ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ১১

সাংবাদিক

দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার দখলদার বাহিনীর মুহুর্মুহু বিমান ও ড্রোন হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার এক শহরে একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

এদিকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই একই জেলার ‘দেইর আল-জাহরানি’ শহরের এক আবাসিক এলাকায় রাতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, ভবনটি হিজবুল্লাহর এক স্থাপনার কাছে অবস্থিত ছিল এবং সেখান থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হতো। এর আগের দিন নাবাতিয়েহ জেলার কাছেই ‘আরব সালিম’ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এক রূপরেখা চুক্তি হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থামেনি। ওই চুক্তির আওতায় একটি ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবানন সেনাবাহিনীর হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এ অঞ্চলে পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম দখল করে রেখেছে। আর তারা সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের কফর রেমান শহর থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর বলেন, অঞ্চলজুড়ে এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত জুনে চুক্তি হওয়ার পর হামলা থামবে—এমন আশায় বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ এলাকায় ফিরে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে শুরু করেছিলেন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৫ Time View

লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ১১

আপডেটের সময় : ০৬:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার দখলদার বাহিনীর মুহুর্মুহু বিমান ও ড্রোন হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার এক শহরে একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

এদিকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই একই জেলার ‘দেইর আল-জাহরানি’ শহরের এক আবাসিক এলাকায় রাতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, ভবনটি হিজবুল্লাহর এক স্থাপনার কাছে অবস্থিত ছিল এবং সেখান থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হতো। এর আগের দিন নাবাতিয়েহ জেলার কাছেই ‘আরব সালিম’ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এক রূপরেখা চুক্তি হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থামেনি। ওই চুক্তির আওতায় একটি ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবানন সেনাবাহিনীর হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এ অঞ্চলে পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম দখল করে রেখেছে। আর তারা সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের কফর রেমান শহর থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর বলেন, অঞ্চলজুড়ে এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত জুনে চুক্তি হওয়ার পর হামলা থামবে—এমন আশায় বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ এলাকায় ফিরে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে শুরু করেছিলেন।