বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এ হামলার শিকার হন। গবেষকদের মতে, বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমন করতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গণহত্যার এ অভিযান ছিল সুপরিকল্পিত। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত স্মৃতিচারণ ও দলিলে এ অভিযানের নানা দিক উঠে আসে। বিদেশি সাংবাদিক ও গবেষকেরা ওই রাতের ভয়াবহতার বর্ণনায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছেন। তবে এ গণহত্যায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি করা যায়নি।

ওই রাতেই চট্টগ্রামে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সোমবার (২৩ মার্চ) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ পালন করা হবে। কেপিআই, জরুরি স্থাপনা ও বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

কিন্তু মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, ২৫ তারিখ রাতে ১ মিনিটের ব্ল্যাক-আউট হবে না। কেন পালন করা হবে না-এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এ ছাড়া সারা দেশে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার মধ্য দিয়েই বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল। সেই ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও সংগঠকেরা।

 

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
৫৮৩ Time View

ভয়াল ২৫ মার্চ আজ

আপডেটের সময় : ০৪:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

আজ ২৫ মার্চ, ভয়াল কালরাত্রি। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে এক বিভীষিকাময় রাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালায় ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা। এ দিনটিকে বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এ হামলার শিকার হন। গবেষকদের মতে, বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমন করতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গণহত্যার এ অভিযান ছিল সুপরিকল্পিত। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত স্মৃতিচারণ ও দলিলে এ অভিযানের নানা দিক উঠে আসে। বিদেশি সাংবাদিক ও গবেষকেরা ওই রাতের ভয়াবহতার বর্ণনায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছেন। তবে এ গণহত্যায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি করা যায়নি।

ওই রাতেই চট্টগ্রামে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সোমবার (২৩ মার্চ) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ পালন করা হবে। কেপিআই, জরুরি স্থাপনা ও বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

কিন্তু মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, ২৫ তারিখ রাতে ১ মিনিটের ব্ল্যাক-আউট হবে না। কেন পালন করা হবে না-এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এ ছাড়া সারা দেশে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার মধ্য দিয়েই বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল। সেই ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও সংগঠকেরা।