ব্যয়ে এগিয়ে জামায়াত, দ্বিতীয় স্থানে বিএনপি ‘শূন্য’ দেখিয়েছে ২৭ দল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মোট ব্যয় ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। ব্যয়ের হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। যার ব্যয়ের পরিমাণ ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ টাকা। আর নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৭টি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ব্যয় ‘শূন্য’ দেখিয়েছে। অর্থাৎ প্রার্থী দেওয়া ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরও দলীয়ভাবে তাদের কোনো নির্বাচনী ব্যয় ছিল না- এমনটাই দাবি দলগুলোর।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নকারী রাজনৈতিক দলের ব্যয় বিবরণী’ বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য মিলেছে। ওয়েবসাইটে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫০টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ধাপে ধাপে আপলোড করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫০টি অংশ নিয়েছিল।
শূন্য ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি তাঁরা। আবার দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীকেও কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচনে দল হিসেবে কোনো ব্যয় হয়নি। এই কারণেই নির্বাচনী ব্যয় শূন্য দেখিয়েছেন তাঁরা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ব্যয়ের বিবরণী নিরীক্ষার জন্য ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১৩ মে।
তবে ওই সময়ের মধ্যে ২২টি দল হিসাব জমা না দেওয়ায় এবং কয়েকটি দলের সময় চেয়ে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একমাস সময় বাড়িয়ে ১৩ জুনের মধ্যে হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ সাতটি দল হিসাব জমা না দেওয়ায় ২৫ জুন তাদের শোকজ নোটিশ পাঠায় ইসি। যেখানে দলগুলোকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে অবিলম্বে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য দলগুলো ব্যয় বিবরণী জমা দেয়। এরপর তিন ধাপে সব দলের নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
কোন দলের কত ব্যয়
দদইসিতে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণী অনুযায়ী- জামায়াতে ইসলামী ২২৪ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। আর ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়ে বিএনপি ব্যয় করেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ টাকা।
জাতীয় পার্টি-জেপি ১০ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১৮ হাজার ৮৭৫ টাকা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ৬৫ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ টাকা। গণতন্ত্রী পার্টি একজন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ টাকা। জাতীয় পার্টি ১৯২ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ২৬ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ৩৯ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ৫ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ২০ লাখ ৬ হাজার ৮৬৭ টাকা ৭২ পয়সা।
অন্যদিকে, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭১ টাকা। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১ লাখ টাকা। খেলাফত মজলিস ৩৪ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল ৬ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ১৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ টাকা। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- বাংলাদেশ জাসদ ১১ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ টাকা। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭১০ টাকা। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ৯০ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি ৩২ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ২৯ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। আমজনতার দল ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৪২ হাজার ৫২০ টাকা।
এছাড়া বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২৮ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা।
শূন্য ব্যয় দেখানো ২৭ দল
নির্বাচনী ব্যয় বিরণীতে ‘শূন্য’ ব্যয় দেখানো ২৭টি দলের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ১২ জন; জাকের পার্টি ৭ জন; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৮ জন; বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১২ জন; ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি) ২৩ জন; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৪ জন; গণফোরাম ১৯ জন; গণফ্রন্ট ৫ জন; বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ একজন; বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৩ জন; বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১২ জন; ইসলামী ঐক্যজোট ১২ জন; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা একজন; বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৭ জন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ ৮ জন প্রার্থী দিয়েছিল।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ৮ জন; বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮ জন; ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ জন; বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি ১৯ জন; নাগরিক ঐক্য ১১ জন; গণসংহতি আন্দোলন ১৭ জন; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) ৮ জন; বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৫ জন; বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ১২ জন; জনতার দল ১৯ জন এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) একজন প্রার্থী দিয়েছিল।
ব্যয় শূন্য দেখানোর বিষয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা নির্বাচনে দল হিসেবে কোনো ব্যয় করিনি। কারণ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি, দলীয়ভাবেও কাউকে কোনো টাকা দেইনি। তাই ব্যয় শূন্য দেখিয়েছি।
জনতার দলের মহাসচিব আজম খান বলেন, নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের জন্য আমরা প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি এবং দলীয়ভাবেও কোনো টাকা দেইনি। এ কারণে নির্বাচনে আমাদের দলের ব্যয় শূন্য দেখানো হয়েছে।



























কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের বাস খাদে, আহত ২০