কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় সংসদ সদস্যের ছেলে-ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে ও ভাইয়ের বাক-বিতণ্ডার ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের ওপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক বাদি হয়ে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে কুমারখালী থানায় ১১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০-২৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন।
হামলার শিকার হওয়া মাহবুবুল আহসান উল্লাস (৪৪) বাংলা টিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় তিনি হামলার শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ জানায়, কুমারখালী পৌর এলাকায় এলাকার কুন্ডুপাড়ায় সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে এমন অভিযোগ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত আবেদন দিয়েছিলেন স্থানীয়রা।
এ অভিযোগের তদন্তে শনিবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন এবং ছেলে শোভন হোসেন।
অভিযোগ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে তারা ইউএনও ফারজানা আখতারের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এসময় সংবাদ সংগ্রহে ভিডিও ধারণ করায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায় সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের উপর। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখমসহ রড লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে ভিডিও ক্যামেরাটি ছিনিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান হামলায় নেতৃত্ব দেন, সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার ও তার দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী রুহুল। পরে সংবাদ পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ আহত উল্লাসকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, পৌর সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় নিজেই ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি সেখানে সাংবাদিক উল্লাসের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংসদ সদস্যের ভাই আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায় এবং ছেলে শোভন হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের মোবাইলে কল দিলে তার স্ত্রী সাজেদা খাতুন রিসিভ করেন।
তিনি বলেন, দেখুন এটা একদিনের ঘটনা না। অনেক দিন ধরেই ওই রাস্তা নির্মাণের সাইটে এসে সাংবাদিক উল্লাস এমপির মা-বাবা তুলে গালাগাল করেন। কাজ বন্ধ করে দেন। এভাবে যদি একের পর এক গালিগালাজ করে কাজ বন্ধ করে রাখে তাহলে তো জনগণেরই সমস্যা। সেকারণেই আজকে সেখানে গ্যাঞ্জামটা বাধে।
এ বিষয়ে ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, হামলার সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মামলার এজহার নামীয় তিন নং আসামি মারুফ হোসেন (৩৫) এবং আমিরুল ইসলাম (৫৫)। মারুফ খয়েরতারা গ্রামের মাঠপাড়ার হুজুর আলীর ছেলে এবং আমিরুল এলঙ্গি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের উপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ হামলার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন। সেখানে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক শামিমুল ইসলাম অপুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।






















কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসে পুলিশের অভিযান; ২০ হাজার ইয়াবাসহ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার