ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশিয়ানীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে ইচ্ছামতো ডিউটি! সংবাদ সংগ্ৰহকালে মবের চেষ্টা

সাংবাদিক

 কাশিয়ানী প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের (CHCP) পদে দায়িত্বরত হিরা ইচ্ছামতো ডিউটি করেন। সংবাদ সংগ্ৰহকালে সাংবাদিকদের উপর মবের চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত (CHCP) কর্মকর্তা হিরা প্রতিদিন তার ক্লিনিকে হাজির হলেও নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না বা আসলেও সঠিক সময়মতো ক্লিনিকে থাকে না।

যার কারণে পারুলিয়া ইউনিয়নের সেবা প্রত্যাশীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে।যার কারণে পারুলিয়া ইউনিয়ন থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বা সেবামূলক পরামর্শ নিতে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বারস্থ হতে হয়।এতে সকল সেবা প্রত্যাশীদেরকে একধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় মতো অফিসে উপস্থিত না থাকাসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের হিরার বিরুদ্ধে রয়েছে টাকার বিনিময়ে ঔষধ দেওয়ার অভিযোগ।প্রতি রোগী বা সেবা প্রত্যাশীদেরকে ঔষধ নিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয় পাঁচ থেকে দশ টাকা যা নিয়ম বহির্ভূত।

তবে, কমিউনিটি ক্লিনিকে (CHCP) দায়িত্বরত হিরার এসব বিষয়ে এলাকাবাসী বা কোন সেবা প্রত্যাশী কথা বললেই তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আর সেসব ঝামেলা এড়াতেই এলাকাবাসী এ অনিয়মের নীরব দর্শক। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন হিরা পরিবারের এলাকায় রাজনৈতিক বা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা চুপ করে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কেন এসব অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময় পেলেও কেন কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেনি?সংবাদ সংগ্ৰহকালে দেখা যায়,পারুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে ৯ই সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১১:১৬ মিনিটে দেখা যায় ছয় থেকে সাত জনের একটা জটলা যারা সেবা প্রত্যাশী যারা সঠিক সময় মতো ক্লিনিকে (CHCP) পদে দায়িত্বরত হিরা না আসায় বিরক্তিকর অবস্থায় দুর্ভোগের কথা আলোচনা করছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবা প্রত্যাশী মহিলা বলেন,হিরা আপা কখনো নয়টায় অফিসে আসে না,সে প্রতিদিন আসলেও সময় ঠিকঠাক থাকে না।

আমরা ঔষধ নিতে এসেছিলাম তবে সে নেই, এখন বাসায় ফিরে যাবো।হিরা আপা বেশিরভাগ সময়ই দশটা থেকে সাড়ে দশটার পর আসে,আবার কিছু সময় বারোটায় আসে একটায় চলে যায়।আমরা চাই ক্লিনিক সময় মতো চলুক।হিরা আপা ঔষধ দিয়ে পাঁচ দশ টাকা নেয়,টাকা না দিলে ঔষধ দেয় না। এসব অভিযোগের বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বরত হিরাকে ক্লিনিকে না পেয়ে মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে। বুধবার সাড়ে এগারোটায় তিনি তড়িঘড়ি করে অফিসের তালা খুলে খাতায় স্বাক্ষর করেন।তার বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের সকল অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি আমার মেয়েকে স্কুলে দিতে গিয়েছিলাম।তারা আমার শত্রু তাই সব মিথ্যা বলেছে। আমার বাসায় কেউ না থাকায় প্রতিদিন এসব সমস্যা হয়।আর ঔষধ দিয়ে টাকা নিয়ে আমি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি।কারণ আমরা ঠিকমতো বেতন পাইনা।

আর এসব নিয়ে নিউজ করবেন না। এসব বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলার সাজাইল বাজারে পৌঁছালে কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত হিরার আত্মীয় এনামুল,তাহিমসহ আজ্ঞাত কিছু ব্যক্তিরা দৈনিক মানবাধিকার পত্রিকার কাশিয়ানী প্রতিনিধি পংকজ দে, দৈনিক মুখপাত্র পত্রিকার প্রতিনিধি শেখ শোভন আহমেদ ও তাদের সহযোগী আল ফাহাদকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করে। ক্লিনিকে দায়িত্বরত হিরার আত্মীয় হিরার আত্মীয় এনামুল ও তাহিম আশপাশের মানুষ ডেকে জটলা তৈরি করে সংবাদ কর্মীদেরকে বিভিন্ন গালিগালাজ করে এবং নিউজ করলে খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি ধামকি দেয়‌।মবকারী এনামুল সাংবাদিকদের আইডি কার্ড দেখে বলে, শুধু আইডি কার্ড আর নিউজ করলেই কেউ সাংবাদিক হয়না, সাংবাদিক সংগঠনে বা প্রেসক্লাবে না থাকলে কেউ সাংবাদিক হয় না।যারা সংগঠনে নেই তারা অবশ্যই ভুয়া সাংবাদিক।

পারুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে (CHCP) পদে দায়িত্বরত হিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কি এভাবেই অনিয়মের সাথে ডিউটি করে যাবে? আর তার দুর্ভোগের শিকার হবে সর্বসাধারণ?আর এসব নিয়ে কথা বললেই কি খারাপ পরিণতি হবে সবার? এসব প্রশ্নই এখন পারুলিয়া ইউনিয়ন বাসীর মাঝে।তবে সচেতন মহল এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধান ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ক্লিনিকে দায়িত্বরত হিরার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:০০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৪ Time View

কাশিয়ানীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে ইচ্ছামতো ডিউটি! সংবাদ সংগ্ৰহকালে মবের চেষ্টা

আপডেটের সময় : ০৪:০০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 কাশিয়ানী প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কমিউনিটি ক্লিনিকের (CHCP) পদে দায়িত্বরত হিরা ইচ্ছামতো ডিউটি করেন। সংবাদ সংগ্ৰহকালে সাংবাদিকদের উপর মবের চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত (CHCP) কর্মকর্তা হিরা প্রতিদিন তার ক্লিনিকে হাজির হলেও নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না বা আসলেও সঠিক সময়মতো ক্লিনিকে থাকে না।

যার কারণে পারুলিয়া ইউনিয়নের সেবা প্রত্যাশীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে।যার কারণে পারুলিয়া ইউনিয়ন থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বা সেবামূলক পরামর্শ নিতে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বারস্থ হতে হয়।এতে সকল সেবা প্রত্যাশীদেরকে একধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় মতো অফিসে উপস্থিত না থাকাসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের হিরার বিরুদ্ধে রয়েছে টাকার বিনিময়ে ঔষধ দেওয়ার অভিযোগ।প্রতি রোগী বা সেবা প্রত্যাশীদেরকে ঔষধ নিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয় পাঁচ থেকে দশ টাকা যা নিয়ম বহির্ভূত।

তবে, কমিউনিটি ক্লিনিকে (CHCP) দায়িত্বরত হিরার এসব বিষয়ে এলাকাবাসী বা কোন সেবা প্রত্যাশী কথা বললেই তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আর সেসব ঝামেলা এড়াতেই এলাকাবাসী এ অনিয়মের নীরব দর্শক। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন হিরা পরিবারের এলাকায় রাজনৈতিক বা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা চুপ করে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কেন এসব অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময় পেলেও কেন কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেনি?সংবাদ সংগ্ৰহকালে দেখা যায়,পারুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে ৯ই সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১১:১৬ মিনিটে দেখা যায় ছয় থেকে সাত জনের একটা জটলা যারা সেবা প্রত্যাশী যারা সঠিক সময় মতো ক্লিনিকে (CHCP) পদে দায়িত্বরত হিরা না আসায় বিরক্তিকর অবস্থায় দুর্ভোগের কথা আলোচনা করছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবা প্রত্যাশী মহিলা বলেন,হিরা আপা কখনো নয়টায় অফিসে আসে না,সে প্রতিদিন আসলেও সময় ঠিকঠাক থাকে না।

আমরা ঔষধ নিতে এসেছিলাম তবে সে নেই, এখন বাসায় ফিরে যাবো।হিরা আপা বেশিরভাগ সময়ই দশটা থেকে সাড়ে দশটার পর আসে,আবার কিছু সময় বারোটায় আসে একটায় চলে যায়।আমরা চাই ক্লিনিক সময় মতো চলুক।হিরা আপা ঔষধ দিয়ে পাঁচ দশ টাকা নেয়,টাকা না দিলে ঔষধ দেয় না। এসব অভিযোগের বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বরত হিরাকে ক্লিনিকে না পেয়ে মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে। বুধবার সাড়ে এগারোটায় তিনি তড়িঘড়ি করে অফিসের তালা খুলে খাতায় স্বাক্ষর করেন।তার বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের সকল অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি আমার মেয়েকে স্কুলে দিতে গিয়েছিলাম।তারা আমার শত্রু তাই সব মিথ্যা বলেছে। আমার বাসায় কেউ না থাকায় প্রতিদিন এসব সমস্যা হয়।আর ঔষধ দিয়ে টাকা নিয়ে আমি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি।কারণ আমরা ঠিকমতো বেতন পাইনা।

আর এসব নিয়ে নিউজ করবেন না। এসব বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলার সাজাইল বাজারে পৌঁছালে কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত হিরার আত্মীয় এনামুল,তাহিমসহ আজ্ঞাত কিছু ব্যক্তিরা দৈনিক মানবাধিকার পত্রিকার কাশিয়ানী প্রতিনিধি পংকজ দে, দৈনিক মুখপাত্র পত্রিকার প্রতিনিধি শেখ শোভন আহমেদ ও তাদের সহযোগী আল ফাহাদকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করে। ক্লিনিকে দায়িত্বরত হিরার আত্মীয় হিরার আত্মীয় এনামুল ও তাহিম আশপাশের মানুষ ডেকে জটলা তৈরি করে সংবাদ কর্মীদেরকে বিভিন্ন গালিগালাজ করে এবং নিউজ করলে খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি ধামকি দেয়‌।মবকারী এনামুল সাংবাদিকদের আইডি কার্ড দেখে বলে, শুধু আইডি কার্ড আর নিউজ করলেই কেউ সাংবাদিক হয়না, সাংবাদিক সংগঠনে বা প্রেসক্লাবে না থাকলে কেউ সাংবাদিক হয় না।যারা সংগঠনে নেই তারা অবশ্যই ভুয়া সাংবাদিক।

পারুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে (CHCP) পদে দায়িত্বরত হিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কি এভাবেই অনিয়মের সাথে ডিউটি করে যাবে? আর তার দুর্ভোগের শিকার হবে সর্বসাধারণ?আর এসব নিয়ে কথা বললেই কি খারাপ পরিণতি হবে সবার? এসব প্রশ্নই এখন পারুলিয়া ইউনিয়ন বাসীর মাঝে।তবে সচেতন মহল এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধান ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ক্লিনিকে দায়িত্বরত হিরার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।